Printed on Sat May 21 2022 6:46:38 AM

সাদুল্লাহপুর এখন গোলাপ গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
গোলাপ গ্রাম
গোলাপ গ্রাম
উৎসব আয়োজন কিংবা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ফুলের কদর থাকে সবার উপর। ফুলের প্রতি মানুষের চাহিদা এবং আকর্ষণ অনেক আগে থেকেই। প্রিয়জনকে উপহার দিতে জুড়ি নেই একগুচ্ছ ফুলের। তবে ফুল এখন শুধু আর শৌখিন পণ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বাণিজ্যিকভাবে এর প্রসার ঘটেছে সব ক্ষেত্রে।

প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিরাও ভালো মুনাফা পাওয়ায় এখন ঝুঁকছেন ফুল চাষে। দেশের নানা প্রান্তে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, ডালিয়া, জারবেরা, রজনীগন্ধা, জিপসি, গ্লাডিওলাস উৎপাদন হলেও এসব ফুলের পাশাপাশি দেশের গোলাপ ব্যবসার প্রায় অর্ধেকটাই জোগান দেয় সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুরের গোলাপ গ্রাম।

তুরাগ নদের পাড়ে সাদুল্লাহপুর গ্রামটির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছেন ফুল চাষের সঙ্গে। গোলাপের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও মনোমুগ্ধকর সুবাস গ্রাস করবে যে কোনো ভ্রমণপিপাসুকে। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসে গোলাপের এই অনিন্দ্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এতে করে যেমন বেড়েছে বেচাকেনা তেমনি সৃষ্টি হয়েছে পর্যটন খাতেরও।

আরও পড়ুন : বসন্ত-ভালোবাসায় গোলাপ গ্রাম!

জানা যায়, প্রায় বছর পঞ্চাশ আগে মানুষ এখানে গোলাপের চারা তৈরি ও চাষ শুরু করে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় নব্বই সালের প্রারম্ভে। শুরুতে আশানুরূপ সাফল্য না এলেও প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রাম বর্তমানে আলোর মুখ দেখছে। এখানকার মাঠে মাঠে শুধু রঙিন ফুলের সৌরভ নয়; আছে কৃষির বাণিজ্যিক অবকাঠামো, বহুমুখী লাভজনক উদ্যোগ। শাহবাগসহ রাজধানীর ফুলের বিভিন্ন বাজারে গোলাপের প্রধান জোগান দেন এখানকার চাষিরা। ফুলের এই রাজ্য বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছে অনন্য এক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

গোলাপের জাত ও চাষ

লাল, হলুদ, সাদাসহ প্রায় সব ধরনের গোলাপের চাষ হলেও বাজারদর ভালো হওয়ায় মিরান্ডা জাতের গোলাপ এখানে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। সাধারণত সারা বছর গোলাপ ফুটলেও ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস ফুলের ভরা মৌসুম। এ সময়ে আকারেও বেশ বড় হয় ফুলগুলো। বেলে দোআঁশ কিংবা এটেল দোআঁশ মাটি আর যত্নআত্তি পেলে গোলাপের গাছ বাড়ে বেশ দ্রুত। একেকটি গাছ কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফুল দিতে সক্ষম হয়।

গোলাপের হাট

স্থানীয় চাষিরা নিজেদের প্রয়োজনেই বছর দশেক আগে এই গ্রামে গড়ে তুলেছেন হাট। সারাদিন পরিচর্যার পর গ্রামের প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির চাষিরা সন্ধ্যার দিকে হাটে আসেন ফুল বিক্রি করতে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমতে থাকে হাট। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। মোস্তাবাজার ও কাশেমবাজার নামে দুটি হাট রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা ভিড় জমায় ঐতিহ্যবাহী এই হাটে।

ঘুরতে ঘুরতে স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, মৌসুমের সময় জাতভেদে প্রতি পিস গোলাপ ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হয় আর ৩০০ পিসের একেকটি আঁটি তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকায়। অফ সিজনে দুই থেকে তিন টাকা পাইকারি দরে নেমে আসে প্রতি পিস। দৈনিক ৯ থেকে ১০ লাখ টাকাসহ সিজনে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার গোলাপ কেনাবেচা হয় এই হাটে। সব সময়ই গোলাপের চাহিদা থাকায় চাষিরাও সারা বছরই ব্যস্ত সময় কাটান। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/63826
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ