Printed on Tue Dec 07 2021 3:04:17 AM

কোথায় আছে সেই আলোচিত পাপিয়া?

পাপিয়া
পাপিয়া
ভয়েস রিপোর্ট: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে থমকে গেছে যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী বহুল আলোচিত নরসিংদীর শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত। তিন মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে থাকা পাপিয়াকে এক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে করোনার কারণে কারাগারে পাঠানো হয় গত ২০ মার্চ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হওয়ায় মামলার তদন্তও এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। র্যা ব বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে ফের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া অর্থ পাচার আইনে পাপিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির একটি মামলা দায়েরের কথা থাকলেও সেটিও করোনার কারণে সম্ভব হয়নি।
পাপিয়ার ঠিকানা এখন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের চার দেয়ালের ছোট্ট একটি সেল। তার সঙ্গে আর কোনো বন্দি রাখা হয়নি। ওই সেলে নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছেন পাপিয়া। প্রায় আড়াই মাসেও পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কেউ তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতেও যায়নি বলে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা। পাপিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বলেন, তিনি ভালো ও সুস্থ আছেন। কোনো সমস্যা নেই। নিয়মিত তার খবর রাখা হচ্ছে।
যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া গোপনে দেশ ছাড়ার সময় গত ২২ ফেব্রুয়ারি র্যা বের হাতে গ্রেপ্তার হন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হন তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী এবং ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। তাদের কাছে পাওয়া যায় সাতটি পাসপোর্ট, বাংলাদেশি ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬শো জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার ও সাতটি মোবাইল ফোন সেট।
পরদিন ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের বাসায় অভিযানে পাওয়া যায় দুটি অবৈধ অস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড। এসব উদ্ধারের পর বিমানবন্দর থানায় একটি ও শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করে র্যা ব। এছাড়া অর্থ পাচার আইনে পাপিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করার কথা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
কিন্তু করোনার কারণে ওই মামলাটি এখনো করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডির একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটির কারণে মামলাটি করা হয়নি। শিগগির তারা অর্থ পাচার আইনে মামলাটি করবেন।
র্যা ব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, র্যা বের তিন মামলায় পাপিয়াকে ৫ দিন করে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বিমানবন্দর থানার মামলায় গত ১৬ মার্চ পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় র্যা ব। কিন্তু দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২০ মার্চ কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।
এ বিষয়ে র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপপরিচালক মেজর রইসুল আজম বলেন, পাপিয়ার ৩ মামলায় ১৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে একটি মামলায় তাকে ৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অপর দুই মামলায় বাকি ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এছাড়া ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, গোলাম কিবরিয়া বা জি কে শামীমের মামলাসহ কয়েকটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। পাপিয়ার মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন না হওয়ায় তদন্ত এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেস করে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলেও জানায় র্যা ব।
এরআগে পাপিয়াকে গ্রেপ্তারের পর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট ভাড়া করা এবং সেখানে যাতায়াতকারী বিত্তবানরা কীভাবে পাপিয়ার শিকার হতেন এসব নিয়ে নানা খবর গণমাধ্যমে আসে। পাপিয়ার বিষয়ে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার বলেন, কারাগারে আসার পর পাপিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের কেউ দেখা করতে আসেনি। তাকে রাখা হয়েছে বিশেষ একটি সেলে। তার সঙ্গে আর কোনো বন্দি নেই। মাঝে মাঝে কারারক্ষীদের দিয়ে বই সংগ্রহ করে গল্পের বই পড়েন। ওই সেলে পাপিয়ার কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই। তাকে প্রথমে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনেও রাখা হয়। পরে আলাদা রাখা হয়।
নরসিংদী জেলা শহরে ভাগদী মারকাজ মসজিদ এলাকায় থাকেন পাপিয়ার বাবা সাইফুল বারী। আর শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণদীতে। রাজধানীর ফার্মগেট ইন্দিরা রোডে ‘রওশন ডোমইনো রিলিভো’ নামে একটি বিলাসবহুল ভবনে তার ও স্বামীর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
পাপিয়ার সঙ্গে কেউ দেখা করতে যাচ্ছেন না কেন তা জানতে গত সোমবার নরসিংদীর স্থানীয় সাংবাদিকরা যান পাপিয়ার শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণদীতে। কিন্ত দারোয়ান জানান, বাড়ির সবাই ঢাকাতেই থাকে। ঈদেও কেউ বাড়ি যায়নি। পাপিয়ার বাবার বাড়ি ভাগদীতে গেলে প্রতিবেশীরা জানান, পাপিয়া গ্রেপ্তারের পর থেকে বাবা সাইফুল বারী অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।

রিপোর্ট: আনজাম খালেক
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/6073
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ