Printed on Sun May 22 2022 12:33:23 AM

তিন মিটার করে নামছে পানির স্তর, ভূগর্ভে তৈরি হচ্ছে শূন্যতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
পানির স্তর
পানির স্তর
রাজধানী ঢাকা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। চাহিদার জোগান দিতে অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, অযৌক্তিক আহরণ ও মানব সৃষ্ট দূষণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ঢাকায় এ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নগরীতে দ্রুতই সুপেয় পানির ঘটতি দেখা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১০ সালে ওয়াসার নেয়া নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা ৭০ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা। উৎপাদিত ৩০ শতাংশ পানির জোগান আসার কথা ছিল গভীর নলকূপ থেকে। বাকি ৭০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানি (সারফেস ওয়াটার) শোধন করে সরবরাহের ওয়াদা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছরেও তারা ওয়াদা রাখতে পারেনি। ঢাকা ওয়াসা হাঁটছে উল্টো পথেই। একের পর এক গভীর নলকূপ বসিয়ে বাড়িয়েছে ভূগর্ভস্থ থেকে পানির উৎপাদন। ফলে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর তিন মিটার করে নিচে নামছে। এতে ভূগর্ভে তৈরি হচ্ছে বিশাল শূন্যতা। এ কারণে আকস্মিক দেবে যেতে পারে ঢাকা নগর। অসংখ্য বহুতল ভবন ও জনবহুল হওয়ায় ঢাকা নগরের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি মারাত্মক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা ওয়াসার ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার উৎপাদিত পানির ৭১ শতাংশ আসছে গভীর নলকূপ থেকে। বাকি ২৯ শতাংশ আসছে ভূ-উপরিস্থ থেকে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, সারা দেশেই কমবেশি পানির স্তর নিচে নামছে। আমরা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে দেখেছি, ঢাকায় প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর তিন মিটার তথা ১০ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সার্ফেস ওয়াটারের দূষণ কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির এক্সট্রাকশন কমাতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির ম্যাপিং করতে হবে এবং তার ফলাফল জনগণকে জানাতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোকে পানি শোধনে বাধ্য করতে হবে। পুকুর-নদীসহ সব জলাশয় ফিরিয়ে আনতে হবে।

জানা গেছে, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। সুপেয় পানির চাহিদার শতকরা ৭৮ শতাংশ গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করছে ঢাকা ওয়াসা। ১৯৭০ সালে ৪৯টি গভীর নলকূপ ছিল ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে। এখন ৯০০টি নলকূপ ব্যবহার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড়, শিল্প, কৃষি ও পশুপালন, পয়োনিষ্কাশন, তেল দূষণ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, রোগ-জীবাণু, লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এসব বিভিন্ন কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম আতাউর রহমান বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে ওয়াসা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।’

তিনি জানান, ভূগর্ভে পানির তিনটি স্তর থাকে। এভাবে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুললে এক সময় পানির স্তর শূন্য হয়ে যাবে। তখন গভীর নলকূপগুলোতে আর পানি উঠবে না। বর্তমানেও ঢাকা ওয়াসার এ রকম কিছু নলকূপ আছে যেগুলোতে পানি ওঠে না। আগে যেখানে ২৫০ ফুট গভীরেই পানির স্তর মিলত, এখন সেটা ৭০০ ফুট গভীর গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকায় পুরোপুরি ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে মানুষের চাহিদা মেটাতে হলে শুধু ঢাকা ওয়াসার একার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস পালন করা হয়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পানি দিবস ২০২২ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিশ্ব পানি দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভূগর্ভস্থ পানি : অদৃশ্য সম্পদ, দৃশ্যমান প্রভাব।’

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/70416
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ