Printed on Wed Dec 01 2021 3:53:30 PM

কয় হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে অতিথি পাখি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
ভিডিও সংবাদলাইফস্টাইল
কয় হাজার
কয় হাজার
শীতের আমেজের সাথে সাথে হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমনে প্রতি বছর মুখরিত হয় বাংলাদেশ। শীতকালীন প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা পেতে উষ্ণ অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। প্রতি বছর শীতকালে সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বতীয় মালভূমি ও হিমালয় থেকে প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি আসে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াকে এরা বেছে নেয়। আপনি শুনলে অবাক হবেন এসব পাখি এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হবার জন্যে প্রায় ২৫,০০০ মাইল পথ অতিক্রম করে।

প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন বনজঙ্গল আর জলাভূমিগুলোকে বাসভূমিতে পরিণত করে এসব অতিথি পাখিরা। অতিথি পাখিরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় শুধু উপযুক্ত আবহাওয়া আর খাদ্যের সন্ধানে। দেশের অগভীর নদী-নালা, খাল, হাওর থেকে তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটায়।

আর্কটিক টার্ন প্রজাতির পাখিরা প্রায় সারা বছরেই পৃথিবীর এক মেরু থেকে আরেক মেরুর দিকে উড়ে বেড়ায় উষ্ণ অঞ্চলের খোঁজে। বিশ্বের উত্তর মেরু অঞ্চলে যখন প্রবল শীত তখন দক্ষিণে মেরু অঞ্চলের উদ্দেশ্যে ধাবিত হয় যেখানে গ্রীষ্ম কেবল শুরু। ধারণা করা হয় এক বছরে প্রায় ২৫,০০০ মাইল পথ জুড়ে তারা স্থানান্তরিত হয়।

পাখিরা যে পথ অনুসরণ করে উড়ে চলে তাকে বলা হয় ফ্লাইওয়ে। এরা কীভাবে এই ফ্লাইওয়ে অনুসরণ করে সারা বছর দিক নির্ধারণ করে তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও সুস্পষ্ট না। ধারণা করা হয় এদের অভ্যন্তরীণ জিপিএস রয়েছে যা প্রতিবার গতিপথে একই প্যাটার্ন মেনে চলতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে সূর্য ও তারা অনুসরণ করে থাকে।

পাখিরা ওড়ার পথে ভূমিতে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যও চিনতে পারে বলে অনেকে ধারণা করেন। পাখিদের অসাধারণ দিক নির্ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করে থাকে। চোখ এবং মস্তিষ্কের এক বিশেষ অংশের মিথস্ক্রিয়ার সাহায্যে দিক নির্ধারণ করতে পারে। ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা চিনতে পারে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে পাখিরা তাদের ঠোঁটে থাকা স্নায়ু ব্যবহার করে পৃথিবীর সাথে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের তৈরি হওয়া কোণ নির্ণয় করে যেকোনো স্থানে নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে পারে।

পশুপাখির স্থানান্তরের পথে বিভিন্ন বাধার সৃষ্টি করছে মানুষ। তাদের স্থানান্তরের পথে রাস্তা, আবাদি জমিতে ভবন নির্মাণ বা খাদ্যের যোগান ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এতে কমছে পাখির আগমন সংখ্যা । সেই সাথে প্রাণীদের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপত্তি হচ্ছে খাদ্যের অভাব। খাদ্যের অভাবের কারণে ভ্রমণে থাকা প্রাণীদের মৃত্যুর হার ক্রমাগত বাড়ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আসা অতিথি পাখিদের এক শ্রেনীর মানুষ শিকার করে । যদিও আইন রয়েছে অতিথি পাখি নিধন নিষিদ্ধ ।

পাখি স্থানান্তরের ঘটনাগুলো পৃথিবীতে প্রাণের বৈচিত্র্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তাই মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীর সুষ্ঠু সহাবস্থানের জন্য মানুষকে অনেক যত্নবান হতে হবে। না হলে হারিয়ে যাবে অতিথিসহ নানা প্রকার পাখির আগম । বিপন্ন হবে পরিবেশের সৌন্দয্য ।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/57710
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ