Printed on Thu Oct 21 2021 12:33:21 PM

শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জব্দ যেসব ই-কমার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
টাকা আত্মসাত
টাকা আত্মসাত
আস্থার সংকটে পড়ায় বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-কমার্স ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে রাতারাতি পরিচিতি পাওয়া কিছু ই-কমার্সের প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ইভ্যালিসহ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎসহ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করছে প্রশাসন।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলেছে, ইভ্যালি ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে পরিচালিত সব ধরনের হিসাবের তথ্য চেয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে তাদের হালনাগাদ লেনদেনের বিবরণী, ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা ও উত্তোলনের জমা রসিদ বা চেকের কপি (ওয়াক-ইন কাস্টমারের ছবিযুক্ত আইডিসহ) পাঠাতে বলা হয়েছে।

এতে নমিনির তথ্য এবং নমিনিদের নামে হিসাব থাকলে তাও জানাতে হবে। নমিনিদের নামে এফডিআর, ঋণ হিসাব, এলসি থাকলে ঐসব কাগজপত্র, হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল, লেনদেন বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট সবধরনের দলিল পাঠাতে বলা হয়।

গত বছরও ইভ্যালির অ্যাকাউন্ট তলব এবং পরবর্তীতে ফ্রিজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ইভ্যালি ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়।

ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থ নিয়েছে, তার চেয়ে অনেক কম সম্পদ থাকায় আলোচনায় ওঠে আসে। এরপরই আলোচনায় ওঠে আসে ই-অরেঞ্জের নাম। আগস্ট মাসের শেষের দিকে ই-অরেঞ্জের চেয়ারম্যান সোনিয়া মেহজাবিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুকুর রহমানের ব্যাংক হিসাব তলব করার পর তাদের সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

আরও পড়ুন : সাত ই-কমার্সের ব্যাংক হিসাব তলব

এর আগে গত ৩০ জুন ধামাকা শপিং এর ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। পরবর্তীতে কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৩০ জুন শুধু ধামাকা শপিংই নয়, বুম বুম, নিডস, সিরাজগঞ্জ শপ, দালাল প্লাস, আলিশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, আলাদিনের প্রদীপ, আদিয়ান মার্ট, কিউকম, এবং বাজাজ কালেকশনসহ ১১টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করে বিএফআইইউ।

সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।  সিআইডির চিঠির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও (বিএফআইইউ) অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার সুযোগ আছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউ’র শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। সম্প্রতি অন্তত ডজনখানেক ই-কমার্স কোম্পানির বিভিন্ন কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। তবে কতগুলো ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, তার পরিসংখ্যান দেননি তিনি।

এদিকে  ই-কমার্স প্রতারণা কারণে কিউকমের পেমেন্ট গেটওয়ে বা পরিশোধ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (পিএসও) ফস্টারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট  ফ্রিজ করেছে কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ। গত মাসের ৯ তারিখ প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত করে দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্রমতে, ফস্টারের বড় গ্রাহক প্রতিষ্ঠান কিউকম। প্রতারণার দায়ে গত রবিবার (৩ অক্টোবর) কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অস্বাভাবিক ছাড়ে পণ্য বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহসহ বিভিন্ন অভিযোগে এর আগে গত জুনে যে ১০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকগুলো কার্ড লেনদেন স্থগিত করে তার মধ্যে কিউকম অন্যতম।

এদিকে বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কেনার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। পণ্য সরবরাহকারী বেশকিছু প্রতিষ্ঠানও এসব কোম্পানির ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে আরো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুরুতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে ‘অস্বাভাবিক’ সব লোভনীয় অফার দেয়। এভাবে অগ্রিম অর্থ নিয়ে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তারা সময়মতো পণ্য সরবরাহ করে না। ভোক্তাদের অভিযোগ— পণ্যের টাকা পরিশোধ করার পরও নির্ধারিত সময়ে তাদের পণ্য দেয়া হচ্ছে না। একই অভিযোগ উঠেছে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানলো বা মার্চেন্টদের কাছ থেকেও। তারা বলছেন, দিনের পর দিন তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না।

ভয়েস টিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/55200
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ