Printed on Wed May 25 2022 4:15:13 AM

ববিতার সঙ্গে প্রেম ভেঙে যাওয়ার হতাশায় নে শা য় জড়ান জাফর (ভিডিও)

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
ববিতা জাফর
ববিতা জাফর
সাদা প্যান্ট, সাদা সু আর সাদা টি শার্ট পরা এক তরুণ স্টাইলিস্ট কণ্ঠশিল্পী। যার সুরের জাদু আর মোহনীয় ব্যক্তিত্ব ঝড় তুলেছে মানুষের হৃদয়ে। কিন্তু তিনি শুধু কি একজন গায়ক? না।

তিনি শুধু গায়ক নন, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক।

শুধু জনপ্রিয় নন, সেই যুগের স্টাইলিস্ট নায়ক ছিলেন তিনি। যাকে বলা হয় চিরসবুজ চিত্রনায়ক। মার্কিন স্টাইলিস্ট গায়ক ‘এলভিস প্রিসলি’র অনুকরণীয় ছিলেন বলে ঢাকার ‘এলভিস প্রিসলি’ বলেও ডাকা হতো তাকে।

তিনি যেমন ছিলেন স্টাইলিস্ট, তেমনই ছিলেন অভিমানী ও আবেগপ্রবণ। ছিলেন বোহেমিয়ান।

সেসময়কার ঢালিউড কুইন ববিতার সঙ্গে বহু ছবি করেছেন। তখন মিডিয়া থেকে সর্বত্র গুঞ্জন ওঠে ববিতার সঙ্গে প্রেম জাফর ইকবালের।

আর ববিতার সঙ্গে প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ায় হতাশ হয়ে মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই সূত্র ধরেই একসময় পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। মুখে মুখে শোনা যায়, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী……… গানটি ববিতার জন্যই গেয়েছিলেন জাফর ইকবাল।

ষাট ও সত্তর দশক বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগ। সে সময় জাফর ইকবাল নায়ক রাজ রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, সোহেল রানা আর ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো নায়কদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয় করে গেছেন।

বরং সে সময়কার অন্যদের তুলনায় বেশ স্মার্ট, আইকনিক ফ্যাশনেবেল পারসন হিসেবে ব্যতিক্রমী লুকের নায়ক ছিলেন। অসংখ্য হিট সিনেমার নায়কও ছিলেন তিনি।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি একাধারে ছিলেন চিত্রনায়ক, কণ্ঠশিল্পী, গিটারবাদক ও মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পল্টনে অভিজাত এক সঙ্গীতপ্রিয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জাফর ইকবাল।

বড়ভাই আনোয়ার পারভেজ ছিলেন প্রখ্যাত সুরকার। ছোটবোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ ছিলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী।

ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক সূত্রে সঙ্গীত চর্চা করতেন জাফর ইকবাল। ১৯৬৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘রোলিং স্টোন’ নামের একটি ব্যান্ড দল।

তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘পিচঢালা পথ’ সিনেমায়। এরপর গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। একজন দক্ষ গিটারবাদক ছিলেন তিনি।

ভালো গিটার বাজাতেন বলে সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাকে দিয়ে অনেক ছবির আবহসংগীত তৈরি করিয়েছেন। সেই ছবিগুলোও দারুণ জনপ্রিয় হয়।

১৯৭০ সালে ‘আপন পর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জাফর ইকবাল অভিনয় জীবনে পদার্পণ করেন। এই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন মিষ্টি মেয়ে কবরী।

জাফর ইকবালের সঙ্গে অভিনেত্রী ববিতা জুটি হয়ে প্রায় ৩০টির মতো ছবি করে, যা সুপার ডুপার হিট হয়। তিনি প্রায় দেড় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। যার অধিকাংশই ছিলো ব্যবসা সফল।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেন জাফর ইকবাল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের রাগী, রোমান্টিক, জীবন-যন্ত্রণায় পীড়িত কিংবা হতাশা থেকে বিপথগামী তরুণের চরিত্রে সাবলিল অভিনয় তাকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিলো।

জাফর ইকবাল ১৯৯২ সালের ২৭ এপ্রিল ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন মাত্র ৪১ বছর বয়সে। এরপর একদিন এই রোগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

মৃত্যুর পূর্বে তিনি ‘লক্ষ্মীর সংসার’ সিনেমায় অভিনয় করেন। জীবনের শেষ সিনেমায় তার এমন একটি দৃশ্য ছিলো। যা তার মৃত্যুর পর মানুষকে কাঁদিয়েছে।

জাফর ইকবাল গ্রাম থেকে ঢাকায় নতুন এসেছেন। তার গন্তব্য ঢাকার আজিমপুর।

তাই তিনি আজিমপুর যাওয়ার রাস্তা খুঁজছিলেন। ‘ভাই আজিমপুর যাবো কিভাবে’ –তার মুখে এই সংলাপ তখন মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তার মৃত্যুর পর তাঁকে দাফনও করা হয় আজিমপুর গোরস্থানে।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/66017
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ