Printed on Sat May 21 2022 5:36:17 AM

ঢাকাই সিনেমায় সেকালের হিট নায়িকারা

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
ঢাকাই সিনেমা
ঢাকাই সিনেমা
বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে একসময় ছিলো সোনালি যুগ। এর শুরুটা ছিলো ষাটের দশক। এই ধারা বজায় ছিলো নব্বই দশক পর্যন্ত।

নায়ক কেন্দ্রিক ইন্ড্রাস্ট্রি হলেও নায়িকাদের প্রভাবও কম ছিলোনা। অনেক সময় ছবি হিট হতো নায়িকাদের জন্যই। কেমন ছিলেন ঢাকাই সিনেমায় সেকালের হিট নায়িকারা। জানাবো সে খবর।

বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে বলা হয় স্বর্ণালী যুগের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরীকে। তিনি ১৯৬৪ সালে জনপ্রিয় পরিচালক ও অভিনেতা সুভাষ দত্তের হাত ধরে সিনেমায় আসেন।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ ছবির মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েই হিট হয়ে যান।

তখন কবরীর ছবি মানেই হিট, আর ব্যপক ব্যবসাসফল। নায়ক রাজ রাজ্জাকের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার কালজয়ী জুটি। রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেধে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন কবরী।

কবরীর হিট সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে, নীল আকাশের নীচে, যে আগুনে পুড়ি, অবাক পৃথিবী, সাত ভাই চম্পা, ময়নামতি, বাহানা, চোরাবালি, মতিমহল, রংবাজ, দেবদাস, সুজন সখিসহ অসংখ্য।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী বলা হয় শাবানাকে। সাবলীল অভিনয়গুন আর সুশ্রী হাসিমাখা বদনের অধিকারিনী শাবানা পেয়েছেন বিপুল জনপ্রিয়তা।

ষাট, সত্তর ও আশির দশকের ব্যপক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি নায়িকা হিসেবে ছিলেন হিটের তালিকায়।

নায়িকা হিসেবে শাবানা অভিনয় করেন জীবনসাথী, মাটির ঘর, লুটেরা, সখি তুমি কার, ভাত দে, অশান্তি, চাপা ডাঙ্গার বউ, দুই পয়সার আলতা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্তসহ অসংখ্য সিনেমায়। শাবানা মানেই সিনেমা হিট।

দর্শক উন্মাদনায় সেরা ছিলো শাবানা অভিনীত সিনেমাগুলো। তিনিই একমাত্র নায়িকা, যিনি সর্বাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

ফরিদা আখতার পপি নামের এক কিশোরীর আবির্ভাব হয় ঢাকাই সিনেমায়। যার ঠোঁটের কোণে সবসময় লেগে থাকে মিষ্টি হাসি। ষাটের দশকের শেষ দিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার।

তিনি চলচ্চিত্রে এসে হয়ে যান জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ববিতা। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সর্বপ্রথম পুরস্কার লাভ করার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

জ্বলতে সুরুজ কি নীচে, সংসার, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, আলোর মিছিল, বাঁদী থেকে বেগম, ডুমুরের ফুল, বসুন্ধরা, গোলাপী এখন ট্রেনে, নয়নমনি, লাঠিয়াল, এক মুঠো ভাত, ফকির মজনু শাহ, সূর্যগ্রহণ, কসাই, জন্ম থেকে জ্বলছিসহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন ববিতা।

যে ছবিগুলোতে শুধু তিনি হিট নায়িকাই নন, কালোত্তীর্ণ নায়িকা হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

নন্দিতা বসাক ঝর্না শিশু শিল্পী হিসেবে ‘আসিয়া’ সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। পরে শবনম নামে নায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ ছবিতে।

১৯৬১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র হারানো দিনের মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ১৯৬২ সালে উর্দু চলচ্চিত্র চান্দা ছবির মাধ্যমে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যান তিনি।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে শবনম পাকিস্তানের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে চিহ্নিত হন।

সত্তর দশকের শুরুতে শবনম ললিউডে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন।

ঢালিউডেও তিনি নায়িকা হিসেবে ব্যপক হিট হন। শবনম কখনো আসেনি, আযান, দর্শন, বেগানা, জোয়ারভাটা, নাচঘরসহ ষাট থেকে আশির দশকের প্রচুর ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেন। তখনকার সময়ের ব্যপক জনপ্রিয় জুটি হয়ে উঠেছিলো শবনম-রহমান।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমা বেদের মেয়ে জোস্নার নায়িকা অঞ্জু ঘোষ আশির দশকের ব্যপক হিট নায়িকা।

শুধু ঢাকাই সিনেমায় নন, কলকাতার সিনেমায়ও তিনি ছিলেন হিট। ফোক ফ্যান্টাসি সিনেমার নায়িকা বলা হয় তাঁকে।

১৯৮২ সালে এফ, কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রজীবন শুরু অঞ্জু ঘোষের। তার অভিনয় আর উম্মাতাল নৃত্য দর্শক হৃদয়ে ঝড় তুলত।

অঞ্জু এক বছরে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন, যেগুলো ব্যপক ব্যবসাসফল ছিলো। অঞ্জু ঘোষের হিট সিনেমার তালিকায় আছে সওদাগর, নরম গরম, বড় ভালো লোক ছিল, আবে হায়াত, রাই বিনোদিনী, পদ্মাবতী, আশীর্বাদ, প্রান সজনী, আয়না বিবির পালা, বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না, প্রেম যমুনার মতো ছবি।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/66898
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ