Printed on Fri Jan 21 2022 6:04:13 AM

সত্যি কি যুবতী নারীকে বলি দিতেই নীল নদ পানিতে ভরে উঠত !

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিডিও সংবাদ
নীল নদ
নীল নদ
নীল নদ পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি। এর তীরেই গড়ে উঠেছিল পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমিয়া। পৃথিবীর দীর্ঘতম এ নদের রয়েছে প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের আধার। দৃষ্টি মেললেই এর নীল জল আর বয়ে চলার শব্দ আপনাকে বিমোহিত করবে।

কথিত আছে নীল নদ শুকিয়ে গেলে কোনো যুবতী সুন্দরী রমনীকে বলি দিলেই এতে পানি উঠত। একে ঘিরে রয়েছে এমন নানা মিথ। নীল নদের অজানা কিছু বিষয় নিয়ে থাকছে আজকের প্রতিবেদন।

‘নীল নদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদীর নেই।’ কথাটি বলেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক ইবনে সিনা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, নীল নদের উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ প্রান্তের মাঝে এর দূরত্ব সর্বাধিক। এটি প্রবাহিত হয় বড় বড় পাথর ও বালুময় প্রান্তরের উপর দিয়ে। যাতে কোনো শ্যাওলা ও ময়লা-আবর্জনা নেই। তার মধ্যে কোনো পাথর বা কংকর সবুজও হয় না।

বিশ্বের দীর্ঘতম এ নদীর রয়েছে দুইটি উপনদী। একটি শ্বেত নীল নদ ও অন্যটি নীলাভ নীল নদ। এর মধ্যে শ্বেত নীল নদ দীর্ঘতর। শ্বেত নীল নদ আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল হতে উৎপন্ন হয়েছে।

নীলের উত্তরাংশ সুদানে শুরু হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত, প্রায় পুরোটাই মরুভূমির মধ্য দিয়ে। মিশরের সভ্যতা প্রাচীনকাল থেকেই নীল নদের উপর নির্ভরশীল।

মিশরের জনসংখ্যার অধিকাংশ এবং বেশিরভাগ শহরের অবস্থান আসওয়ানের উত্তরে নীলনদের উপত্যকায়। প্রাচীন মিশরের প্রায় সমস্ত সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এর তীরেই অবস্থিত।

বিশাল ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে নীলনদ ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিশেছে।বলাবাহুল্য যে,নদীটির পানির স্বচ্ছতার কারণেই এই রকম হয়ে থাকে।এছাড়াও আর সব নদ-নদীর পানি যখন কমে যায়, এর পানি তখন বৃদ্ধি পায়।

আর অন্যসব নদীর পানি যখন বৃদ্ধি পায়, এর পানি তখন কমে যায়। তবে বর্তমানে যে নীল নদ দেখা যায় তার পেছনে রয়েছে অনেক গল্প।

প্রচলিত মিথ অনুযায়ী, এক সময় নীল নদের পানি প্রবাহের জন্য এখানে সুন্দরী নারীকে উৎসর্গ করা হতো। ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দের আগ পর্যন্ত মিশরীয়রা খ্রিস্টান ছিল। এ সময়ে মিশরের এই নীল নদ প্রতি বছর শুকিয়ে যেত।

সেসময় মিশরীয়রা একটি কুসংস্কার মেনে চলত। সেটি ছিল শুকিয়ে যাওয়া নদীতে কোনো পিতামাতাকে রাজি করিয়ে তাদের সুন্দরী, ষোড়শী এবং কুমারী মেয়েকে অলংকার ও সুন্দর পোশাক পরিয়ে নীল নদের শেষ সীমানায় যেখানে ডুবন্ত পানি থাকত সেখানে ভাসিয়ে দেয়া হতো।

এদিনটিকে তারা ঈদের দিনের মতো আনন্দে পালন করতো। রাজা বাদশাহরা নিজেরা উপস্থিত থেকে সব আয়োজন তদারকি করতেন। উৎসবে কবিতা আবৃত্তি থেকে শুরু করে গান, নাচ সবই করতো। এদিন সাদা গরুর বাছুর ও মুরগি জবাই করা হত ভোজের জন্য। সবই সাদা রঙের হতো।

অন্য রঙের কোনো কিছু তারা জবাই করতো না। তাদের ধারণা ছিল নীল নদকে এসব উপহার দিয়ে সন্তুষ্ট করতে হবে। না হয় নীল নদ আর পানি প্রবাহ করবে না।এই নিষ্ঠুর নারী বলি প্রথা মিশরে যুগ যুগ ধরে চলে আসছিল।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুখ (রাঃ) খেলাফতের সময় বিখ্যাত সাহাবি হজরত আমর ইবনে আছা (রাঃ) নেতৃত্বে ইসলাম কায়েমের জন্য ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে যখন মিশর বিজয়ী হলো। মিশরীয় একদল লোক প্রতি বছরের মতো এবারো নারী বলি দেয়ার অনুমতি আনতে বিখ্যাত সাহাবি হজরত আমর ইবনে আছা (রাঃ) কাছে যায়।

তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাদের জানান, ইসলাম কখনো এ ধরণের কুসংস্কার সমর্থন করে না। তাই অনুমতি দেননি।

সে বছর ঘটনাক্রমে দেখা গেল, নীল নদে পানি আসেনি। তখন চাষাবাদের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়। এমনকি যাদের পেশা চাষাবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে।

আবার অনেকেই পুনঃরায় নীল নদকে সন্তুষ্ট করতে এক কুমারীকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেয়। হজরত আমর ইবনে আছা (রাঃ) তৎক্ষণাত চিন্তিত হয়ে খলিফা হজরত ওমর ফারুখ (রাঃ) কাছে সমাধান চেয়ে বিশেষ দূত পাঠান।

সব ঘটনা জানতে পেরে খলিফা কুমারী উৎসর্গ করার রীতি বন্ধ করায় খুশি হন এবং সাহাবিকে ধন্যবাদ জানান। মহান আল্লাহ তায়ালার নামে একটি পত্র লিখেন খলিফা হজরত ওমর (রাঃ)। এরপর তিনি দূতের মাধ্যমে মিশরের সাহাবি হজরত আমর ইবনে আছা (রাঃ) কাছে পত্রটি পাঠান।

পত্রের মধ্যে ছিল ছোট্ট একটি চিরকুট। আর পত্রে লেখা ছিল শুকিয়ে যাওয়া নীল নদের মাঝখানে চিরকুটটি রেখে দ্রুত চলে আসতে।

খলিফা হজরত ওমর ফারুখ (রাঃ) এর নির্দেশ অনুযায়ী, চিরকুটটি সাহাবি হজরত আমর ইবনে আছা (রাঃ) নীল নদের মাঝখানে রেখে আসেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, চিরকুটটি রেখে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নীল নদ পানিতে পূর্ণ হতে শুরু করল। একরাতের মধ্যেই ১৬ গজ উচ্চতায় পানির প্রবাহ শুরু হয়ে গেল। যা অন্য সময়ের তুলনায় ছয় গজ বেশি।

সেই থেকেই নীল নদের পানি প্রবাহ শুরু হয়ে আজো তা প্রবাহমান রয়েছে।

ভয়েস টিভি/আইএ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/60252
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ