Printed on Tue Sep 28 2021 8:24:22 PM

নানা উৎস থেকে বিপুল আয়, দ্বিতীয় ধনী তালেবান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্ব
দ্বিতীয় ধনী তালেবান
দ্বিতীয় ধনী তালেবান
আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর ৮০ হাজার তালেবান জেহাদি ৩ লাখ সেনা ও পুলিশকে নাস্তানাবুদ করে চলেছে । গত দু’মাসে একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার দখল নিচ্ছে তারা। সামরিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ধর্মীয় উন্মাদনার পাশাপাশি বিপুল অর্থশক্তি এই সাফল্যের বড় কারণ।

ফোর্বস পত্রিকায় প্রকাশিত ২০১৬ সালের তালিকায় বিশ্বের পঞ্চম ধনী জঙ্গিগোষ্ঠী ছিল তালেবান। ২০১৮ সালে অবস্থান পাল্টে যায়। তারা দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নেয়। প্রথম স্থানে রয়েছে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লা। এছাড়া অন্যদের মধ্যে হামাস তৃতীয়, আল কায়দা চতুর্থ ও আইএস পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

ওই তালিকায় তালেবানের আনুমানিক সম্পদ ছিল ৮০ কোটি ডলার। ভারতীয় টাকায় সেটি প্রায় ছ’হাজার কোটি। তবে ২০২০ সালে তা দেড়শো কোটি ডলার অর্থাৎ প্রায় ১১ হাজার ১০০ কোটি ভারতীয় টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আমেরিকার গোয়েন্দারা।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, তালেবানের অর্থ আমদানির বৃহত্তম উৎস হল খনি। দক্ষিণ আফগানিস্তানের অধিকৃত অঞ্চল থেকে নিকেল, টাংস্টেন, সোনা, মূল্যবান পাথর, প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করে তারা। যা থেকে আয় বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ৮০০ বৈধ খনির অর্ধেকেরও বেশি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বৈধ খনিগুলি থেকেও নিয়মিত তোলা আদায় চলে তালেবানের। এছাড়াও ড্রাগের ব্যবসা এবং চোরাচালান থেকে বছরে আয় প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। নীলকর সাহেবদের ধাঁচেই অধিকৃত এলাকায় কৃষকদের জোর করে আফিম চাষ করানো হয়।

মোল্লা মহম্মদ ওমর প্রতিষ্ঠিত জঙ্গিগোষ্ঠী এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও হাত পাকিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় অনেক দেশেই আছে তালেবানের বেনামি ব্যবসায়ী শাখা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি বৈঠক চলাকালীন গত কয়েক বছরে জমি কেনাবেচা আর ইজারা দেওয়ার ব্যবসাতেও হাত পাকিয়েছে তালেবান। গত বছর এই খাতে এসেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

জানা যায়, তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত কর দিতে হয়। কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী এমনকি পশুপালকদেরও নিস্তার নেই। এ বাবদ বছরে রোজগার প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা।

তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ড্রাগ তৈরির কারখানা রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চক্রের। আদায় হয় বিপুল টাকা। আমেরিকার বিমানহানাও সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি কারখানাগুলি।

বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বাণিজ্য সংস্থার থেকেও নিয়মিত তোলা আদায় করে তালেবান। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা সংস্থাকে ‘মাসোহারা’ দিতে হয়।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতার থেকেই সরকারি-বেসরকারি অর্থসাহায্য পৌঁছে তালেবানের কাছে। আসে পাকিস্তান থেকেও। বছরে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিদেশি অনুদান পায় দলটি।

প্রতিরক্ষা খরচের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ওয়াশিংটন মুখাপেক্ষী আশরাফ গনি সরকার। ২০২০ সালের হিসেবে আফগান সরকার আদায় করা রাজস্বের থেকে মাত্র ২৬ দশমিক ২ কোটি ডলায় অর্থাৎ ভারতীয় দুই হাজার কোটি টাকা প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। আমেরিকা থেকে সাহায্য আসে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার। সেনা প্রত্যাহারের পর সেই সাহায্য কমার সম্ভাবনা প্রবল। তাই মনে করা হচ্ছে অর্থশক্তির নিরিখেই তালেবানের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।

আরও পড়ুন : আবারও ফিরে আসলো তালেবান শাসন : পালাচ্ছে সেনাবাহিনী

ভয়েস টিভি/ এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51052
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ