Printed on Sat Oct 16 2021 2:46:23 AM

নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি নেই

আমিরুল ইসলাম
জাতীয়
নারীবান্ধব
নারীবান্ধব
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের স্বাস্থ্যসেবাখাত গোটা বিশ্বে প্রশংসনীয় সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত স্বল্প মূল্যে মৌলিক চিকিৎসা চাহিদা পূরণ ব্যাপক উদ্যোগ, পুষ্টি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সূচকসমূহের ব্যাপক অগ্রগতিতে স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতে অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশকে এগিয়েছে বহুদূর। সে হিসেবে বলা যায়, যুব ও নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায়ও অগ্রগতি হয়েছে। যদিও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশই অসুস্থ নারী রোগীর মনে সাহস জোগাতে পারে। শঙ্কা দূর করতে পারে। এজন্যে দেশে নারীবান্ধব হাসপাতাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত একটি কার্যক্রম যা ২০০৭ সাল থেকে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

তথ্য মতে, বর্তমানে ২৬টি হাসপাতালে (২১টি সদর হাসপাতাল এবং ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) নারীবান্ধব হাসপাতাল কর্মসূচির কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ১৭টি হাসপাতাল নারীবান্ধব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আরও ২টি হাসপাতাল স্বীকৃতিপ্রাপ্তির অপেক্ষায় আছে।

নারীবান্ধব হাসপাতাল সম্পর্কিত বিশেষ কর্মসূচিতে মোট ৮টি সেবা কর্নারের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়। সেবা কর্নারগুলো হচ্ছে-

১. বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার পরীক্ষা কর্নার
২. বিনামূল্যে জরায়ু নেমে আসা ও ফিষ্টুলা বিষয়ে কাউন্সেলিং কর্নার
৩. সহিংসতার শিকার নারীর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ কর্নার
৪. গর্ভবতীর স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে পরামর্শ ও তথ্য কর্নার
৫. পরিবার পরিকল্পনা সেবা বিষয়ক পরামর্শ ও তথ্য কর্নার
৬. রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা ও রক্ত প্রদানকারীদের তালিকা তৈরী
৭. শিশু সেবা কর্নার
৮. পরামর্শ গ্রহণ/ তথ্য কর্নার

নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে মাতৃ মৃত্যু রোধে সফলতা

দেশের স্বাধীনতার পর ১৯৮৬ সালের জরিপ অনুযায়ী- প্রতি লাখ জীবিত শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ৬৪৮ জন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হতো। ২০১৫ সালে মাতৃ মৃত্যু কমে ১৮১ জনে দাঁড়ায়। ২০২২ সালের মধ্যে মাতৃ মৃত্যু প্রতি লাখে কমিয়ে ১২১ জনে আনার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) তা কমিয়ে ৭০ জনে আনার লক্ষ্য কার্যক্রম চলছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে ও মৃত্যুরোধে এখনো পর্যন্ত সফলতার পরিচয় দিয়ে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক দেশ এখনো পর্যন্ত করোনার সংক্রমণরোধে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে না পারলেও বাংলাদেশে ইতোমধ্যে অর্ধকোটি মানুষের টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মীরা পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষারব্যবস্থা পাচ্ছে বলে জানিয়েছে।



কোভিড-১৯ টিকাদানে কর্মরত ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের স্টাফ নার্স হোসনে আরার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী- পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার পর্যাপ্ত সরবরাহ আাছে। কিন্তু আমাদের নিজেদেরই যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হয়।



তিনি আরও জানান, আমাদের এখানে স্বাস্থ্যসেবায় যারা কাজ করছেন আর যারা সেবা নিতে আসছেন তারা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দেয়া যাবতীয় নির্দেশনা মেনে চলছেন। মাস্ক ছাড়া হাসপাতালে কেউ আসছেন না।



তবে এই প্রতিবেদক সরেজমিনে দেখতে পায়, কোভিড টিকা নিতে আসা সেবাগ্রহিতারা সামাজিক ‍দুরত্ব না মেনে পাশাপাশি বসে আছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. আহমদ ক্কুদরতে খোদা বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত এখানে করা সম্ভব হচ্ছে না। সেবাগ্রহিতারা সচেতনভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দেয়া যাবতীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. আহমদ ক্কুদরতে খোদাঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. আহমদ ক্কুদরতে খোদা


সরেজমিনে ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল ঘুরে অভ্যন্তরে পরিস্কার পরিচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে দেখা যায়। এ বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক ডা. আহমদ ক্কুদরতে খোদা বলেন, কোভিড কেন্দ্রিক পরিচ্ছন্নতা আমরা নিশ্চিত করেছি। ক্যামিক্যাল ও স্প্রে-মেশিন দিয়ে পরিস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।



তিনি আরও জানান, নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতালে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার আছে। ফলে সন্তানকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে না মায়েদের।



ডা. আহমদ ক্কুদরতে খোদা আরও জানান, নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত লোকবল নেই। এই হাসপাতালে নার্সের পোস্ট আছে ৩০ জনের, কিন্তু আছে মাত্র সাত জন। সেখানে তিন শিফটে রোগীকে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হয় না।

হাসপাতালে কোভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিতে আসা রোকসানা বেগমের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, মেসেজে প্রাপ্ত তারিখ অনুযায়ী টিকা দিতে আসছি। সিরিয়াল অনুযায়ী ডেকে টিকা প্রদান করেছেন নার্সরা। কোনো ধরনের অসহযোগিতার মধ্যে পড়তে হয়নি।

বাবলি দাশ নামে অন্য আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, আজ প্রথম ডোজ টিকা নিতে আসলাম। সিরিয়াল অনুযায়ী সুন্দর মতো টিকা দিয়েছে। সিনোপার্মের টিকা দিয়েছে। কোনো সমস্যা হয়নি টিকা নিতে এসে। নার্সদের ভালো ব্যবহার পেয়েছি।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/54974
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ