Printed on Sat May 28 2022 8:49:06 PM

লেগুনার হেল্পার সেজে চার খুনীকে গ্রেফতার করল এসআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
খুনীকে গ্রেফতার
খুনীকে গ্রেফতার
রাজধানীর মাছ ব্যবসায়ী মহির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে। গত ২২ জানুয়ারি নিহতের ছেলে লাশটি শনাক্তের পর এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনার পরেই পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে।

মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই বিলাল আল আজাদকে। কৌশলে শেষ পর্যন্ত অভিনব উপায়ে ছদ্মবেশ নিয়ে মহিরের ৪ খুনিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তিনি।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন আব্দুর রহমান, মঞ্জুর, রুবেল ও রিপন। এ চারজন সঙ্গবদ্ধভাবে লেগুনায় যাত্রী তুলে ছিনতাই-রাহাজানি করতো।

এসআই বিলাল জানান, ‘তদন্ত করতে গিয়ে টানা পাঁচদিন লেগুনার হেলপারের কাজ করেছি। এ সময় পেশাদার হেলপারের মতো প্রতিদিন তিনশ টাকা আয় হত আমার’।

এসআই আজাদ বলেন, ‘গত ২২ জানুয়ারি ভোরে হানিফ ফ্লাইওভারে মহির উদ্দিনের লাশ পাওয়ার পর সেদিন সন্ধ্যায় তার ছেলে মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। মহির উদ্দিন কীভাবে মারা যায় তা জানতে পুলিশ ফ্লাইওভারে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে দেখা যায়, একটি চলন্ত লেগুনা থেকে ঘটনার দিন ভোরে মহিরকে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই লেগুনার কোনো নম্বর নেই। তবে সেটির পাদানিতে লাল রঙ রয়েছে। এরপরেই লাল রঙওয়ালা পাদানির লেগুনা খোঁজা শুরু করেন তিনি। পরিচয় গোপন করে এক দালালের মাধ্যমে যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, কোনাবাড়ি, ডেমরা, চিটাগাং রোড আর নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি রুটের একটি লেগুনায় হেলপারের কাজ নেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই চালক হিসেবে কাজ করতে লেগুনা খুঁজতে শুরু করেন লাইনম্যানদের কাছে’।

একজন লাইনম্যান এসআই বিলালকে জানান, ৭২৮ নম্বরের একটি লেগুনা রুটের সিরিয়ালে থাকলেও দুদিন ধরে সেটি দেখা যাচ্ছে না। সেটার খোঁজ নিয়ে দেখা যেতে পারে। লেগুনাটি কদমতলীর একটি গ্যারেজে আছে। সেখানে গিয়েই তিনি খুঁজে পান রং থাকা পাদানির সেই লেগুনাটি। সে সময় বিকল অবস্থায় লেগুনাটি গ্যারেজে পড়ে ছিল। এটির চালকের নাম ফরহাদ। এরপর ফরহাদকে খুঁজে বের করা হয়। তবে ফরহাদ দাবি করেন, ২১ জানুয়ারি দুপুরে তিনি লেগুনা বুঝিয়ে দিয়ে মাদারীপুরে বাড়ি চলে এসেছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তার দাবি সঠিক।

আরও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফরহাদ ঢাকা ছাড়ার পর ওই লেগুনা চালিয়েছিলেন মঞ্জু নামের এক চালক, তার হেলপারের নাম আব্দুর রহমান। এ সময় আব্দুর রহমানের বাবার ফোন নম্বর নিয়ে এসআই বিলাল নিজেকে লেগুনার চালক ও মালিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর বাবাই গত ২৬ জানুয়ারি ছেলে আব্দুর রহমানকে ডেকে আনেন। আব্দুর রহমানের মাধ্যম গ্রেফতার করা হয় মঞ্জুকে। মঞ্জু আর রহমান জানান, ২২ জানুয়ারি রাতে তাদের সঙ্গে রুবেল ও রিপন নামে আরও দুজন ছিল। পরে ধারাবাহিক অভিযানে কদমতলী থেকে তাদেরও গ্রেফতার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মহির উদ্দিনের কাছ থেকে ৫ হাজার ৯০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেয় আসামিরা। পরে ছিনিয়ে নেওয়া অর্থ থেকে ৭০০ টাকার তারা তেল কেনে। এরপর দুই হাজার টাকার ইয়াবা কিনে চারজনে মিলে সেবন করে এক হাজার টাকার নাস্তা করে। বাকি টাকা তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছিল।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/65173
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ