Printed on Sat Oct 16 2021 3:26:21 AM

একের পর এক নালায় মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
নালায়
নালায়
একের পর এক উন্মুক্ত নালা ও নর্দমায় পড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে চট্টগ্রামে। ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বুধবার নগরীর আগ্রাবাদে বিক্ষোভ করেছেন বাসিন্দারা। তারা সালেহ আহমদ (৫৭) ও বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নালায় পড়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ) পরস্পরকে দুষছে। চসিকের দাবি, সিডিএর উদাসীনতায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে সিডিএ বলেছে, নালার ওপর স্ল্যাব বসানোর দায়িত্ব চসিকের। স্ল্যাব না বসানোর ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ও তাদেরই।

বৃষ্টির মধ্যে গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমদ। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত সোমবার আগ্রাবাদ শেখ মুজিব সড়কে জেক্স মার্কেটের সামনে পা পিছলে উন্মুক্ত নালায় পড়ে নিখোঁজ হন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার লাশ উদ্ধার করেন। কিন্তু এক মাসেও হদিস মেলেনি সালেহ আহমদের।

আরও পড়ুন : এবার নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিখোঁজ

চসিকের ষষ্ঠ পরিষদের সাধারণ সভায় এ বিষয়ে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নাবিকের অসতর্কতায় জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে কখনো সমুদ্রের দোষ দেওয়া যায় না। একইভাবে নগরীতে যারা মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তারা জননিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করতে না পারলে তা প্রকল্পের দোষ নয়। মেগাপ্রকল্পসহ যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নগরীতে হচ্ছে, তাতে সমন্বয়হীনতার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে।’ সিডিএকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্র্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও দীর্ঘসূত্রতায় পরপর দুজন মানুষ নালায় পড়ে মারা গেল। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব ঘটনায় কষ্ট পেলেও প্রতিকারে আমার ক্ষমতা খুবই সীমিত। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্র্তৃপক্ষের প্রধান বা নির্বাহীরা সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা আমার এখতিয়ারবহির্ভূত। অথচ নগরীর সেবাপ্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের নেতৃত্বের অধিকার চসিকের।’

এ সময় মেয়র জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা ও জনভোগান্তির কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানে চসিক এবং চউক প্রকৌশলী পর্যায়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি সরেজমিন সমস্যা শনাক্ত করলেও সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের হলো, প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকায় কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী না হয়ে সিডিএর ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ঘটনার জন্য চসিকের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। এতে চউক ও চসিকের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এছাড়া গতকাল বিকেলে সাদিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে আমি মর্মাহত। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ঘটনার দায় আমিও এড়াতে পারি না। আগামীতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে  সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘যে খালে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী পড়ে মারা গেলেন, সেটি সিটি করপোরেশনের খাল। খালটা অনেক আগে থেকেই উন্মুক্ত। সেখানে স্ল্যাব বসানোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা স্ল্যাব না বসালে আমরা কী করতে পারি?’ তিনি আরও বলেন, ‘খাল ঢেকে দিলে পরিষ্কার করবে কীভাবে? ঘটনা যেখানে ঘটেছে, সেখানে কি ফ্লাইওভারের কাজ হচ্ছে? সেখানে কি পিলার বা গার্ডার পড়েছে? নগরীতে আমরা যেখানে ড্রেন করেছি, সেখানে স্ল্যাব বসিয়েছি। খালের ওপরে স্ল্যাব বসানোর দায়িত্ব সিডিএর নয়। কিছু একটা ঘটলেই সিডিএকে দোষ দেওয়া সিটি করপোরেশনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সাদিয়ার মৃত্যুতে সিডিএর কোনো দায় নেই। দায় দিতে হলে চসিকের দেওয়া উচিত।’
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/54606
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ