Printed on Sat May 28 2022 7:34:33 PM

৮৫ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
টিকা পেয়েছে
টিকা পেয়েছে

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে যেখানে মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে, সেখানে আমাদের টার্গেটেড জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশই টিকার আওতায় চলে এসেছে।


১৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ কোটি ডোজ টিকা আমরা দিতে পেরেছি। টিকার জন্য আমাদের টার্গেটেড জনগোষ্ঠী ১১ কোটি ৫৫ লাখ, তাদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশকেই আমরা টিকার আওতায় আনতে পেরেছি।


তিনি বলেন, আমাদের হাতে এখনও মজুদ আছে দশ কোটি টিকা। এরপরও বেশকিছু লোক এখনও টিকা নেয়নি। তাদের মধ্যে অনীহা আছে। আমি আহ্বান করব, এখনও যারা টিকা নেননি, তারা দ্রুত টিকা নিয়ে নিন।


আরও পড়ুন: সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


জাহিদ মালেক বলেন, করোনার সময়ে আমাদের চিকিৎসক-নার্সরা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, এখনও করে যাচ্ছেন। চিকিৎসক-নার্সসহ অনেক স্বাস্থ্যকর্মীকে আমরা হারিয়েছি। শুধু তারা নিজেরাই নয়, তাদের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই, আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তারা এ ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে সেবা দিয়েছেন, তাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সবসময় শ্রদ্ধা থাকবে।


জাহিদ মালেক বলেন, ‘ছোটবেলায় আমাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ১০-১২টা করে। মায়েরা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। প্রতিবছর আমরা দুই আড়াই কোটি বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি। আমরা যে ১০ কোটি মানুষকে টিকা দিয়েছি তারা সুন্দর করে লাইন ধরে নিয়েছেন। কোনও সমস্যা হয়নি। অথচ ইউরোপে দেখেন তাদের সব ট্রান্সপোর্ট বন্ধ হয়ে আছে ভ্যাকসিন নেবে না বলে। আজকে ফ্রান্সে, নেদারল্যান্ডসে, অস্ট্রেলিয়ায় পিটাপিটি হচ্ছে রাস্তাঘাটে। এত সভ্য জাতি হিসেবে দাবি করে তারা, তারা ভ্যাকসিন নেবে না। তারা গাড়ি ভাঙচুর করেছে, কিন্তু বাংলাদেশে এ রকম ঘটনা ঘটেনি। কাজেই আমি আমাদের দেশের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা এই তুলনায় অনেক এগিয়ে আছি। আমরা তাদের থেকে অনেক বেশি সিভিলাইজড, সভ্য। সে জন্য বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো আছে।


ভ্যাকসিন নিয়েছে বলে আজকে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা কম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ২৮ হাজার মৃত্যু, ভারতেও ৫ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রের ৯ লাখ। ইউরোপের প্রতিটি দেশের দুই তিন লাখ লোক মারা গেছে।’


মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সারা বাংলাদেশের হাসপাতালে দেড় হাজার রোগী আছে। আমাদের ১৩-১৪ হাজার বেডের প্রায় সবই এখন খালি। আমাদের ইকোনোমিক গ্রোথ ৭ শতাংশে উঠে গেছে, তার কারণ হলো সবাই কাজ করতে পারছে। এ কারণে আজকে ৩০ শতাংশ রফতানি বেড়ে গেছে। মানুষ এখানে অর্ডার দিচ্ছে, কারণ বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে। আমি মনে করি, আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ চিকিৎসক-নার্সরা যে কাজ করেছে, তার ফল আজকে সারা বাংলাদেশ পাচ্ছে। দেশ সুস্থ আছে বিধায় আজকে স্কুল খুলে দেওয়ার কথা হয়েছে।’


‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই মাসের শেষে খুলে দেওয়া হতে পারে। কীভাবে এটা হচ্ছে, কারণ মনে সাহস চলে আসছে। এই সাহসটা আমরা জুগিয়েছি। ভ্যাকসিন ও চিকিৎসার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’


স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা আহমেদুল কবীর, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


ভয়েসটিভি/আরকে

যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/66791
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ