Printed on Sat May 28 2022 7:30:12 PM

লিঙ্গ পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠতে চেয়েছিলেন যে চলচ্চিত্রকার

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
ঋতুপর্ণ ঘোষ
ঋতুপর্ণ ঘোষ
কেউ ডাকেন ঋতুদা, কেউ ডাকেন ঋতুদি। লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াসা। কিন্তু ধোঁয়াসা কাটতে দেননি ঋতু নিজেও। নিজের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে নিজের লৈঙ্গিক পরিচয় তুলে ধরেছেন ব্যাক্তি জীবনে, এমনকি নিজের চলচ্চিত্রে।

একজন পুরুষের শরীরে একজন নারীর বাস। যৌনজীবনের ট্যাবু ভেঙ্গে নিজের মতো করে যৌনজীবনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি।

তিনি ছিলেন সমকামী, আবার রূপান্তরকামী নারী হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।

ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন ভারতের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। জীবনের শেষ বছরগুলিতে তিনি রূপান্তরকামী জীবনযাত্রা নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছিলেন।

তিনি নিজের সমকামী সত্ত্বাটিকে খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে নেন যা ভারতের চলচ্চিত্র জগতের খুব কম মানুষ করেছেন।

তিনি নিজের সমকামীতা নিয়ে বেশকিছু সিনেমাও বানিয়েছিলেন। এগুলোতে তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন।

তার সর্বশেষ সিনেমা ‘চিত্রাঙ্গদা’ তার নিজের যৌনজীবনের বায়োপিক।

চিত্রাঙ্গদা সিনেমায় দেখা যায় তিনি একজন সমকামী পুরুষ। যার নারীতে কোনো আসক্তি নেই। তিনি এজন নাট্যকার। তিনি একজন মাদকাসক্ত পুরুষের প্রেমে পড়েন।

যার জন্য যিনি চিকিৎসকের মাধ্যমে নিজের সেক্স চেঞ্জ করেছিলেন। কিন্তু সেই পুরুষটি পরবর্তীতে এক নারীকে বিয়ে করে সংসার করেন।

এরকম টানাপোড়েনে এগিয়ে যায় সিনেমাটির গল্প।

ঋতুপর্ণ ঘোষ যৌনতার নানা আঙ্গিক নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন।

অভিনয় করেছেন ‘মেমোরিজ ইন মার্চ’ কিংবা ‘আর একটি প্রেমের গল্প’ নামের সিনেমায়।

এ দুটি সিনেমায় ভিন্নমাত্রার এক ওরিয়েন্টেশন করিয়েছেন ঋতু।

যৌন-অযৌন সম্পর্ক, অবদমন, রূপান্তরকামিতা এমনকি মৈথুন, স্বমৈথুন নানা লৈঙ্গিক বিষয় তার ছবিতে নিয়ে আসেন ঋতু।

নিজের জেন্ডার আইডেন্টিটি নিয়ে কথা বলেছেন ঋতুপর্ণ।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনো দিনই নিজেকে পুরোপুরি নারী মনে করতে চাইনি। হতেও চাইনি।

অনেকে সেক্স চেঞ্জ করাতে চেয়েও পারে না টাকার কারণে। আমার তো তা হয়নি কখনো। সচেতনভাবে সেক্স চেঞ্জ করা থেকে দূরে থেকেছি।

প্রচলিত জেন্ডার আইডেনটিটি থেকে বের হয়ে নিজেকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেও পেরেছি আমি।

অর্থাৎ নারী-পুরুষের সীমাবদ্ধ সীমারেখার ঊর্ধ্বে নিজেকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।

ঋতুপর্ণ ঘোষ বেশ বছর কয়েক ধরেই ‘ইউনিসেক্স’ পোশাক পরতেন।

যেটি কামিজ, সালোয়ার নয়, প্যান্ট-শার্ট নয়, আবার পাঞ্জাবি, পাজামাও বলা যাবে না তাকে।

যেটি একান্তভাবেই ‘ঋতুর পোশাকে বলেই ধরে নিয়েছেন সবাই।

বাংলা চলচ্চিত্রে সত্যজিত রায় পরবর্তী সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় নির্মাতা ছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। তিনি ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের অনুরাগী।

অর্থনীতির ছাত্র ঋতুপর্ণ ঘোষের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট হিসেবে।

দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি বারোটি জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রথম ছবি হিরের আংটি ১৯৯২ সালে মুক্তি পায়।

এটি ছিল ছোটোদের ছবি। ছবিটি তৈরি হয়েছিল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস অবলম্বনে।

১৯৯৪ সালে তাঁর দ্বিতীয় ছবি উনিশে এপ্রিল মুক্তি পায়।

এই ছবিতে এক মা ও তাঁর মেয়ের পারস্পরিক সম্পর্কের কাহিনি দেখানো হয়েছে। ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়।

এই সিনেমাটিই ঋতুপর্ণকে পরিচালক হিসেবে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে আসে। এই ছবি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পায়।

ঋতুপর্ণ ঘোষ জীবদ্দশায় ২০টির মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।

দেশে বিদেশে পেয়েছেন খ্যাতি ও পুরস্কার। দহন, বাড়িওয়ালি, অসুখ, উৎসব, তিতলি, শুভ মহরত, চোখের বালি, অন্তরমহল, দোসর, আবহমান, নৌকাডুবি, চিত্রাঙ্গদা, সত্যাস্বেষীসহ বহু ছবি নির্মাণ করেছেন।

ঋতুপর্ণ হিন্দি ছবি রেইনকোট ও সানগ্লাস নির্মাণ করেছেন।

অমিতাভ বচ্চন, প্রীতি জিনতাসহ বলিউড ও টলিউডের একঝাঁক অভিনেতা ও অভিনেত্রীকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ইংরেজী ছবি 'দ্য লাস্ট লিয়ার'।

২০১৩ সালের ৩০ মে মাত্র ৪৯ বছরে কলকাতার নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ঋতুপর্ণ ঘোষ। নিজের বিছানায় তাকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়।

তার মৃত্যুতে টলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। খোদ পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যণার্জী তাকে নিয়ে কবিতা রচনা করেন।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/65523
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ