Printed on Sat Oct 16 2021 3:02:31 AM

বলিউডের ক্ষণজন্মা গ্লামার কুইন দিব্যা ভারতী

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
বলিউডের
বলিউডের
নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি। সমসাময়িক এমনকি সিনিয়র নায়িকাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেও সমানে পাল্লা দিয়েছেন। নিজের গ্লামার এবং অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দ্রুত উঠে এসেছেন জনপ্রিয়তার প্রথম সারিতে। কিন্তু রহস্যময় অকালমৃত্যু তাকে থামিয়ে না দিলে আরও অনেক আলোকবর্ষ পাড়ি দিত তার তারকা খ্যাতি।

বলছিলাম ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল, মুম্বাইয়ের ৫ তলা বিল্ডিংয়ের ব্যালকনি থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করা বলিউডের অন্যতম সুন্দরী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর কথা। যিনি ধুমকেতুর মতো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসে পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। কিন্তু হারিয়ে গেছেন খুবই তাড়াতাড়ি। সেই রাতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ভারতীয় উদীয়মান নায়িকা দিব্যা ভারতীর। তখন দিব্যার বয়স মাত্র ১৯ বছর। হত্যা, আত্মহত্যা নাকি নেহায়েত দুর্ঘটনা কী ঘটেছিল সেই রাতে তা নিয়ে আজও রয়েছে অনেক বিতর্ক।

বলিউডে সুন্দরী অভিনেত্রীদের তালিকায় প্রথম সারিতেই উঠে আসে দিব্যা ভারতীর নাম। নব্বইয়ের দশকের অন্যতম সুন্দরী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যার সৌন্দর্যের তুলনা করা হয়েছিল স্বয়ং শ্রীদেবীর সাথেও। লাগাতার দর্শকদের হিট ছবি উপহার দিয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।

দিব্যার জন্ম ১৯৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বাবা ওমপ্রকাশ ভারতী ছিলেন জীবনবিমা কর্মী। মা মিতা গৃহিণী। ছোট ভাই কুণাল এবং সৎ বোন পুনমের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠা দিব্যার। ছোটবেলা থেকেই হিন্দি, মারাঠি আর ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ছিলেন দিব্যা। পড়তেন মানেকজি কুপার হাই স্কুলে। তবে অভিনয়ে আসার পর আর পড়াশোনা করেননি তিনি। অভিনয় জগতে ভীষণ আগ্রহ ছিল ছোট থেকেই। অল্প বয়সেই হিন্দি গানের সাথে নাচে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। স্কুলের পড়া বাদ দিয়েই তিনি অনুশীলন করতেন অভিনয় আর নাচ।

স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি বেশ কিছু বলিউড সিনেমার প্রস্তাব পান, তবে কম বয়সের কারণে এবং অভিনয়ে পরিপক্কতা না আসায় অডিশনেই বাদ পড়েন তিনি। এরপর ১৯৯০ সালে তেলেগু ছবির বিখ্যাত প্রযোজক ডি রামানাইড়ু ‘ববিলি রাজা’ সিনেমার জন্য নিজের ছেলের বিপরীতে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দিলে তা লুফে নেন। ৯ম শ্রেণীতে পড়াকালীন দিব্যার প্রথম সিনেমা ‘ববিলি রাজা’ মুক্তি পায়। সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে আশাতীত সাফল্য পায় এবং দিব্যার হাসিমাখা পুতুল সদৃশ চেহারা সকলের নজর কাড়ে।

সেবছরই তামিল সিনেমা ‘নিলা পানি’ এবং ১৯৯১ সালে ‘না ইল্লে না সরগাম’, ‘রডি আলুডু’, ‘এসেম্বলি রোডি’, ‘ধর্ম ক্ষেত্রাম’ নামক ৪টি তেলেগু সিনেমায় কাজ করেন তিনি এবং প্রতিটি সিনেমাই বাণিজ্যিক সফলতা পায়। এরপর ১৯৯২ সালে সানি দেওলের বিপরীতে রাজিব রাই পরিচালিত ‘বিশ্বাত্মা‘ ছবির প্রস্তাব পান তিনি। মুক্তির পর সিনেমাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে, বিশেষ করে সিনেমাটির প্রতিটি গানই জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘সাত সামুন্দর’ গানের সুর ও কথায় বাংলাদেশেও তৈরি হয় ‘নীল সাগর পার হয়ে’ গানটি, যার চিত্রায়নে সালমান শাহ ও সোনিয়াকে দেখা যায়। ‘বিশ্বাত্মা’ সিনেমাটিতে অভিনয়ের প্রশংসা প্রাপ্তির সাথে সুন্দর চেহারার নায়িকা হিসেবেও বেশ আলোচিত হন তিনি। বিভিন্ন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও জায়গা করে নেয় দিব্যার ছবি।

পরবর্তী বছর মুক্তি পায় ‘দিল কা ক্যায়া কাসুর’, সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও অভিনয়ের জন্য দিব্যা বেশ প্রশংসিত হন। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় ডেভিড ধাওয়ানের ‘শোলা অউর শবনম’, এ সিনেমাটিতে গোবিন্দের বিপরীতে দেখা যায় দিব্যাকে। ছবির এক দৃশ্যে সাঁতারের পোশাকে আবির্ভূত হয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে দিব্যা। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হয় ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দিওয়ানা’ সিনেমাটি। নবাগত শাহরুখ খানের বিপরীতে দিব্যার অনবদ্য অভিনয় আর ছবির গানগুলো বিশেষ করে ‘তেরা নাম রাখ দিয়া’ গানের জনপ্রিয়তায় বর্ষসেরা সিনেমার তকমা পায় ‘দিওয়ানা’। সেই বছরেই ফিল্মফেয়ার উৎসবে দিব্যা ও শাহরুখ দুজনেই ‘লাক্স ফেইস অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন।

এরই মধ্যে দিব্যার সাথে পরিচয় হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সাথে। অভিনেতা গোবিন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুবাদে ‘শোলা আউর শবনম’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন বেশ কয়েকবার দেখা হয় তাদের। সেখান থেকেই আলাপ এবং সম্পর্ক গড়ায় ভালবাসায়। ১৯৯২ সালের ১০ মে ইসলামী রীতিতে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পূর্বেই দিব্যা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নতুন নাম হয় সানা নাদিয়াদওয়ালা।

পুলিশের তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী- মুম্বাইয়ের ভারসোভায় পাঁচতলা ভবন তুলসীতে উপস্থিত ছিলেন- দিব্যার পোশাক ডিজাইনার ও বান্ধবী নিতা লুলা, তার স্বামী ড. শ্যাম লুলা ও বাসার পরিচারিকা অমৃতা। পরদিন ভোরে আউট ডোর শুটিং থাকায় নিতা নুলাকে বাসায় ডেকে পাঠান তিনি। তবে দিব্যার স্বামী সেদিন বাসায় ছিলেন না। লিভিং রুমে দুই অতিথির সাথে গল্প করছিলেন আর পরিচারিকা তাদের খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন।

নিতার ভাষ্যানুযায়ী, তখন প্রায় রাত ১১:৪৫ মিনিট, দিব্যা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বাড়ির সব জানলায় গ্রিল থাকলেও লিভিং রুমের লাগোয়া জানালাটিতে কোনো গ্রিল ছিল না। দিব্যা অমৃতার সাথে কিছুটা উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে জানালার পাশে গেলে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। গাড়ি পার্কিংয়ের মাটিতে আছড়ে পড়ে তার দেহ। মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বলিউডের আকাশে ক্ষণস্থায়ী উজ্জ্বল এই নক্ষত্র মাত্র ১৯ বছর বয়সেই অর্জন করে গেছেন নাম, খ্যাতি আর ভক্তদের অপরিসীম ভালবাসা। আর এই ভালবাসাই সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণোচ্ছল, মায়াবী চেহারার দিব্যা ভারতীকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে সকলের মাঝে।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/53959
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ