Printed on Thu May 19 2022 3:10:31 AM

পুষ্পার সাফল্যে আলোচনার তুঙ্গে রক্তচন্দন (ভিডিও)

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
পুষ্পা রক্তচন্দন
পুষ্পা রক্তচন্দন
গেল বছরের শেষে বড়পর্দায় মুক্তি পায় ‘পুষ্পা: দ্য রাইস' চলচ্চিত্র। মুক্তির পর থেকে ছবিটি রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। বক্স অফিসে চমক দেখিয়েছে এই ছবি।

দক্ষিণের স্টাইলিশ আইকন আল্লু অর্জুন কোনো রকম গ্ল্যামার ছাড়াই এই ছবিতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। একই সঙ্গে পুষ্পা’র সাফল্যে আলোচনার তুঙ্গে উঠে এসেছে রক্তচন্দন কাঠ।

আল্লু অর্জুন ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত এই ছবির গল্পই আবর্তিত হয়েছে রক্তচন্দন কাঠ নিয়ে। কেন্দ্রীয় চরিত্র পুষ্পা কীভাবে এই কাঠ পাচার করে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন ছবির স্টোরি প্লটে সেই দৃশ্যই ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা।

যা দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে। যে রক্তচন্দন পাচার নিয়ে এই ছবির কাহিনি, সেই কাঠের এত চাহিদা কেন? এই কাঠের বিশেষত্বই বা কী?

চন্দন ভারতীয় একটি গাছ বলে ধারনা করা হয়। রামায়ণ, মহাভারত এমনকি কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও উল্লেখ পাওয়া যায় লাল চন্দনের। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, রক্তচন্দনকে ভারতে ‘লাল সোনা’ বলা হয়। সোনার মতোই মূল্যবান এই গাছ।

এই গাছ খুবই বিরল প্রজাতির।পৃথিবীতে দুই প্রকাকের চন্দন পাওয়া যায়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্বেত চন্দনের দেখা মেলে। তবে রক্তচন্দন শুধু ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার শেষাচলম জঙ্গলে মেলে।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটক এই তিন রাজ্যের সীমান্ত এসে মিলেছে এই ঘন জঙ্গলে। ফলে এখানে চন্দনের চোরাকারবার ঠেকানো প্রশাসনের জন্য দুরূহ। আর ‘পুষ্পা’ ছবিতে এই শেষাচলম জঙ্গলের কথাই বলা হয়েছে।

পৃথিবীর অন্য কোথাও রক্ত চন্দন গাছ না হওয়ার মূল কারণ আবহাওয়া এবং মাটির গুণাগুণের তারতম্য।

মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তারতম্যের কারণেই মারা যেতে পারে লাল চন্দন।

বিরল এই গাছটি কেবল ভারতের এই অঞ্চলে জন্মানোর মূল কারণ এটিই। যদিও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশে অল্প পরিমাণ রক্ত চন্দন দেখা যায়।

রক্তচন্দনের এক একটি গাছের উচ্চতা ৮-১২ মিটার। এই কাঠের বিশেষ গুণের জন্যই বিশ্ব জুড়ে বিপুল চাহিদা।

আর সেই চাহিদার কারণেই এই কাঠ পাচার হয়।আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ এই গাছকে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ শ্রেণির তালিকাভুক্ত করেছে।

এই কাঠ এত বিপুল পরিমাণে কাটা এবং পাচার হয়েছে যে, আর মাত্র পাঁচ শতাংশ গাছ পৃথিবীতে টিকে আছে।

আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে এই কাঠের বিপুল ব্যবহার হয়। ইনস্টিটিউট অফ উড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মতে, এই উদ্ভিদ শরীরকে শীতল করে, জ্বালাপোড়া কমায়, রয়েছে রক্ত শুদ্ধিকরণের গুণও।

মাথাব্যথা, চর্মরোগ, জ্বর, ফোঁড়া, বৃশ্চিকের দংশনে চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয় রক্তচন্দন। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতেও এর অবদান রয়েছে। পূজা-অর্চনা, প্রসাধনী দ্রব্য তৈরিতে অনেক আগে থেকেই রক্তচন্দনের ব্যবহার হয়ে আসছে।

ওষধি গুণ ছাড়াও মদ তৈরিতে এই কাঠের বিপুল চাহিদা। এ ছাড়া পূজা-অর্চনা ও প্রসাধনী দ্রব্য তৈরিতেও এই কাঠ ব্যবহার করা হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি রক্তচন্দনের সর্বনিম্ন দাম তিন হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো জাতের রক্তচন্দন কাঠের দাম টনপ্রতি ৭০ লাখ রূপিও উঠতে পারে। ভারতে এই গাছ কাটা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/66528
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ