Printed on Thu May 19 2022 2:39:24 AM

'অপারেশন সার্চ লাইট' রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
অপারেশন সার্চ লাইট
অপারেশন সার্চ লাইট
১৯৭১ সালেও বাংলাদেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান।তখন পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান যখন তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় সেই মুহূর্তে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের ওপর বর্বর অত্যাচার শুরু করে। পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের লোকেদের ভাষা ধর্ম সংস্কৃতি পড়াশোনা সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতো এবং তাদেরকে স্বাধীনভাবে কোন কিছু করতে দেওয়া হতো না।

পাকিস্তান দমন নিপীড়নে তিক্ত বাঙালি দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে  একটি ঘোষণার প্রতিক্ষায়ই ছিল। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ ভয়াল কালোরাতে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ নৃশংস হামলার মাধ্যমে তারা মূলত বাঙালিদের চির নিধনযজ্ঞের অপচেষ্টা করে। এমন কঠিন পরিস্থিতে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর বসে থাকতে পারেননি। তখন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে সে রাতে তারা গুলিবর্ষণ করতে করতে প্রবেশ করে। সেই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু বীরের মত দোতলার ঝুল বারান্দায় এসে দাড়ান। তখন বঙ্গবন্ধুর পাশে কেউ নেই। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চলে যায় আত্মগোপনে। জনগণ তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে পাকিস্তান বাহিনীর এত বড় স্পর্ধা দেখে বঙ্গবন্ধু স্তব্ধ হয়ে যাননি। বরং সেই কঠিন মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু পুরো জাতির কথা চিন্তা করে দুর্বার সাহসের সাথে একটি চিঠিতে স্বাধীনতার ঘোষণা লিখিতভাবে দিয়ে যান। যা একটি নিপীড়িত স্বাধীনতাকামী জাতিকে নতুন করে শক্তি ও সাহসের প্রেরণা জোগায়। তারপর সেই রাতেই বঙ্গবন্ধুসহ তার পাঁচ বিশ্বস্ত সহকারীকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান সেনারা।

গ্রেফতার হবার একটু আগে ২৫শে মার্চ রাত ১২টার পর (২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন যা চট্টগ্রামে অবস্থিত তৎকালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারে করে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয়। ঘোষণাটি নিম্নরুপ:

“এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।”

২৬শে মার্চ বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সহ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান প্রথম শেখ মুজিব এর স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি মাইকিং করে প্রচার করেন। পরে ২৭শে মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ঘোষণাপত্রটির ভাষ্য নিম্নরুপ:

“আমি, মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি ।“

“আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।”

স্বাধীনতা ঘোষণা শোনার পর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালিরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার সেই রাতেই গড়ে ওঠে প্রতিরোধ, শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ সূচনা ঘটে যা নয় মাস স্থায়ী হয়। ৩০ লাখ মানুষের জীবন ও দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষা বিনিময়ে আসে বিজয়। পূর্ব পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ আজ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ২৬ মার্চ দিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় এবং সরকারিভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/70709
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ