Printed on Thu Oct 21 2021 11:26:55 AM

অক্টোবর মাস এলেই তুঙ্গে ওঠে পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
পেঁয়াজের দাম
পেঁয়াজের দাম
গত কয়েক বছর ধরে মৌসুমের শেষে পেঁয়াজ বাজারে বেড়েছে অস্থিরতা। কোনো কোনো বছর পেঁয়াজের দাম এতটাই লাগামহীন হয়েছে যে, সরকার উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আমদানি করে শান্ত করতে হয়েছে জনসাধারণকে। বরাবরের মতো অক্টোবর মাস আসতেই কয়েক দফা বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবার মৌসুমে দেশে ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৮২ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক। গত বছরের চেয়ে যা প্রায় ৮ লাখ টন বেশি। গত বছর (২০১৯-২০ অর্থবছর) ২৫ লাখ ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল। তাহলে এত উৎপাদিত পেঁয়াজ যায় কোথায়?

সম্প্রতি পেঁয়াজ সসংকট মোকাবিলায় সরকার আরও দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করছে ভারত থেকে। এবছর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক কম থাকায় বেসরকারি পর্যায়েও বেড়েছে আমদানি। শিগগির দেশে আসবে সে পেঁয়াজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, উৎপাদন অনেক বেড়েছে। তবুও কিছু ঘাটতি রয়েছে। এখন কৃষি জমিতে পেঁয়াজ লাগানোর সময়। এ কারণে বছর প্রতি প্রায় এক লাখ টন পেঁয়াজ প্রয়োজন হয়। বীজ হিসেবে কৃষক পেঁয়াজ কেনার কারণে বাজারে পেঁয়াজের সংকট পড়েছে।

অতঃপর তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, গেল বছগুলোর তুলনায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা খুব কম। শিগগির আসছে ভারত থেকে দুই লাখ টন পেঁয়াজ। তখন বাজারে দাম কমে যাবে। বেসরকারি পর্যায়েও পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে আলু পেঁয়াজের দাম

চলতি বছর দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ‘চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার রোডম্যাপ প্রণয়ন’-কে বাহাবা দিচ্ছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে এ রোডম্যাপটি উপস্থাপন করা হয়। তাতে দেশে ১০ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে পূরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

রোডম্যাপের প্রথম বছর (২০২০-২১ অর্থবছর) দুই লাখ টন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে বেড়েছে ৮ লাখ টন। এরপরেও এবছর পেঁয়াজের বাজার চড়া। রোডম্যাপে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ লাখ ২২ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ রয়েছে। কিন্তু যে হারে উৎপাদন বাড়ছে তাতে আগামী এক বছরেই চার বছরের রোডম্যাপের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

অন্যদিকে, গত বছর পর্যন্ত হিসাবে দেশে পেঁয়াজ চাষের আওতায় জমির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর। এসব জমিতে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টন। যার মধ্যে ২৫ শতাংশ নষ্ট (অপচয়) হয়। তাই প্রকৃত উৎপাদন ১৯ লাখ টন। এরপর বীজ ও অপচয় বাদে মোট চাহিদা ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। ২৫ শতাংশ সংগ্রহোত্তর বিবেচনায় উৎপাদন দরকার ছিল ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। সে অনুযায়ী পেঁয়াজের ঘাটতি ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন। এজন্য সরকার ১০ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে চায়।

আমদানির তথ্য বলছে, প্রতি বছর ১০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯২০ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪০ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০ লাখ ৯১ হাজার টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ লাখ ৭ হাজার ২২০ টন। এবছরও আমদানির পরিমাণ এর কম হবে না।

তাহলে উৎপাদন অনেকটা বাড়ার পরেও কেন পেঁয়াজ সংকট- এ প্রশ্নের জবাবে গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়, সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে তথ্য দেয় সেটার বাস্তব প্রতিফন দেখা যায়না। এ তথ্যের মধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখা যায়। এ তথ্য একেবারেই সামঞ্জস্যহীন।

দ্বিতীয়ত দাবি করা হচ্ছে যে, পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু কী পরিমাণ বেড়েছে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত তথ্য পাইনি। পেঁয়াজের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে কিন্তু মনে হয় না বাজারে ঘাটতি খুব কমেছে। দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাজারে খুব কম। দেশে যদি এত বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হত তাহলে বাজারে বিরূপ পরিস্থিতি দেখা যেত না।

ভয়েস টিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/55372
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ