Printed on Thu Jan 27 2022 12:16:09 AM

তিন দশক ধরে দুই বাংলায় উষ্ণতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন ঋতুপর্ণা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
ঋতুপর্ণা
ঋতুপর্ণা
দুই বাংলার চলচ্চিত্রে সমান জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিন দশক ধরে নিজের গ্লামার ও অভিনয়গুন দিয়ে মোহিত করে রেখেছেন দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের হৃদয়ে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যম, গণমাধ্যম আর পত্রিকার কাভারে নিজের আবেদনময় শরীরি ভাষা ও চাহনি দিয়ে উষ্ণতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন এখনও।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত যেমন বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় নিজের গ্লামার আর সৌন্দর্য দিয়ে সৌরভ ছড়িয়েছেন, তেমনি শৈল্পিক সিনেমায় জীবনমুখী চলচ্চিত্রের মোহনীয় অভিনয়ে তিনি মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। আবেদন তৈরি করেছেন সব শ্রেণির চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষদের মনে।

১৯৯২ সালে প্রভাত রায়ের শৈল্পিক সিনেমা ‘শ্বেতপাথরের থালা’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এ ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। এরপর করেছেন উপমহাদেশের গুণী নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি ‘দহন’, যা ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়। এর জন্যও তাঁর ঝুলিতে জমা হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বাংলাদেশের আলোচিত সিনেমা সাগরিকা’য় অভিনয় করেন ঋতুপর্ণা। সেই ছবিতে কিছু বোল্ড দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে সমালোচিতও হতে হয় তাকে। আরেকটি সমালোচিত বাংলাদেশী সিনেমা রাঙাবউ-তে অভিনয় করেন হুমায়ূন ফরিদীর সঙ্গে। সেই ছবিটিও বাংলাদেশী সিনেমার প্রথম অশ্লীলতার খেতাব পায়।

২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমা ‘উৎসব’ ও অপর্ণা সেনের ‘পারমিতার একদিন’ শিল্পী হিসেবে তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সত্যজিতের চারুলতার অনুকরণে অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায় নির্মিত ‘চারুলতা’ সিনেমায় চারুলতার ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় দেখার মতো। এ যুগের আধুনিক চারুলতার রূপান্তর ঘটেছে যেন।
এক যুগ পেরিয়ে টালিগঞ্জের বুম্বাদা খ্যাত প্রসেনজিৎ চট্রপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রাক্তন সিনেমায় রুচিশীল ভদ্র আধুনিক নারীর চরিত্রে ও বেলাশেষের মধ্যবিত্ত শহুরে আধুনিক নারীর চরিত্র করে সুশীল চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন ঋতুপর্ণা সেন। এছাড়া ‘রাজকাহিনী’ ও ‘রাতের রজনী গন্ধা’ সিনেমার অন্ধকার জগতের পতিতা চরিত্রে নিজেকে অনন্য করে তুলেছেন সেন বংশের এই নায়িকা।

এছাড়া বাংলাদেশে অভিনীত ‘সাগরিকা’ ও ‘রাঙা বউ’ কিংবা এ যুগের ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিগুলোতে নায়িকার গ্লামার, মোহনীয়তা ও আবেদনময়ী হিসেবে সেরার স্থান ঋতুপর্ণাকে দেওয়াই যায়।

১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনয়শিল্পী। ১৯৯৯ সালে বাল্যপ্রেমিক সঞ্জয় চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলা ধারাবাহিক সাদা পায়রা দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন। মুম্বাইতে হেমা মালিনীর সঙ্গে মোহিনী নামের একটি টেলিফিল্মেও অভিনয় করেন।

বলিউডের সিনেমা তিসরা কৌন সিনেমায় নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে পরিচিতি পান হিন্দি সিনেমায়ও। এরপর বেশকিছু হিন্দি সিনেমা করেছেন। বাংলায় সুজন সখী, নাগপঞ্চমী, মনের মানুষ ও সংসার সংগ্রাম’র মতো হিট সব সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

ঋতুপর্ণা সেন গুপ্ত ভারত নির্মাণ পুরস্কার, কলাকার পুরস্কার, কাজী নজরুল ইসলাম জন্মশতবার্ষিকী পুরস্কার, ৪২তম ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। নৃত্যশিল্পী হিসেবেও সুখ্যাতি লাভ করেছেন তিনি। ওড়িশি ও মণিপুরী নৃত্যে পারঙ্গম তিনি।

অবসর সময়ে ব্যাডমিন্টন খেলতে পছন্দ করেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিনি শুরু থেকেই নিজের সাজ-পোশাক আর মেকাপের জন্য দর্শকমহলে আলোচিত ও সমালোচিত থাকেন। সম্প্রতি তিনি সরস্বতী পুজোর দিন সরস্বতী বেশের একটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে নেটিজেনদের রোষের মুখেও পড়েন।
ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/61992
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ