Printed on Thu Dec 02 2021 4:09:33 PM

যেসব উপায়ে ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
বাংলাদেশ
বাংলাদেশ
করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেতে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ভ্যাকসিন পেতে ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে সরকার। গত ১০ই আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে ‘বিশ্বব্যাপী বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহ’ শীর্ষক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আমদানি ও উৎপাদনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমপৃক্ত করার বিষয়টি ওঠে আসে। যাতে ভ্যাকসিন কূটনীতিতে বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।

কীভাবে বাংলাদেশ টিকা পাবে- জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং সংস্থাটির উপদেষ্টা ডা. মুস্তাক হোসেন বলেন, তিন প্রক্রিয়ায় ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। নিজদের তৈরি করা ভ্যাকসিন। অন্যদের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করে এবং অন্য দেশের তৈরি করা ভ্যাকসিন হু’র মাধ্যমে চুক্তি করে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জোট ‘গ্যাভি’র ভ্যাকসিন পেতে এই প্রক্রিয়ায় এগোতে হবে। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণদের আগে ভ্যাকসিন দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এরপর ধারাবাহিকভারে তালিকা করে দিতে হবে ভ্যাকসিন। সিরিঞ্জ তৈরি করতে হবে। সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা নিতে হবে এখনই।

এদিকে টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে বাংলাদেশ সফরে আসা ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। টিকা বা ভ্যাকসিন তৈরিকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ এখনো দৃশ্যত কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি। এক প্রকার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটিও ভ্যাকসিনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশেই টিকার ট্রায়ালের পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। যদিও এ পর্যন্ত পরামর্শক কমিটির মতামতকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়নি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। করোনার ওষুধ আবিষ্কার না হওয়ায় পুরো বিশ্ব এখন ভ্যাকসিনের অপেক্ষায়। দেশের মানুষও অপেক্ষায় কবে ভ্যাকসিনের সুখবর আসবে। তবে এ পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়ে কোনো আশার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ভ্যাকসিন পেতে এখন কোন অবস্থায় রয়েছে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছি। বিভিন্ন দেশের ভ্যাকসিন ট্রায়াল হচ্ছে। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। সংস্থাটি জানিয়েছে, যখন ভ্যাকসিন অনুমোদন পাবে তখন দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ২০ শতাংশ হারে পাবে। এটা তখন সহজলভ্য হবে।

‘গ্যাভি’কে চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাভি’র ভ্যাকসিনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ভারতে ট্রায়ালে, চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে রয়েছে। রাশিয়া তো অনুমোদন দিয়েছে। আমেরিকার ফাইজারের ভ্যাকসিনও ট্রায়ালে আছে। সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত দেবেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশ যাতে সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ ভ্যাকসিন পেতে পারে সেভাবেই এগোচ্ছি।

দেশের বিশেষজ্ঞরা টিকা বা ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে বলছেন, যারা টিকা আবিষ্কার করছেন তাদের সঙ্গে দৌড়াতে। কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি পরামর্শ দিয়েছে, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে টিকার ট্রায়াল বাংলাদেশে হওয়া উচিত। পরামর্শক কমিটি মত দিয়ে বলেন, টিকা আন্তর্জাতিক বাজারে এসে গেলে তা কীভাবে প্রথমেই বাংলাদেশে নিয়ে আসা যায় তার বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনই নেয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের এই কমিটি মনে করে, বাংলাদেশে টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হলে প্রথমত বাংলাদেশ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তা প্রমাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই টিকা সফল প্রমাণিত হলে সর্বাগ্রে পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে। বুধবার কমিটির সর্বশেষ বৈঠক থেকেই এমন পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/11716
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ