Printed on Wed May 25 2022 5:01:08 AM

বাবাহারা মায়ের একমাত্র সন্তান রক্ত দেয়া হিমেল সব রক্ত দিয়ে গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষাঙ্গন
একমাত্র
একমাত্র
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনের রাস্তায় ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন রাবি শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান হিমেল। তিনি রাবির গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বগুড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন তিনি।

মাহমুদ হাবিবের ফেসবুক ওয়ালে গিয়ে দেখা যায় বন্ধু, লেখাপড়ার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজ করতেন তিনি। ফেসবুকে তার পরিচয়ে লেখা রয়েছে সহসভাপতি, বাঁধন, শহীদ শামসুজ্জোহা হল ইউনিট, রাবি জোন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের দপ্তর সম্পাদক। বাঁধন স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের অন্যতম একটি সংগঠন।

মাহমুদ হাসান হিমেল নিহতের পর থেকে ফেসবুকে তাকে ট্যাগ করে সহপাঠী ও সতীর্থরা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে আর্তনাদ করছেন। ফেসবুকে হিমেলের বাল্যবন্ধু পরিচয় দেওয়া ফয়সাল মাহমুদ নামের একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘আমার ছোটবেলার বন্ধু। সে আমাকে এ বায় বলে ডাকত। যাচ্ছি তার সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে। আমি যখন প্রথম খবরটি শুনলাম, মনে হচ্ছিল হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে। এটা সম্ভবত অন্য কোনো হিমেল হবে। কিন্তু না, আমার ধারণাটা ভুল ছিল। এটাই প্রমাণ হলো যে আমাদের বন্ধু আর নেই। আসলেই নাই। সে ছিল তার বাবা–মায়ের একমাত্র ছেলে। কোনো ভাইবোন ছিল না তার। ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায়। হিমেলের আম্মুও শারীরিকভাবে অসুস্থ অনেক আগে থেকেই। একমাত্র হিমেলকে নিয়েই তিনি বেঁচে আছেন বলা চলে। খবরটি শোনার পর আমার তখন হিমেলের আম্মুর কথা মনে পড়ল। সে যখন এই খবরটা পাবে, তার কী অবস্থা হবে? এইটা ভাবতেই ভয় লাগছে। যা–ই হোক, ভালো থাকিস বন্ধু।’

মাহমুদের ফেসবুক ওয়াল ছেয়ে গেছে সতীর্থদের শেয়ার করা রক্তমাখা স্কেচ আর স্মৃতিকথায়। তাদেরই একজন মুশাররফ হোসাইন তার দীর্ঘ স্ট্যাটাসের শেষে লিখেছেন, ‘ভাই আজ সত্যি সত্যিই নিজের সব রক্ত দিয়ে রাবি ক্যাম্পাস রঞ্জিত করে সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন ওপারে। এই রক্তমাখা ক্যাম্পাসে আমি কী করে হাঁটব!’

মাহমুদের রক্তমাখা স্কেচ সংযুক্ত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কনক পিকে লিখেছেন, ‘আহা! হিমেল। আমার ফেসবুক তালিকার সর্বশেষ বন্ধু। আতঙ্কে আমার ছেলে কণাদের ঘুম আসছে না। ওর মাকে রাস্তায় হাঁটতে দেবে না আর। হিমেলের মায়ের কেমন লাগছে?’

ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন একটি একাডেমিক ভবনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকের চাপায় নিহত হন মাহমুদ। তার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বুলবুল নামের এক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘হিমেলের মা যদি জিজ্ঞেস করেন, আমার হিমেল বাবার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে কবরে শুইয়ে দিই, কেউ কি মাথাটা এনে দিতে পারবেন?’

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব হাবীব হিমেলের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। একইসঙ্গে বুধবারের মধ্যে হিমেলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেক শিক্ষার্থী রিমেলের চিকিৎসার সকল খরচও প্রশাসন বহন করবে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/65397
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ