Printed on Sat Dec 04 2021 8:02:30 AM

বিলুপ্ত কুমিরের দেখা মিলল ফরিদপুরের খালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
কুমিরের
কুমিরের
ফরিদপুরের একটি খালে গত সাত দিন ধরে অবস্থান করছে স্বাদু পানির একটি কুমরি। কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা করে আপাতত রণে ভঙ্গ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়রা। ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে পদ্মা নদীর সঙ্গে ওই খালটি সংযুক্ত রয়েছে। ওই এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করলেও বাংলাদেশে বিলুপ্ত ঘোষিত এই প্রজাতির কুমির ফিরে আসাকে ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে দেখছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কুমিরটি স্বাদু পানির কুমির, যেই প্রজাতিকে ২০০০ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা, আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অব নেচার) স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে।

বিলুপ্ত ঘোষণা করার আগে বাংলাদেশের জলাধারগুলোতে শেষবার এই ধরণের কুমির দেখা গিয়েছিল ১৯৬২ সালে।

তবে ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনবার বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরণের কুমির দেখা গেছে বলে জানান বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই বিলুপ্ত প্রজাতির কুমিরটি কীভাবে ফরিদপুরের জলাধারে এলো, সেসম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

তবে খুলনা অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল ধারণা করেন যে কুমিরটি ভারত থেকে নদীপথে এসে থাকতে পারে।

"বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হলেও ভারতে এই জাতের কুমির রয়েছে। আর এখন যেহেতু প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে ও নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে, এমন হতেই পারে যে এই কুমিরটি ভারত থেকে পদ্মা নদী হয়ে এই জলাধারে আশ্রয় নিয়েছে।"

বাংলাদেশের জলাশয়ে ১৯৬২ সালের পর মিঠাপানির কুমির দেখা যায় ২০১৫ সালে মাগুরায় মধুমতি নদীতে, অর্থাৎ ৫৩ বছর পর।

এরপর ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুইবার এই ধরনের কুমির দেখা যায়। এর মধ্যে একটি ছিল পাবনায় এবং আরেকটি রাজশাহীতে।

এই তিনটি কুমিরের মধ্যে দু'টিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল এবং সেগুলোকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে রাখা হয়।

মৎস বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান বলেন, "আমরা আশা করছিলাম, যদি এই কুমিরটি নারী হয় এবং গাজীপুরে থাকা পুরুষ কুমিরের সাথে প্রজননের মাধ্যমে যদি তাদের বংশবৃদ্ধি করানোর পদক্ষেপ নেয়া যায়, তাহলে হয়তো আবারো বাংলাদেশের নদীতে মিঠাপানির কুমিরের উপস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।"

যেই অঞ্চলে কুমিরটি অবস্থান করছে সেখানকার মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত হলেও বন বিভাগ মিঠা পানিতে কুমির পাওয়া যাওয়ার ঘটনাকে বেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে মিঠা পানির কুমিরের থাকার মত পরিবেশ থাকলেও মানবসৃষ্ট নানা কারণে এই প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে।

"মাছ ধরায় অনেকদিন ধরেই বেড় জাল ব্যবহার করে জেলেরা, যেসব জালে এই ধরণের কুমির আটকা পড়ে। তখন অনেকক্ষেত্রেই জেলেরা এসব কুমির মেরে ফেলতো। আবার এসব কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য তাদের যে দীর্ঘদিন সময় ও সুযোগ দিতে হয়, লোকালয়ের আশেপাশে থাকায় সেই সুযোগও তারা পায় না। আবার অনেকসময় মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী কুমিরের ডিমগুলো নষ্ট করে ফেলে। যার ফলে এই ধরনের কুমির বিলুপ্ত হয়েছে।

তবে গত ছয় বছরে চার বার বাংলাদেশের জলাশয়ে এই ধরণের কুমির দেখতে পাওয়াকে ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।

‘‌‌হয়তো এই কুমিরগুলো ভারত থেকে এসেছে, কিন্তু আমাদের জলাধারগুলোতে তাদের খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে বলেই হয়তো এসেছে’, বলেন মৎস কর্মকর্তা মফিজুর রহমান।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/49995
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ