Printed on Thu Dec 02 2021 9:10:52 PM

চীন আগ্রাসন: এবার টার্গেট তাজাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
টার্গেট তাজাকিস্তান
টার্গেট তাজাকিস্তান
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারত, ভূটানের পর এবার চীনের নজর তাজাকিস্তানের দিকে। সম্প্রতি চীনা ইতিহাসবিদ ইয়ো ইয়াও লু একটি প্রতিবেদনে দাবি করেন, একসময় পুরো পামির মালভুমি ছিলো চীনের। তাই এ ভূমি চিনের ফেরত নেয়া উচিত। তাঁর এই প্রতিবেদনের পক্ষে উঠে-পড়ে লেগেছে চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোও। তারাও খুঁজতে নেমেছে চীনের অতীত ইতিহাস। সেইসঙ্গে তাজাকিস্তান থেকে পামির মালভূমি ছিনিয়ে নেয়ার জন্য চীন সরকারকে সাহায্য করছে। এদিকে চিনের এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে কাঁপছে তাজাকিস্তান।

রিপাবলিকান অব তাজিকিস্তান। মধ্য এশিয়ার পাহাড় ঘেরা ছোট্ট একটি গরীব দেশ। দক্ষিণে আফগানিস্তান, পশ্চিমে উজবেকিস্তান, উত্তরে কিরগিজস্তান এবং পূর্বে রয়েছে চীনের অবস্থান। সামান্য একটি করিডোরের মাধ্যমে পাকিস্তানেরও প্রতিবেশী তারা। ইতিহাসে অসংখ্য রাজার শাসনাধীনে থাকা এই তাজিকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৯১ সালে। এরপরই গৃহযুদ্ধের মুখে ব্যাপক ক্ষতি হয় তাজিকিস্তানের অর্থনীতির।

এই সুযোগে ২০১০ সালে একটি সীমান্ত চুক্তি হয় চীন-তাজাকিস্তানের। সেই চুক্তি অনুযায়ী তারা চীনকে ১১৫৮ বর্গ কিলোমিটার জায়গায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আর চীন তাজাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে ওই স্থানে তৈরি করে বিমানবন্দর। এটাকে ভালো চোখে দেখছে না রাশিয়া। তাদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে চীনারা। কারণ মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলোর ওপর দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব রয়েছে রাশিয়ার। আর যুক্তরাষ্ট্রও চায় না এ অঞ্চলে চীনের আধিপত্য আরো শক্তিশালী হোক।

কিন্তু ইতিহাসবিদ ইয়ো ইয়াও লু ওই প্রতিবেদনে জানান, ১৯১১ সাল থেকে চীনের নীতিতে হারানো জমি পুনর্দখলের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তারা বেশ কিছু হারানো জমি ফেরত পেয়েছে। তবে আরও অনেক জমি বাকি আছে। ওই ইতিহাসবিদের দাবি, পামির মালভূমি একটি প্রাচীন এলাকা। আর সেখানে প্রথম থেকেই অধিকার চীনেরই ছিল। কিন্তু ১২৮ বছর ধরে পামিরের পার্বত্য অঞ্চল আর চীনের দখলে নেই।

চীনা গণমাধ্যমগুলো পামির মালভূমিতে চীনের অধিকারের পক্ষে একের পর এক প্রতিবেদন ছাপানোয় নড়েচড়ে বসেছে চীনা সরকারও। তাই তাজিকিস্তানের পামির মালভূমি উদ্ধারে তারা বিভিন্ন কৌশল নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। চীনাদের এই তৎপরতা নজর কেড়েছে শক্তিশালী দেশগুলোর।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি ভারতের লাদাখ ছাড়াও চীনের আরো ২০টি সীমান্তে সংঘাত চলছে। এছাড়া স্বশাসিত জিংজিয়াং প্রদেশে উইঘুর বিদ্রোহীদের সামলাতেই সেখানে মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক চীনা সেনা সদস্য। এছাড়া মঙ্গোলিয়া, তাজাকিস্তান, কিরঘিজস্তান, কাজাখস্তান, লাওস, কম্বোডিয়া, কোরিয়া, এমনকী, নেপাল, ভুটানসহ সব প্রতিবেশীর সঙ্গেই চীনের ভূখণ্ড নিয়ে ঝামেলা চলছে।

এখানেই শেষ নয়, দক্ষিণ চিন সাগরে আধিপত্য নিয়েও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও দ্বন্দে জড়িয়েছে চীন। চারপাশের সব ভূখণ্ড ও জলপথ একসময় তাদের ছিল বলেও দাবি করছে চীন সরকার। তাই একসাথে এতো ফ্রন্টে লড়াই সামাল দেয়া ড্রাগনদের পক্ষে সহজ নয়।।

অন্যদিকে, দিনদিন অবনতি হচ্ছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। আরো করোনা মহামারীর কারণে ইউরোপের দেশগুলোর সাথেও চীনের দূরত্ব বাড়ছে। তাই এই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় চীন কতোটা সফল হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েক বছর।
লেখক : ফেরদৌস মামুন, সাংবাদিক


যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/9510
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ