Printed on Tue Sep 28 2021 7:00:03 PM

আফগানের আগে যে দেশ থেকে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল মার্কিনিরা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
পালিয়েছিল
পালিয়েছিল
কাবুল বিমান বন্দরে মার্কিন সেনাদের বিমানের পেছন পেছন দেশ ছাড়তে কয়েকশো আফগানের দৌড়, প্লেনের ডানা ধরে ঝুলে পড়া, এমন কী মাঝ আকাশে বিমানের বাইরে ঝুলতে থাকা মানুষের পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা এবং সর্বশেষ উড়োজাহাজের চাকায় মানুষের দেহাবশেষ পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাইগনের স্মৃতি টেনে আনছেন অনেকেই৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, ঠিক ভিয়েতনামের মতই আমেরিকা আফগানিস্তানে পরাজয় বরণ করেছে। মাথা নিচু করে যেমনিভাবে ভিয়েতনাম ছেড়েছে তেমনি আফগানিস্তানও ছেড়েছে।

দীর্ঘ সাড়ে চার দশক আগে ঠিক এভাবেই হঠাৎ দক্ষিণ ভিয়েতনাম ছেড়ে চলে গিয়েছিল মার্কিন সেনারা। তার পর দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সাইগনের দখল নিয়েছিল কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর ভিয়েতনাম। এরপর গোটা দক্ষিণ ভিয়েতনামের উপরও দখল নিতে বেশি সময় লাগেনি তাদের। ঠিক যেভাবে মাজার-ই-শরিফ, কান্দাহারের মতো একের পর এক প্রদেশ, শহরের দখল নিতে নিতে গোটা আফগান চলে এসেছে তালিবানদের হাতে। ফলে ৪৬ বছরের ব্যবধানে একই চিত্র দেখা সাইগন আর কাবুলে।

মার্কিন বাহিনীর আফগান ছেড়ে যাওয়ার সময়কার ঘটনাপ্রবাহের ওপর সোশাল মিডিয়ায় নানা ধরনের ছবি, ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। তার মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যায় কাবুলের আমেরিকান দূতাবাস থেকে হেলিকপ্টারে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। একই দৃশ্য দেখা যায় ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে সায়গন শহরের মানুষ হুড়োহুড়ি করে একটি হেলিকপ্টারে উঠে পালিয়ে যাচ্ছে।

১৯৫৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ভিয়েতনামের সেই যুদ্ধে প্রায় আড়াই লাখ ভিয়েতনামি সেনার পাশাপাশি ৫০ হাজার মার্কিন সৈন্যও প্রাণ হারায়। সায়গনের পতনের মাধ্যমে সেদিন আমেরিকার পরাজয় হয়েছিল ভিয়েতকং নামে পরিচিত পিপলস আর্মি অফ ভিয়েতনামের কাছে। সাইগন দখলে নেয়ার পরের দিন সকালে সংবাদপত্রে গোটা বিশ্ব দেখেছিল, কীভাবে সাইগনের মার্কিন দূতাবাসের ছাদে জড়ো হয়েছেন তখনও সেদেশে থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনা, দুতাবাস কর্মকর্তা এবং নাগরিকরা। যেন আমেরিকার হেলিকপ্টার এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে পারে।

কাবুলে যেমন বিমানের ডানা, চাকা ধরে আফগানদের ঝুলে পড়ার দৃশ্য চোখে দেখে আঁতকে উঠেছে বিশ্ব, ঠিক একই ভাবে সাইগনেও মার্কিন হেলিকপ্টার ধরে ঝুলে ঝুলে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বহু মানুষ। সেই ছবিটি তুলেছিলেন ফটোগ্রাফার হালবার্ট ভ্যান। যার ফলে বিশ্লেষকরা তালেবানের কাবুল দখলকে সায়গনের পতনের সাথে তুলনা করছেন।

সায়গনের পতনের সময় যুক্তরাষ্ট্র তড়িঘড়ি করে তাদের দূতাবাস থেকে সব কর্মচারীকে সরিয়ে নিয়েছিল। 'অপারেশন ফ্রিকোয়েন্ট উইন্ড' নামে বিশেষ পরিকল্পনার অধীনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সাত হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক, দক্ষিণ ভিয়েতনাম এবং বিদেশি নাগরিককে শহর থেকে বের করে আনা হয়েছিল। সায়গনের ক্ষমতা দখলের মধ্যে দিয়েই ভিয়েতনাম যুদ্ধেরও পরিসমাপ্তি ঘটেছিল।

ইতিহাসেরও পুনরাবৃত্তি হয়। নিন্দুকরা বলছেন, আমেরিকা হয়তো সায়গনের পর কাবুলেও সেটাই প্রমাণ করল। আর দু' ক্ষেত্রেই একই ভুল করার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানে এমন নীতির জন্য আমেরিকাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে আমেরিকাকে বিশ্বাসঘাতক বলতেও ছাড়ছেন না অনেকে। অবশ্য মার্কিন সরকারের যুক্তি, এ ছাড়া তাদের কাছে কোনও বিকল্প ছিল না। আফগানিস্তানে সংঘর্ষের মধ্যে দেশের বাহিনীকে ফেলে রাখার পক্ষপাতী নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ভয়েস টিভি/এসএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51517
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ