Printed on Sun Oct 24 2021 1:37:38 PM

নেই গরু, স্ত্রী-সন্তানই ভরসা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সারাদেশ
গরু
গরু
কৃষক আবু বকর সিদ্দিকের গরু নেই। অনেক কষ্টে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষের পর স্ত্রী আর স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে দিয়ে জমিতে মই টানছেন। টাকা ধার চেয়েও পাননি। ধারের টাকা পরিশোধের সাধ্যও অবশ্য নেই তার। অভাবের সংসারে গরু না থাকায় এখন স্ত্রী-সন্তানই ভরসা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষক আবু বকর সিদ্দিক ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ছোট কাশর গ্রামের বাসিন্দা। এক মেয়ে ও তিন ছেলের জনক এ কৃষকের বড় ছেলেও কৃষিকাজ করেন। কিন্তু নিজের পরিবারের ভরণ-পোষণের পর বাবাকে সাহায্য করার মতো আর্থিক অবস্থা নেই তার।

মেজো ছেলে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। একমাত্র মেয়ে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে। ছোট ছেলে মাহাদী হাসান সুমন দশম শ্রেণির ছাত্র। অভাবের তাড়নায় কোনো উপায় না পেয়ে ছোট ছেলে সুমন আর স্ত্রী মমতাজ বেগমকে নিয়ে মই টানিয়ে তৈরি করছেন জমি।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ৩৫ শতাংশ জমিন ট্রাক্টর দিয়ে হালের কাজ করেছি। কিন্তু জমিটি হমান (সমান) করে লাগানির (রোপনের) উপযোগী করতে হইবো। কিন্তু টাহার (টাকা) অভাবে কয়দিন ধরে ক্ষেতে মই দিতে পারতেছি না। অনেক খানেই টেহা (টাকা) পয়সা ধার চাইয়া ব্যর্থ হইছি। কোনো উপায় না পায়া বউ পুলারে লয়া মই দিতাছি।

তার স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, বড় ছেলে বিয়া কইরা আলগা (আলাদা) হইয়া গেছে। ছোড (ছোট) ছেলেরে লইয়া থাকি। ছেলেডা ইস্কুলে টেনে (দশম শ্রেণী) পড়ে। হাতে কোনো টেহা পয়সা (টাকা) নেই। কোনো উপায় না দেইখা স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতাছি। এই কাজ করায় কোনো লজ্জা বা কষ্ট নেই বলেও জানান তিনি।

করোনার কারণে স্কুল বন্ধ আর বাবার অনেক বয়স হয়েছে। তাই মায়ের সঙ্গে জমি চাষে নেমে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ছোট ছেলে সুমন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারগিস আক্তার বলেন, হালের বলদের অভাবে স্ত্রী-সন্তানকে দিয়ে মই দেয়াটা খুবই পীড়াদায়ক। আমি দ্রুতই খবর নেব এই পরিবারটির। ওই পরিবারকে সরকারি প্রনোদণাসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন : বর্ষায় নৌকা, শুষ্কে ঘোড়াই ভরসা

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/31401
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ