Printed on Sat Dec 04 2021 8:49:31 AM

কৃষিবিদদের অবদান, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সারাদেশ
কৃষিবিদদের অবদান
কৃষিবিদদের অবদান
বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রাণ কৃষি। এজন্য দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাতের ধান, সবজিসহ নানা কৃষিজাত ফসল উদ্ভাবন করেছেন কৃষিবিদরা। জাতীয় পর্যায়ে দৈনন্দিন পুষ্টিচাহিদা-পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তারা।

এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদনেও প্রশংসার পাল্লা ভারি করেছেন গবেষকরা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ ফসলের জাত চাষাবাদ করে বিপ্লব ঘটিয়েছে কৃষকরা। এছাড়া কিছু জাত পরামর্শের মাধ্যমে চাষাবাদের আওতায় আনতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিনা) গবেষকেরা ধানের উচ্চ ফলনশীল বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে। এরমধ্যে কয়েকটি জাত চাষাবাদ হচ্ছে সারাদেশে। ফলে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।

গবেষকদের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল আউশ ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরাটম-২৪, বিনাধান-১৪, বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১।

উদ্ভাবিত আমন ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বিনাধান-৭, বিনাধান-১১, বিনাধান-১২, বিনাধান-১৩, বিনাধান-১৫, বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭, বিনাধান- ২০ ও বিনাধান-২২।

উদ্ভাবিত বোরো ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরাটম-২৪, বিনাধান-৫, বিনাধান-৮, বিনাধান-১০, বিনাধান-১৪, বিনাধান-১৮।

বিনাগম-১ নামে উচ্চ ফলনশীল একটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যা ব্যাপকহারে চাষাবাদ করছে কৃষকেরা।

ডাল জাতীয় ফসল মসুর, ছোলা ও মুগের নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। মসুরের জাতগুলো হলো- বিনামসুর-৩, বিনামসুর-৪, বিনামসুর-৫, বিনামসুর-৬, বিনামসুর-৮ ও বিনামসুর-১০।

এছাড়া বিনাছোলা-৪, বিনাছোলা-৬, বিনাছোলা-৮, বিনাছোলা-৯ ও বিনাছোলা-১০ উদ্ভাবন করা হয়েছে। উদ্ভাবন হয়েছে মিনামুগ-৫, বিনামুগ-৭, বিনামুগ-৮ ও বিনামুগ-৯ নামের চারটি জাত।

উদ্ভাবিত তৈলবীজের মধ্যে রয়েছে চিনাবাদাম- ৪, চিনাবাদাম-৬, চিনাবাদাম-৭, চিনাবাদাম-৮ ও চিনাবাদাম-৯।

বিনাসরিষা-৪, বিনাসরিষা-৭, বিনাসারিষা-৮, বিনাসরিষা-৯ ও বিনাসটিষা-১০ নামে পাঁচটি জাতও ইতিমধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে। তবে, বিনাতিল-১, বিনাতিল-২, বিনাতিল-৩ ও বিনাতিল-৪ নামের উদ্ভাবিত জাতগুলো কম চাষাবাদ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহী করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে গবেষকরা।

উন্নত জাতের মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে রয়েছে বিনাপেয়াজ -১ ও বিনাপেয়াজ-২, বিনারসুন-১, বিনামরিচ-১ ও বিনাহলুদ-১।

সবজি ফসলের মধ্যে রয়েছে বিনাটমেটো-৬, বিনাটমেটো-৭, বিনাটমেটো-৮, বিনাটমেটো-৯, বিনাটমেটো-১০, বিনাটমেটো-১১, বিনাটমেটো-১২ ও বিনাটমেটো-১৩। এছাড়া বিনাপাটশাক-১ নামের জাতটি সারাদেশে ব্যাপকহারে চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষকরা লাভবান হওয়ায় বীজ উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

তবে, উদ্ভাবিত ফলের মধ্যে শুধুমাত্র বিনালেবু-১ নামে একটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ জাতটি সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। ময়মনসিংহের কৃষকেরা চাষাবাদ করছে সবচেয়ে বেশি।

এদিকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ সারা দেশে চাষ হচ্ছে। এসব দেশীয় মাছ উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন চাষিরা।

উৎপাদিত দেশীয় মাছের পোনা চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

২০০৮-২০০৯ সালে চাষের মাধ্যমে দেশি মাছের উৎপাদন ছিল ৬৭ হাজার টন। ২০১৯-২০২০ সাল নাগাদ তা প্রায় চার গুণ বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টন হয়েছে। ফলে বাজারে এখন দেশি মাছের ছড়াছড়ি।

গবেষণায় উৎপাদিত মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, গুজি আইড়, চিতল, ফলি, মহাশোল, বৈরালী, রাজপুঁটি, মেনি, বালাচাটা, গুতুম, কুঁচিয়া, ভাগনা, খলিশা, বাটা, দেশি সরপুঁটি, কালবাউশ, কই, গজার, গনিয়া, পিয়ালি, ঢেলা, রানি, বাতাসি ও কাকিলা। এ ছাড়া বিলুপ্তির আশঙ্কায় থাকা বাকি মাছগুলো নিয়েও গবেষণা চলছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, সারাদেশে যত ছোট মাছ আছে, সেগুলো সংগ্রহ করে এই লাইভ জিন ব্যাংকে রাখা হচ্ছে। যদি প্রকৃতি থেকে কোনো মাছ হারিয়ে যায়, তাহলে সংরক্ষণে থাকা মাছটিকে গবেষণা করে আবারও ওই মাছের পোনা উৎপাদন করা হবে। ফলে বিলুপ্ত হওয়া মাছ সারা দেশে চাষের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ময়মনসিংহ স্বাদুপানি কেন্দ্র ছাড়াও বগুড়ার সান্তাহার, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ও যশোর উপকেন্দ্রে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে গবেষণা চলছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্যে ২০২০ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট একুশে পদক অর্জন করে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, গবেষকদের উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বেশীরভাগ সফল কৃষকেরা চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কারণ এসব জাতিগুলো অন্য জাতগুলো চাষাবাদ করে খরচ কমার পাশাপাশি বেশি ফসল উৎপাদন হয়। তবে, কিছু জাত চাষাবাদের আওতায় আনতে বিনামূল্যে বীজ বিতরণসহ কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। নতুন নতুন আরও উন্নত জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফল হাসান বলেন, গবেষকদের ক্লান্তিহীন গবেষণার কারনেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বেশী ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে গিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/58545
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ