Printed on Sun May 22 2022 2:49:50 PM

পিকআপের চাপায় পাঁচ ভাই নিহত

অনলাইন ডেস্ক
সারাদেশ
চার ভাই
চার ভাই
কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজরা ইউনিয়নে গত ২৮ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান সুরেশ চন্দ্র শীল। ১১ দিন পর বাবার শ্রাদ্ধের দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে আট ভাইবোন একসঙ্গে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বসে বাবার শ্রদ্ধা কর্ম সম্পাদনের কাজ করছিলেন। আর তখনই তাদের চাপা দেয় একটি গাড়ি।

এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর দুই ভাই ও দুই বোনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ খ্রিষ্টান হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা ১১টার দিকে আরও এক ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এই পাঁচ ভাইয়ের লাশ আনা হয়েছে নিহতদের বাড়ির উঠানে। আর তা দেখে পাথর হয়ে গেছেন ১১ দিন আগে স্বামী হারানো মানু বালা শীল (৬০)।

মঙ্গলবার দুপুরে মৃত সুরেশ চন্দ্র শীলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে সারি সারি সাজানো রয়েছে অনুপম শীল (৪৮), নিরুপম শীল (৪৫), দীপক শীল (৪০), চম্পক শীল (৩৮) ও স্মরণ শীলের (৪৬) লাশ। তাদের স্ত্রীরা বিলাপ করছেন জোরে জোরে। ছোট্ট ছেলেমেয়ে কিছু বুঝে উঠতে না পারলেও মায়েদের সঙ্গে কাঁদছে। প্রতিবেশীরা এসে তাদের স্বান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও এসেছেন বাড়ির উঠানে। তারাও পরিচিত সুরেশ চন্দ্র শীলের পাঁচ ছেলের একসঙ্গে মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। এসবের মধ্যেই ‘পাথর’ হয়ে বসে আছেন মানু বালা। পাঁচ ছেলের লাশ সামনে থাকলেও তার চোখে পানি নেই। কোনো কথাও বলছেন না, নড়াচড়াও করছেন না। তিনি এতটাই শোকাহত যে কান্নাও করতে পারছেন না।

বিলাপ করতে করতে নিহত অনুপম শীলের স্ত্রী পপি শীল ও দীপক শীলের স্ত্রী দিতা বালা শীল বলেন, আজ তাদের শ্বশুরের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। খাবারের ব্যবস্থা, প্যান্ডেল করা, অতিথি নিমন্ত্রণ থেকে শুরু করে সব কাজ হয়ে গেছে। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বাবার শ্রাদ্ধের কাজ শেষের আগেই একইসঙ্গে ৫ ভাই তাদের নিজেদের শ্রাদ্ধের দায়িত্ব চাপিয়ে গেলেন। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। পাঁচ জনের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এখন পথে বসবে।

এদিকে পাঁচ ভাই নিহতের খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান ও ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর। তারা শোকাহত পরিবারের সদস্যদের স্বান্ত্বনা দিতে এসে নিজেরাও শোকাহত হয়ে গেছেন। ইউএনও জেপি দেওয়ান শুধু বলেন, এ ক্ষতি পূরণ হবার নয়। এর বেশিকিছু বলা সম্ভব না এখন।

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শেফায়েত হোসেন ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওসমান গণি মুঠোফোনে সমকালকে জানান, পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছায় নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই সৎকারের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের চাপা দেওয়া গাড়ি ও ড্রাইভার-হেলপারকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/66109
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ