Printed on Wed May 25 2022 6:51:13 PM

বছরে তিন হাজার কোটি টাকার গ্যাস অপচয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
তিন হাজার কোটি
তিন হাজার কোটি
গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে বছরে ৬৫ কোটি ঘনমিটার গ্যাস অপচয় (সিস্টেম লস) হচ্ছে। বছরে অপচয় হওয়া গ্যাসের দাম ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। অবৈধ সংযোগ, অনুমোদনের চেয়ে বেশি ব্যবহার ও পাইপলাইনে লিকেজের (ছিদ্র) কারণে গ্যাস অপচয় হচ্ছে নিয়মিত। আগের বছরের চেয়ে অপচয় বেড়েছে গত অর্থবছরে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, চুরি বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। অথচ চুরি বন্ধে কার্যকর তেমন কোনো উদ্যোগ না নিয়ে ঘাটতি মেটাতে সরকার চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানির খরচ বর্তমানে ৫০ টাকা। সে অনুযায়ী, বছরে অপচয় হওয়া ৬৫ কোটি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। তবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ‘সিস্টেম লস’ গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়। ফলে অপচয় হয় মূলত সাড়ে ৫৮ কোটি ঘনমিটার গ্যাস। এতে আর্থিক ক্ষতি হয় ২ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, অপচয় কমিয়ে যা সাশ্রয় করা সম্ভব।

তিতাস রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে। গত অর্থবছরে তিতাসের গ্যাস অপচয় হয়েছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার। কুমিল্লা এলাকায় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি বাখরাবাদ গত বছর গ্যাস অপচয় করেছে ২ শতাংশের বেশি। ১৮ কোটি ৫২ লাখ ঘনমিটার গ্যাস হারিয়েছে তারা। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস অপচয় নেই।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে। গত অর্থবছরে তিতাসের গ্যাস অপচয় হয়েছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার। এর আগের বছরে অপচয় হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি ঘনমিটার। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এ কোম্পানি। তবু অপচয় কমানো যাচ্ছে না। আর কুমিল্লা এলাকায় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি বাখরাবাদ গত বছর গ্যাস অপচয় করেছে ২ শতাংশের বেশি। ১৮ কোটি ৫২ লাখ ঘনমিটার গ্যাস হারিয়েছে তারা। এর আগের বছর এটি ছিল ১ শতাংশ।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ মোল্লাহ বলেন, অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে গ্যাস চুরি করছে অনেকে। মাত্র এক হাজার টাকার গ্যাসের জন্য এমন সংযোগ নিয়ে একটি পরিবার চুরির দায় নিচ্ছে। অবৈধ এমন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চলছে। কাউকে মাফ করা হবে না। সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। লিকেজ নিয়মিত শনাক্ত করে সংস্কার করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের গ্যাস বিতরণ কোম্পানি কর্ণফুলী গত অর্থবছরে অপচয় করেছে ৫ কোটি ঘনমিটার। আর সিলেটের গ্যাস বিতরণ কোম্পানি জালালাবাদের অপচয় ২ কোটি ৬৫ লাখ ঘনমিটার। গ্যাস অপচয়ের হার কর্ণফুলীতে দেড় শতাংশের বেশি এবং জালালাবাদের ১ শতাংশের কম। দুটি কোম্পানি দাবি করেছে, তাদের কোনো অবৈধ সংযোগ নেই। তবে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য অনেক সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে লিকেজ তৈরি হয়ে গ্যাসের অপচয় হয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ম. তামিম বলেন, প্রকৃত অর্থে অপচয় আরও অনেক বেশি। বৈধ গ্রাহকেরা বাড়তি বিল দেওয়ায় অপচয় কম দেখা যাচ্ছে। চুরি ছাড়া গ্যাস অপচয়ের তেমন সুযোগ নেই। অবৈধ গ্রাহকদের মাধ্যমে এটি হচ্ছে। অপচয়ের বড় অংশ আসে চুরি থেকে, আর বাকিটা লিকেজ থেকে। চুরি বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/68496
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ