Printed on Wed May 25 2022 3:42:21 AM

বঙ্গবন্ধুর চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু 

রোমান কবির
জাতীয়
চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু 
চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পুরোদস্তুর একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ। তিনি দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন তথা চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে বিপ্লব সাধন করেছিলেন। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে ১৯৫৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ণ কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের চলচ্চিত্রকে ঢেলে সাজাতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি।


তাঁর অনুপ্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছে দেশাত্নবোধক কালজয়ী কিছু সিনেমা। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি সিনেমায় অভিনয়ও করেছেন। জাতির জনকের ১০১ তম জন্মদিনে থাকছে দেশের চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান শীর্ষক প্রতিবেদন।


১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারকে হটিয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন। সেই সরকারে শেখ মুজিবুর রহমান বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এ অঞ্চলের চলচ্চিত্রকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৫৬ সালের ৩ এপ্রিল প্রাদেশিক আইন পরিষদের অধিবেশনের শেষ দিন বঙ্গবন্ধু ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা’ বিল সংসদে উত্থাপন করেন।


বিলটি বিনা বাধায় আইন পরিষদে পাস হয়। যাত্রা শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা, যা আজকের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বা এফডিসি নামে পরিচিত।


স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে চলচ্চিত্রে নানা উন্নয়নে হাত দেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চলচ্চিত্রের মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পুনর্গঠিত হয় এফডিসি, সেন্সর বোর্ড, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর। সংযোজিত হয় সেন্সর নীতিমালা।


বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় চলচ্চিত্র খাতে বরাদ্দ হয়েছিল ৪ কোটি ১০ হাজার টাকা। বরাদ্দকৃত এ অর্থে ফিল্ম স্টুডিওর সম্প্রসারণ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে নতুন ফিল্ম স্টুডিও প্রতিষ্ঠা, ফিল্ম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও সারা দেশে ১০০টি নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।


বঙ্গবন্ধুর আমলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিদেশে রফতানি শুরু হয়। বিভিন্ন ছবি রফতানি বাবদ ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে ২ হাজার, ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে ১১ হাজার ও ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ডলার আয় করতে সক্ষম হয়। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে প্রবর্তিত সেন্সর আইন ও বিধি সংশোধন করা হয়।


সবচেয়ে চমৎকৃত তথ্য হচ্ছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিজে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রয়াত নির্মাতা চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় নির্মিত সিনেমা ‘সংগ্রাম’ এর একটি দৃশ্যে স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনী বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্যালুট করছে।


এই দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা যায় সে নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। একপ্রকার দুঃসাহস নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন খসরু। প্রথমে না করলেও পরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে অভিনয়ের জন্য বঙ্গবন্ধুকে রাজি করান খসরু। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে।


এদিকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গত ৫০ বছরে তেমন কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত না হলেও বেশকিছু সিনেমা নির্মিত হয়েছে। শাপলা মিডিয়ার ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক দুটি ছবি নির্মিত হয়। এর মধ্যে টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই ও আগস্ট ১৯৭৫ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বেশকিছু কাহিনীচিত্র ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।


বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘বঙ্গবন্ধু’। ছবিটি পরিচালনা করছেন ভারত্রের প্রখ্যাত নির্মিাতা শ্যাম বেনেগাল।


ভয়েসটিভি/আরকে

যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/69867
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ