Printed on Thu May 19 2022 2:00:37 AM

ঘুচেছে ‘মাতাল গ্রামে’র বদনাম, দাবার নেশায় চমকে দিয়েছেন যুবক

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ব
দাবার
দাবার
ইচ্ছে থাকলে কী না হয়! একক প্রচেষ্টাতেও হয়। ছিল ‘মাতালদের গ্রাম’, হয়ে গেল ‘দাবা গ্রাম’! বিরাট বদনাম থেকে বিপুল সুনামে প্রত্যাবর্তন!
ভারতের কেরলের মারোত্তিচালের পতন ও উত্থান অবিশ্বাস্য। এককালের মাতাল আর জুয়াড়িদের গ্রামে আজ ঘরে ঘরে দাবা খেলা হয়। ক্লাবে, দোকানে, মাঠেঘাটেও৷ হ্যাঁ, একজন মানুষই এই বিপ্লব করেছেন। যুবক উন্নিকৃষ্ণন বদলে দিয়েছেন তার জন্মভূমিকে।

পুরো ঘটনা বুঝতে যেতে হবে ফ্ল্যাশব্যাকে। জানতে হবে যুবক উন্নিকৃষ্ণনের ব্যক্তি জীবনের কথাও। আসলে একটা সময় গ্রাম ছেড়ে অল্প দূরের ছোটো শহর কল্লুরে থাকতেন উন্নিকৃষ্ণন। মারোত্তিচাল সেই সময় নেশাড়ুদের গ্রাম বলেই পরিচিত ছিল৷ কিন্তু কল্লুরে থাকাকালীন দাবা শিখলেন উন্নিকৃষ্ণন। মনে মনে ছিল এক সংকল্প! তবে ছোটবেলাতেই দাবার প্রেমে পড়েন তিনি। ছিলেন কিংবদন্তি ববি ফিশারের অন্ধ ভক্ত। আসলে দাবা শিখবেন বলেই গ্রাম ছাড়েন। থাকতে শুরু করেন কল্লুরে। সংকল্প পূরণ হল যুবকের। ফিরে এলেন গ্রামে।

স্বপ্ন আর বাস্তব তো এক না, অতএব আয়-উপায়ের জন্য বাড়ির কাছেই একটা চায়ের দোকান খোলেন উন্নিকৃষ্ণন। এখান থেকেই বিপ্লবের শুরু। স্থানীয়রা সেই দোকানে চা খেতে আসা-যাওয়া করতেন। এই সুযোগে দাবা নিয়ে নানা মজার গল্প করতেন উন্নিকৃষ্ণন। এভাবেই গ্রামবাসীদের অজান্তে তাদের দাবা খেলাটা সম্পর্ক প্রাথমিক ধারণা দিতে থাকেন। যদিও শুরুতে যুবক চা বিক্রেতাকে খুব বেশি পাত্তা দেয়নি স্থানীয়রা। কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র নন উন্নিকৃষ্ণনও। শেষ অবধি কাজে দিল যুবকের গ্রাম বদলের স্ট্র্যাটেজি। শুরুতে এক-দু’জন আগ্রহী হলেন দাবায়। তারা দাবা খেলাও শুরু করলেন। ওদের দেখে আরও কয়েকজন, তাদের দেখে আরও অনেকে দাবার নেশায় পড়লেন।

জানা গিয়েছে, উন্নিকৃষ্ণন একাই তার গ্রামের প্রায় সাতশো জনকে দাবা খেলার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তাতেই ম্যাজিক ঘটে! মদ, জুয়ার নেশা ছাড়েন মারোত্তিচালের মানুষ, উন্নিকৃষ্ণননের মতোই দাবার প্রেমে পড়ে যান সকলে। এমন অবস্থা হয় যে একদিনও দাবা না খেলে থাকতে পারেন না গ্রামের মানুষ৷ ঘটে যায় ‘দাবা’নল! দেখতে দেখতে গাঁয়ের প্রবীণরাও দাবা খেলার মজা নিতে শুরু করেন। শামিল হন মহিলারাও। একেকজন হয়ে ওঠেন পাকা খেলোয়াড়।

আজ আর চায়ের দোকান নেই। উপার্জনের জীবনেও উন্নতি হয়েছে ‘বিপ্লবী’ উন্নিকৃষ্ণনের। বর্তমানে তিনি একটি রেস্তরাঁর মালিক। তবে নিজের গ্রামেই রেস্তরাঁটি। চা-কফি আর টুকটাক খাবার পাওয়া যায় সেখানে।

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের স্কুলে পড়ানো হবে ‘মুন্নি বদনাম হুয়ি’ গান

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/69752
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ