Printed on Wed Dec 01 2021 12:22:03 PM

নোবেল পুরস্কার পেয়েও গ্রহণ করেননি যাঁরা

তানজিলা বাবলী, ভয়েস টিভি
বিশ্বভিডিও সংবাদ
নোবেল পুরস্কার
নোবেল পুরস্কার
এ যাবৎকালে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও মূল্যবান অ্যাওয়ার্ড বলতে নোবেল পুরস্কারকে বুঝানো হয়। কার স্বপ্ন নেই এই সম্মাননার। পুরো বিশ্ব মুখিয়ে থাকে এ পুরস্কার ঘোষণার আশায়। তবে আর্শ্চের বিষয় হলোও সত্য অন্তত দুইজন নোবেল বিজেতা হয়েও তা গ্রহণে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।

কেউ আবার জনপ্রিয়তার ভয়ে নোবেল পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আবার কয়েকজন নোবেল পুরস্কার পেয়েও তা নিতে পারেনি। আবার নিয়েও তা প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছে। আজ জানাবো তাদের কথা-

১৯৬৪ সালের অক্টোবর মাসে সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ বিজেতা জাঁ পল সাত্রে পুরষ্কার নিতে অস্বীকার করেন। ৫৯ বছর বয়সী এই সাহিত্যিকের বক্তব্য ছিল তিনি সব সময় আনুষ্ঠানিক সম্মান গ্রহণ পছন্দ করতে না। কারণ তিনি ‘প্রাতিষ্ঠানিক রূপে’ পরিচিত হয়ে উঠতে চান না। তিনি জানান নোবেল গ্রহণে অস্বীকারের পেছনে তাঁর একটি ভীতিও কাজ করছে, যে এরপরে তাঁর লেখায় হয়ত সীমাবদ্ধতা চলে আসবে। তার পরে তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ সাহিত্যিক প্রসঙ্গে নোবেল কমিটি মতামতে জানায় - "জাঁ পল সাত্রে তাঁর কাজের অবদান আমাদের ধারণায় সমৃদ্ধ এবং স্বাধীনতার চেতনা ও সত্যের সন্ধানে ভরা। যা আমাদের সবার মনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে।"

আরও পড়ুন : নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান বাতিল

ভিয়েতনামে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের জন্য ‘লা ডাক থো’ এবং ‘ইউ এস সেক্রেটারি অফ স্টেট হেনরি কিসিঙ্গার’কে যৌথভাবে ১৯৭৩ সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেয়া হয়। তবে লা ডক থো জানান, তিনি নোবেল প্রাইজ গ্রহণ করার অবস্থায় নেই কারণ ভিয়েতনামের পরিস্থিতি তখনও শান্ত ছিল না।

অ্যাডলফ হিটলারের আপত্তিতে জার্মানির রিচার্ড কুন, অ্যাডলফ বুটেন্ড ও গেরহার্ড ডোম্যাগ নোবেল প্রাইজ পেয়েও নিতে পারেননি। রিচার্ড কুন ১৯৩৮ সালে রসায়নে নোবেল প্রাইজ পান। পরের বছর অ্যাডলফ বুটেন্ডও রসায়নে নোবেল পান। তিনি সেক্স হরমোন নিয়ে কাজ করলেও পরবর্তীকালে মেডেল ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করেছিলেন। ওই একই বছর শারীরবিদ্যা বা মেডিসিনে নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন।

১৯৫৮ সালে বরিস পাস্তেরনাক সাহিত্যে নোবেল পান। কিন্তু পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিগৃহীত হলে তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সাহিত্যকীর্তি সম্পর্কে বলা হয়েছিল- " সমসাময়িক গীতিকবিতা ও রাশিয়ান মহাকাব্য ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কৃতিত্ব রয়েছে। তাই তাঁকে নোবেল পুরস্কারে মনোনিত করা হয়।"

তিনজন নোবেল বিজেতা পুরষ্কার প্রদানের সময় গ্রেফতার ছিলেন বলে তা গ্রহণ করতে পারেননি। এরা হলেন কার্ল ভন অসিটেস্কি, আং সান সু কি এবং লিউ জিয়াবো। তবে কার্ল ভন ১৯৩৫ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেলেও এক বছর পর তা গ্রহণ করেন। লিউ জিয়াবো- এই কাজের স্বীকৃতি সরূপ ২০১০ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পান।

আধুনিক কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক বিজ্ঞানী ‘পল ডিরাক’ ছিলেন চরম পরিমাণে ইন্ট্রোভার্ট। উনাকে নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করা হলে জনপ্রিয়তার ভয়ে উনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিরেন। তারপর উনাকে বুঝানো হয় সে যদি নোবেল না নেন তাহলে ইতিহাসের প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে নোবেল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আরো বেশি বিখ্যাত হয়ে যাবেন। তখন বাধ্য হয়ে তিনি নোবেল পুরষ্কার গ্রহণ করেন।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/56256
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ