Printed on Wed Jan 26 2022 10:51:12 PM

এমএলএম নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
টাকা আত্মসাৎ
টাকা আত্মসাৎ
মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কম্পানির (এমএলএম) নামে প্রতারণার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত শনিবার রাতে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই চক্র প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। প্রতারণার শিকার বেশির ভাগই নারী।

গ্রেপ্তার সাত ব্যক্তি হলেন মো. আবুল হোসেন পুলক (৪০), মো. মাহাদী হাসান মল্লিক (৩৫), মো. মিজানুর রহমান ওরফে ব্রাভো মিজান (৫৫), মো. মহিউদ্দিন জামিল (৩৮), মো. সাইফুল ইসলাম আকন্দ (৪২), মো. কভেজ আলী সরকার (৩৫) ও মো. শাহানুর আলম শাহীন (৪২)। তবে তাঁদের ঠিকানা জানানো হয়নি।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, একাধিক ব্যাংক হিসাবের চেকবই, একাধিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড, ভুয়া এমএলএম কম্পানির পরিকল্পনার কাগজপত্র এবং নগদ ৬২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক ইমাম হোসেন বলেন, চক্রটির চারটি অনলাইন কম্পানি আছে। এই চারটি কম্পানির মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের কাছ থেকে তারা অন্তত ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক বলেন, এই চক্রের হোতা আবুল হোসেন পুলক ও মাহাদী হাসান মল্লিক। এরা দুজন একসময় ডেসটিনিতে কাজ করতেন। সেখান থেকে এমএলএম ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তারা অনলাইনে এই প্রতারণা করে আসছিলেন। এরা এক মাসে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন।

ইমাম হোসেন বলেন, ‘চক্রটির সদস্যরা এটাকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বলেন। এদের মাধ্যমে প্রতারিতদের বেশির ভাগই নারী। পুলিশ এদের খোঁজ নিচ্ছে। তারা ঘরে বসে কিছু অর্থ আয় করার লোভে এই চক্রটির ফাদে পা দেয়।’

সিআইডি সূত্র জানায়, চক্রটি প্রথমে একটি অনলাইন গ্রুপ খুলে তাদের ব্যবসার বিষয়ে প্রচারণা শুরু করে। কৌশল হিসেবে তারা বলত, তাদের এখানে টাকা বিনিয়োগ করলে ১৫ দিনে অথবা ৩০ দিনে দ্বিগুণ করে দেবে। মাত্র এক হাজার ৮৫০ টাকা জমা দিয়ে তাদের কম্পানির সদস্য হওয়া যাবে বলে চক্রটি প্রচার চালাত।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, নতুন সদস্য আনতে চক্রটির ভিন্ন কৌশল ছিল। চক্রের সদস্যরা প্রতি নতুন সদস্যের জন্য ৫০ টাকা করে দিতেন। এভাবে দেড় শ সদস্য আনতে পারলে ‘স্টার’ সদস্য ঘোষণা করতেন তারা। আর স্টার সদস্যকে আইফোন, গাড়ি ও বিদেশে ট্যুরের প্রলোভন দেখানো হতো। এসব প্রলোভনে একেকজন কমপক্ষে তিন হাজার নতুন সদস্য নিয়ে আসতেন। আবার বেশি সদস্য আনার জন্য কিছু স্টার সদস্যকে নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন তারা।

তিনি আরো বলেন, ‘এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার এখতিয়ার আমাদের নেই, তবে আমরা এ বিষয়ে সুপারিশ করব। তারা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকাগুলো বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে কিছু তারা বিনিয়োগ করেছেন, কিছু টাকা দিয়ে বিশাল বিশাল অনুষ্ঠান করেছেন। কিছু টাকা ব্যাংকে রেখেছেন।’

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/60779
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ