Printed on Sun Nov 28 2021 5:40:09 AM

ঠাকুরগাঁও বিএসএফের নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশী যুবক

মো: শাকিল আহমেদ ঠাকুরগাঁও
সারাদেশ
বিএসএফের নির্যাতনের
বিএসএফের নির্যাতনের
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে বর্বর নির্যাতনের পর ছেড়ে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিএসএফ)।

সোমবার ১ নভেম্বর রাত ৮টা ১৫ মিনিটে নির্যাতনের শিকার ঐ যুবককে ঠাকুরগাঁও শহরের রোদেলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান তার স্বজনরা।

নির্যাতনের শিকার রুহুল আমিন (৩৭) জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভদ্রেশ্বরী ভেলাপুকুর গ্রামের প্রয়াত আক্কেল আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষি শ্রমিক।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুল আমিন ভয়েস টিভিকে বলেন, রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নে কাঠালডাঙ্গী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনে, জগদল সীমান্তের ৩৭৪/১ এস পিলার এলাকায় বাংলাদেশের ২০০ গজ অভ্যন্তরে কুলিক নদীর ধারে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে দুটি মহিষ দিয়ে জমি চাষ করছিলাম। এমন সময় সীমান্তের কুলিক নদীতে নেমে সাদা পোশাকধারী দুইজন লোক মাছ ধরা শুরু করেন। অই দুই ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞেস করে- কেন জমিতে চাষ করছ?

তাদের প্রশ্নের জবাবে আমি বলি- এই জমিতে আলু ও রশুন রোপন করা হবে। এ কথা বলা শেষ হওয়া মাত্রই ঐ দুজন আমার গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন বটগাছের তলায় নিয়ে যায়। আমার সাথে থাকা দুটি মহিষও সেখানে নিয়ে আসে তারা। সেখানে এই দুইজন ব্যক্তির সাথে আরও তিনজন ইউনিফর্ম পরা বিএসএফ সদস্যরা আসেন। তারা সবাই ভারতীয় বিএসএফ সদস্য ছিল বলে পরিচয় দেয়।

তিনি বলেন, ঐ পাঁচজন বিএসএফ সদস্য আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। আমি তাদেরকে বলি, আমি একজন কৃষি শ্রমিক। এই কথা বলা শেষ হতে না হতেই ঐ পাঁচজন আমাকে পেটাতে শুরু করে। কেউ বাঁশের লাঠি দিয়ে, কেউ বেতের লাঠি দিয়ে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তারা আমাকে বেধড়ক পেটায়।

রুহুল আরও বলেন, এদিকে বাংলাদেশী বর্ডারের কাছে যখন স্থানীয় মানুষজন এসে ভিড় করছিল। তখন বিএসএফ সদস্যরা আমাকে ভারতের অভ্যন্ত কাঁটাতারের দরজার কাছে নিয়ে যায়। এসময় মহিষের ঘাড়ে যে জঙ্গালটা ছিল সেটা খুলতে বলে বিএসএফ সদস্যরা। জঙ্গালটা খলতে গিয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। প্রায় দুইমিনিট পরই আমার জ্ঞান ফিরে আসে। এসময় বিএসএফ সদস্যরা আমাকে বলে- বাংলাদেশে গিয়ে বলবি ভারতে আর কাউকে আসতে দিবো না। কেউ আসলে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।

তিনি বলেন, বেলা দেড়টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা আমাকে ছেড়ে দেয়। এরপর পায়ে হেটে কুলিক নদীর ধারে এসে পড়ে যাই। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

রুহুল আমিনের ছোট ভাই রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছারুল হক বলেন, এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে ভারতীয় কিশানগঞ্জ ব্যাটালিয়নের মূকেশ ক্যাম্পের সদস্যরা। বড়ভাই রুহুল আমিনকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিজিবির জগদল বিওপির সদস্যদের অবগত করা হয়।

তিনি বলেন, বেলা দেড়টার দিকে বড়ভাই রুহুল আমিনকে মারপিট করা শেষে ছেড়ে দেয় বিএসএফ। পরে কুলিক নদীর ধার থেকে ভাইকে উদ্ধার করে আনা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঠাকুরগাঁওয়ের রোদেলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে তার চিকিৎসা চলছে।

রুহুল আমিনের স্ত্রী আলফাতুন নাহার লাবনী বলেন, আমার স্বামী বাংলাদেশের ভেতরে মহিষ দিয়ে জমিতে চাষ করছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে অন্যায়ভাবে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় এবং মারপিট করে ছেড়ে দেয়। তার পুরো শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।

রুহুল আমিন যে জমিতে চাষ করছিল সেই জমির মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৫ বছরে ধরে জমিটিতে আমি চাষাবাদ করে আসছি। কোনদিন কোন ধরনের ঝামেলা হয়নি। নতুন করে ঐ জমিতে আলু লাগানোর জন্য রুহুল আমিনকে চাষ দিতে বলা হয়। রুহুল আমিন আমার জমিতে চাষ করছিল; এসময় বিএসএসফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে।

তিনি বলেন, রুহুল আমিন কথা বলতে পারেনা, তার পুরো শরীরে কালো দাগ হয়ে গেছে, তার শরীরে বিভিন্ন জায়গা কেটে গেছে এবং রক্ত বের হচ্ছে। সত্যিই এই ঘটনাটি কষ্টদায়ক। বিএসএফ সদস্যরা কেন বাংলাদেশীদের সাথে এমন অত্যাচার করে? আমরা কি বাংলাদেশে থাকতে পারবো না। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

রোদেলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ওবায়দুল হক বলেন, রুহুল আমিনের পুরো শরীরে প্রচুর আঘাত করা হয়েছে। এতে তার পুরো শরীরে কালো কালো দাগ হয়ে গেছে এবং তার প্রসাব বন্ধ হয়ে গেছে। তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে।

কাঠালডাঙ্গী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার মো. আবুল হোসেন বলেন, রুহুল আমিনকে নির্যাতন করার খবর পাওয়ার পর সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিজিবি-বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফকে আমরা মৌখিকভাবে ঘটনার প্রতিবাদ জানাই। এসময় বিএসএফ সদস্যরা জানায়- রুহুল আমিন মহিষ নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। তারপরও তারা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/57532
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ