Printed on Mon Oct 18 2021 5:47:45 PM

নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর যতো মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মভিডিও সংবাদ
নান্দনিক
নান্দনিক
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী দিয়ে নজর কেড়েছে বেশ কিছু মসজিদ। এরমধ্যে আজ তুলে ধরছি কিছু মসজিদের পরিচিতি।

ফয়সাল মসজিদ
পাকিস্তানে ইসলামি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত ফয়সাল মসজিদ। পাকিস্তানের বৃহত্তম এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। তুর্কি স্থপতি ভেদাত ডালোকের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদটি নির্মাণে অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ। তাই তার নামেই এর নামকরণ হয়।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এটি দুনিয়ার বৃহত্তম মসজিদ ছিল। মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায় হাসান দ্বিতীয় মসজিদ নির্মাণ এবং সৌদি আরবে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী সম্প্রসারণের পর বর্তমানে এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মসজিদ। একইসঙ্গে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম মসজিদ।

বাদশাহী মসজিদ
পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত বাদশাহী মসজিদ পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। ১৬৭১ থেকে ১৬৭৩ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব এটি নির্মাণ করেন। লাহোরের ইকবাল পার্কে অবস্থিত মসজিদটি পাকিস্তানে ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। ফলে এটি পর্যটকদের কাছেও একটি আকর্ষণীয় স্থান।

মূল মসজিদে ৫৫ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। বারান্দা ও মসজিদ চত্বরে নামাজ আদায় করতে পারেন আরও ৯৫ হাজার মানুষ। ১৬৭৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ৩১৩ বছর ধরে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মসজিদ ছিল।

সুলতান মসজিদ
সিঙ্গাপুরের মাস্কট স্ট্রিট ও ক্যাম্পং গ্ল্যাম রোচর এলাকার নর্থ ব্রিজ রোডে অবস্থিত সুলতান মসজিদ দেশটির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্মাণের পর থেকে এতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়ায় মূল স্থাপত্য এখনও অবিকৃত রয়েছে। তবে ১৯৬০ সালে মসজিদের প্রধান হলে কিছু উন্নয়ন কাজ হয়েছে। ১৯৯৩ সালে একটি চূড়া সংযোজন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ এটি সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা পায়।

হাসান দ্বিতীয় মসজিদ
মরক্কোর বৃহত্তম ও পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম মসজিদ হাসান দ্বিতীয় মসজিদ। মরক্কোর উপকূলীয় শহর কাসাব্ল্যাঙ্কায় এর অবস্থান। মসজিদের তিনভাগের একভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। তাই এটাকে ভাসমান মসজিদও বলা হয়। বহুদূরের কোনও জাহাজ থেকে দেখলে মনে হবে, সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে মসজিদে এবং মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর! আড়াই হাজার পিলারের ওপর নির্মিত মসজিদটির নকশা করেছেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৯৩ সালে। মরক্কোর বাদশা দ্বিতীয় হাসান এটি তৈরির উদ্যোগ নেন। ফলে তার নামেই এর নামকরণ হয়।

তাজ উল মসজিদ
তাজ উল মসজিদের আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় মসজিদের মুকুট। এটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপাল জেলায় অবস্থিত। দিনের বেলায় এটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মসজিদের গোলাপি রঙের চূড়ায় ১৮ তলাবিশিষ্ট দুটি মিনার রয়েছে। আলাদা করে রয়েছে আরও তিনটি গম্বুজ। দিল্লির জামে মসজিদের মতো মার্বেল পাথরের মেঝে যেন এ অঞ্চলে মোগল ঐতিহ্যের জানান দেয়। মসজিদ চত্বরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি ট্যাংক। এর প্রবেশদ্বার দ্বিতলবিশিষ্ট।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/54303
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ