Printed on Sat Sep 25 2021 9:13:12 AM

ইউনিসেফের প্রতিবেদন : করোনায় বাংলাদেশে চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
করোনায় বাংলাদেশে চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত
করোনায় বাংলাদেশে চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত
করোনার প্রকোপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও গত বছরের মার্চ মাসে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর প্রভাবে দেশের চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা-ইউনিসেফ।

২৪ আগস্ট মঙ্গলবার  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত বেশি সময় বন্ধ থাকবে, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ততই বাড়বে। ফলে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি সংস্থাটির।

ইউনিসেফ জানায়, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে, যা করোনার কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম। মহামারির পুরো সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শিক্ষার স্তর পর্যন্ত চার কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, যত বেশি সময় ধরে শিশুরা স্কুলের বাইরে থাকবে, সহিংসতা, শিশুশ্রম ও বাল্য বিয়ের ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়ায় ততই তাদের স্কুলে ফিরে আসার সম্ভাবনা কমে যাবে। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী স্কুলগুলো গড়ে ৭৯ শিক্ষা দিবস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তবে, মহামারি শুরুর পর ১৬ কোটি ৮০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলগুলো প্রায় পুরো বছর বন্ধ ছিল।

এখনও অনেক শিশুর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বছরের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন মনোচিকিৎসকরা।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, ‌স্কুল এবং সশরীরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ থাকা শিশুদের কেবল পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, একইসঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। প্রান্তিক শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিরাপদে স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিনিয়োগ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আজকের এই সিদ্ধান্ত এই শিশুদের পুরো জীবনকে প্রভাবিত করবে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদে স্কুল পুনরায় খুলে দেয়া এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিনিয়োগ করাকে অগ্রাধিকার দেয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব তুলে ধরে ইউনিসেফ বলছে, সমাধানমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা না হলে এ পুরো প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আয়ের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার।

ইউনিসেফ জানায়, করোনা মহামারি শুরুর আগে ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী ১৬ কোটি ৮০ লাখ শিক্ষার্থীর স্কুল গড়ে ৭৯ দিন (ছুটিছাড়া) পুরোপুরি বন্ধ ছিল। মহামারি শুরুর পর স্কুলগুলো বন্ধ ছিল প্রায় গোটা বছর।

প্রতিবেদনে যত দ্রুত সম্ভব সশরীরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষাগ্রহণের জন্য স্কুলগুলো খুলে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তার বিস্তৃত পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার একাধিকবার বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

দেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত ৫ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় দেড় লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে গত বছরের ১৭ মার্চ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত ১৭ মাসে দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তাদের একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে রয়েছে।

আরও পড়ুন : স্বাস্থ্যের ১০ কর্মচারী কোটিপতি

ভয়েস টিভি/এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/52265
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ