Printed on Sat May 21 2022 7:06:41 AM

২ হাজার বছরে গড়া এভারেস্ট হিমবাহ গলে যাচ্ছে ২৫ বছরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব
এভারেস্ট হিমবাহ
এভারেস্ট হিমবাহ
‘মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের’ কারণে গলে যাচ্ছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের হিমবাহ। যত সময় নিয়ে এটি তৈরি হয়েছে, তার চেয়ে ৮০ গুণ দ্রুততার সঙ্গে গলে যাচ্ছে। এতে বোঝা যায় জলবায়ুর প্রভাব পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এলাকাতেও পৌঁছে গেছে। এমনই তথ্য এসেছে একটি নতুন গবেষণায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেচার পরিচালিত সাময়িকী ক্লাইমেট অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্সে ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেইনের একদল বিজ্ঞানী ও পর্বতারোহীর তত্ত্বাবধানে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও রোলেক্স পারপেচুয়াল প্ল্যানেট এভারেস্ট এক্সপেডিশন নামে ২০১৯ সালে এভারেস্টে একটি অভিযান চালানো হয়। বিজ্ঞানী ও পর্বতারোহীরা এভারেস্টের হিমবাহে ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার নমুনা সংগ্রহ করেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁরা সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশনও প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের গবেষণার পরই এভারেস্টের হিমবাহ উদ্বেগজনক হারে গলে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেল।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এভারেস্টের হিমবাহ তুষার দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। এই হিমবাহ গঠিত হতে লাগে কয়েক দশক। কিন্তু বরফ আলগা হয়ে পড়ায় সেই হিমবাহ প্রতিবছর গলছে দ্রুত হারে। এভারেস্টে হিমবাহ গঠিত হতে কমবেশি ২ হাজার বছর লাগে। কিন্তু সেটা গলতে লাগছে ২৫ বছর।

গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী ইউনিভার্সিটি অব মেইনের ক্লাইমেট চেঞ্জ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক পল মায়েস্কি বলেন, এভারেস্টের সর্বোচ্চ হিমবাহটি এর ভারসাম্য রক্ষায় রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করে। এখন দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর ছাদেও মনুষ্যসৃষ্ট উষ্ণতার প্রভাব পড়েছে।

হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে প্রতিবছর প্রায় ৮০০ পর্বতারোহীর এভারেস্টে ওঠার বিষয়টিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেফাইল ছবি: রয়টার্স
গবেষণাটি ২৬ হাজার ৩০০ ফুটের বেশি উঁচু হিমবাহের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। গবেষণায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সারা বিশ্বের জনজীবনের ওপর প্রভাবের বিষয়টি নতুন করে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশক থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ হিমবাহের ওপর মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে তুষারধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। প্রতিবছর প্রায় ৮০০ পর্বতারোহীর এভারেস্টে ওঠার বিষয়টিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। হিমবাহ ধসে পড়লে এশিয়ায় ১০০ কোটির বেশি মানুষের সুপেয় পানি, খাবার ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। কারণ, হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীর ওপর তাদের জীবন নির্ভরশীল।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর অন্যান্য উঁচু পর্বতের হিমবাহের অবস্থা কী হতে পারে বা হচ্ছে, সেই বিষয়টিকে ইঙ্গিত করছে মাউন্ট এভারেস্টের হিমবাহের ওই গবেষণার ফল।

গবেষকেরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে কেবল হিমবাহ গলে যাচ্ছে তা নয়; বরং এর ফলে তুষার আচ্ছাদিত পৃষ্ঠ যে ভারসাম্য রক্ষা করে, সেটিও নষ্ট হচ্ছে।

অধ্যাপক মায়েস্কি বলেন, তাঁর আন্তর্জাতিক দলটি সাউথ কোল গ্লেসিয়ার নিয়ে কাজ করেছে। এই হিমবাহটির অবস্থান মাউন্ট এভারেস্ট ও লোটসের (চতুর্থ সর্বোচ্চ পর্বতমালা) মাঝখানে। দলটি এই হিমবাহটি কতটা সময় ও কী কারণে গলে গেছে, তা নিয়ে কাজ করে।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/65808
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ