Printed on Sun May 22 2022 12:23:03 AM

পারিবারিক দুর্নীতির মহা আখরা, গাজীপুর সাব রেজিস্টার অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশ
রেজিস্টার অফিস
রেজিস্টার অফিস
বাণিজ্যিক কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুর। ভৌগোলিক অবস্থান কারণেও বিভিন্ন জেলার সাথে সড়ক পথে ঢাকায় প্রবেশের প্রথম দ্বার এই জেলা। এই বাণিজ্যিক নগরীতে সঙ্গত কারণেই ভূমি হয়ে উঠেছে মহামূল্যবান। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাব রেজিস্টার অফিস নিয়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে নানা দুর্নীতির সচিত্র বর্ণনা। এবার আমরা নজর দিতে গাজীপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। যেখানে দুর্নীতির গাড়ির স্টিয়ারিং একটা পরিবারের হাতে। এমনকি রেজিস্ট্রি অফিসটাও স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া এই পারিবারিক চক্রটির বসতবাড়ির কাছেই।

দুর্নীতির লাগাম টানতে তৎকালীন সাব রেজিস্টার সেই সময়কার দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মুজিবর রহমানের লাইসেন্স বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। কালের পরিক্রমায় সেই মুজিবর আবারও একই অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। শুধু তাই নয় এবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এনেছেন নিজেরই চাচাতো ভাইকে। এখানেই শেষ নয় সাধারণ সম্পাদক মিলন মোক্তারের নিজের সহোদর ভাই কিরন মোক্তার নকল লেখক সমিতির সভাপতি হওয়ার জন্য চালাচ্ছেন প্রচারণা। যে কিনা এখন এই সমিতির বিভাগীয় সভাপতি!

এবার এই অফিসটা স্থানন্তরের প্রক্রিয়া চলছে তিন ভাইয়ের আবাসস্থল মারিয়াল নামের একটি এলাকায়। এই প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে নানা অস্বচ্ছতা।
বিগত ৩২ বছর মোক্তার সমিতির সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করার সময় রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট। উক্ত সময়ে সাফ কাবলা দলিল করতে জমির রকম পরিবর্তন করে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জমির ক্রেতাদের কাছ থেকে কামিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

দলিল প্রতি এই মোক্তার সমিতি ও দলিল লেখক সমিতি প্রায় ১০০০ টাকা অবৈধভাবে নেয়। যেখানে সরকারি ফি এর অর্ধেকেরও কম। চাঁদা দিতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে তাকে পোহাতে হয় ভোগান্তি।

সভাপতি প্রার্থী কিরন দলিল লেখক সমিতির সদস্য হলেও বিগত ১০ বছর ধরে কোন বালাম না লিখে পারিবারিক প্রভাবের জেরে লিখছেন দলিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সহকর্মীরাও জানান অসহায়ত্বের কথা। তাদের দুর্নীতিতে কেউ অংশ নিতে না চাইলে তাদেরকেও ফেলা হয় ভোগান্তিতে।

গাজীপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিস, ও গাজীপুর ২য় যুগ্ম সাব রেজিস্টার অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১৫০টি দলিল হচ্ছে, মাসে ৩০০০টি দলিল হয়। এতে প্রতি মাসে ৩০০০ দলিলে মোক্তার সমিতি ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যা প্রতি বছরে্র হিসেবে দাঁড়ায় এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

স্থানীয় সচেতন মানুষ বলছেন সীমাহীন দুর্নীতির মধ্য দিয়ে দিয়ে দিনের পর দিন এই সিন্ডিকেট ধ্বংস করছে সরকারের রাজস্ব খাত। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদেরকে দেয়া হচ্ছে সরকারের উচ্চমহলের সাথে যোগাযোগ থাকার হুমকি।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/67376
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ