Printed on Tue May 24 2022 6:57:00 PM

গাছে গাছে আমের মুকুল, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
আমের মুকুল
আমের মুকুল
আমের জন্য খ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমগাছগুলোতে মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে বিধায় কোনো কোনো গাছে গুটিও দেখা গেছে। গেল বছর যেমন আমবাগানগুলো মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গিয়েছিল, এ বছর তেমনটা দেখা যায়নি। কোনো গাছে বেশি, কোনো গাছে কম, কোনো গাছে মাঝারি পরিমাণ মুকুল এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা গতবারের মতো ফলন আশা না করলেও হতাশ নন। তাঁরা বলেছেন, এ দুই জেলায় এ বছর বেশি জমিতে আমের চাষ হওয়ায় মোটের ওপর উৎপাদনও বেশি হবে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, এবার রাজশাহী জেলায় ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। গতবার হয়েছিল ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুই লাখ ১৪ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক

টন। গতবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এবার ৫৭২ হেক্টর বেশি জমিতে আমের চাষ বেশি হওয়ায় গতবারের চেয়ে উৎপাদন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন, যা গতবারের চেয়ে আড়াই হাজার মেট্রিক টন বেশি। সেটি হলে আম উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তা ছাড়া এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হতে পারে।

ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৫.৫৮ মেট্রিক টন আম উৎপন্ন হবে বলে আশা করছি। যদিও আমের মুকুল কিছু কিছু গাছে কম আছে। তবে আমের চাষাবাদ বেশি হওয়ায় সেটি পুষিয়ে যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও বেশি হবে। ’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, জেলায় এ বছর ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার জমির পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার হেক্টর বেশি। গত বছর ৩৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। গত বছর তিন লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও উৎপাদন হয়েছিল দুই লাখ ৬০ হাজার টন। এ বছর এ জেলায় তিন লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। কর্মকর্তারা এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের আম চাষি নাবিউল ইসলাম বলেন, ‘এবার আমের মুকুল কোনো গাছে প্রচুর, আবার কোনো গাছে তেমন নেই। সেই হিসাবে এ বছর উৎপাদন কম হতে পারে। ’

আরেক চাষি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে। কোনো কোনো গাছে প্রচুর মুকুল আছে, গুটিও ভালো আসছে। এখন বাকি সময়ের মধ্যে কয়েকবার বৃষ্টির প্রয়োজন হবে আমগাছের জন্য। বৃষ্টি না হলে খরায় গুটি ঝরে পড়বে। তখন ফলন নিয়ে শঙ্কা দেখা দেবে। ’

পবার আম চাষি দেলশাদ বলেন, ‘আমের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলেই হলো। অনেক সময় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রচুর ক্ষতি হয়। এবার এখন পর্যন্ত দুর্যোগ দেখা যায়নি। তবে সামনের দিনগুলোই আমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়টা ভালোভাবে কেটে গেলেই ফলন ভালো হবে।’

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/69204
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ