Printed on Sat Nov 27 2021 5:21:13 PM

প্রতি বছর ১৫০০ মেট্রিক টন উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আসে!

তানজিলা ববালী, ভয়েস টিভি
ভিডিও সংবাদ
উল্কাপিণ্ড
উল্কাপিণ্ড
অন্ধকার রাতে তারাময় আকাশ থেকে হঠাৎ আলোর ফুলকি মাটির দিকে ছুটে আসতে কম-বেশি সবাই দেখেছি। রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে এমন দৃশ্য নিশ্চয়ই আপনিও দেখেছেন ।  তারা গুলো ছুটে কোথায় যায়? আসুন জেনে আসি।

এবার রহস্যটি উদ্ঘাটন করা যাক। যেটাকে আমরা তারা ছোটা বলি, সেটা আসলে তারা নয়, উল্কা। উল্কার ছুটে চলা দেখতে তারার খসে পড়া বা ছুটন্ত তারার মতো লাগে। উল্কার এই ছুটে পড়াকে বলা হয় উল্কাপাত। উল্কা কখনো কখনো ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়। তখন সেটাকে বলে উল্কাপিণ্ড।

মহাকাশে নানা রকম মহাজাগতিক বস্তু আছে। নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমন রয়েছে ভেসে বেড়ানো জড়পিণ্ড। ছোট-বড় অসংখ্য জড়পিণ্ড মহাকাশে ভেসে বেড়ায়। এই জড়পিণ্ডগুলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং অভিকর্ষ শক্তির কারণে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে।

এরপর তারা পৃথিবী বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে ওঠে। বায়ুমণ্ডলে আসার পর মেসোস্ফেয়ার স্তরে থাকা অবস্থায় আমরা আকাশে উল্কা দেখতে পাই। বেশিরভাগ উল্কাই বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে ছাই হয়ে যায়। আর যেগুলো পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছুতে পারে সেগুলো হচ্ছে উল্কাপিণ্ড।

ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬৫ কিলোমিটার থেকে ১১৫ কিলোমিটারের মধ্যে খালি চোখে উল্কা দেখা যায়। উল্কা নানা আকারের হতে পারে। আকার অনুযায়ী তাদের ওজনও আলাদা আলাদা। উল্কা নানা রঙের হলেও কালো রঙের উল্কার সংখ্যাই বেশি।

উল্কাপিণ্ড তিন রকমের হয়। এক ধরনের উল্কাপিণ্ড হচ্ছে খনিজ সিলিকেট দিয়ে গঠিত পাথর সমৃদ্ধ। আরেক ধরনের উল্কাপিণ্ড লোহা সমৃদ্ধ যা লোহা-নিকেল দিয়ে তৈরি। এবং সবশেষ উল্কাপিণ্ড বিভিন্ন রকম পাথর ও ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি। এগুলো লোহা-পাথর সমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড।

প্রতি বছর প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আসে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষরা আলাদা আলাদা সময়ে উল্কাপাত দেখতে পায়। সময়ই শুধু আলাদা হয় না, উল্কার পরিমাণও কম-বেশি হয়। দক্ষিণ গোলার্ধের মানুষ বেশি উল্কা দেখতে পায়। তারা গড়ে ঘণ্টায় ৩০টি করে উল্কা দেখে। আর উত্তর গোলার্ধের মানুষরা গড়ে প্রতি ঘণ্টায় দেখে ১০টি উল্কা।

উল্কা নিয়ে বিভিন্ন কুসংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। উল্কাপাতের সময়কে অনেকে ইচ্ছেপূরণের সময় বলে মনে করেন। তাদের ধারণা “তারা খসে পড়া বা তারা ছোটার” সময়ে কোনো প্রার্থনা করলে তা পূরণ হয়। কেউ কেউ ‘তারা ছোটা’ অর্থাৎ উল্কাপাতকে মনে করেন সৌভাগ্যের লক্ষণ।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/59029
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ