Printed on Mon Jan 24 2022 5:11:46 PM

বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট কাটলেও যাত্রীর মাথায় লাগেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
বিমানবন্দর
বিমানবন্দর
ট্রলি সংকটে পড়ে গত ডিসেম্বরে ঢাকায় বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরেই যাত্রীদের লাগেজ মাথায় তোলার নির্মম চিত্র দেখা যায়। সেই সংকটে কাটলেও বন্দরে ট্রলি নিয়ে দুর্ভোগের শেষ হয়নি আজও। বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে গ্রিল দিয়ে আটকে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্যানোপি থেকে পার্কিংয়ে থাকা গাড়ির কাছে যেতে লাগেজ মাথায় তুলতেই হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অসুস্থ, বৃদ্ধ, নারী এবং বেশি মালামাল নিয়ে আসা যাত্রীরা। সহসা এই গ্রিল তুলে নেওয়ার আগ্রহ নেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের।

বছর কয়েক আগেও যাত্রীরা ট্রলিতে মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে পার্কিংয়ের গাড়িতে উঠতে পারতেন। ২০১৮ সালের দিকে ট্রলিম্যান ও ট্রলি সংকট দেখা দিলে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের বাইরে ট্রলি নেওয়া ঠেকাতে ক্যানোপিতে গ্রিল দেয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিমানবন্দরে ফের ট্রলিম্যান ও ট্রলি সংকট দেখা দিলে লাগেজ বেল্ট থেকেই যাত্রীদের লাগেজ মাথায় নিতে হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে ৭০ জন ট্রলিম্যান নিয়োগ, ট্রলি মেরামত ও নতুন ট্রলি কেনার উদ্যোগ নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এমন পরিস্থিতির জন্য ১২ ডিসেম্বর দুঃখ প্রকাশ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

সরজমিনে দেখা গেছে, বিদেশগামী কিংবা বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরে ট্রলি নিয়ে সংকটে পড়তে হচ্ছে না। তবে ক্যানোপিতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়ছেন তারা। আয়তনে ছোট ২টি ক্যানোপিতে এক সঙ্গে অল্প সংখ্যক গাড়ি দাঁড়াতে পারে। যার ফলে ক্যানোপিতে গাড়ি আসতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে অনেক যাত্রী অপেক্ষা না করে নিজের লাগেজ নিয়ে পার্কিং জোনে যেতে চান। বিমানবন্দরের ক্যানোপি গ্রিল দিয়ে আটকানো থাকায় পার্কিং জোনের গাড়ি পর্যন্ত ট্রলিতে লাগেজ নিতে পারছেন না তারা। অন্যদিকে যাত্রীর স্বজনরা ক্যানোপিতে এসে লাগেজ নিতে সহায়তা করারও কোনও সুযোগ নেই। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ সদস্যরা কোনও যাত্রীর স্বজনকে লাগেজ নেওয়ার সহায়তা করতে ক্যানোপিতে আসতে দেন না। যে কারণে মাথায় লাগেজ তুলতেই হচ্ছে।

আরও পড়ুন : সদরঘাটের ইজারা বাতিল, লাগবে না ঘাট ফি

বৃদ্ধ মাকে নিয়ে লন্ডন থেকে আসেন আমজাদ হোসেন। হুইল চেয়ারে মাকে টার্মিনালের ভেতর থেকে নিয়ে এসে থমকে দাঁড়ালেন ক্যানোপিতে, গ্রিলের সামনে। সঙ্গে থাকা লাগেজ, বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় তাকে।

আমজাদ হোসেন বলেন, মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথে এভাবে কোন যুক্তিতে গ্রিল দেওয়া হলো? যেখানে বিমানবন্দরে মানুষে ভোগান্তি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেখানে গ্রিল দিয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ গ্রিল সরিয়ে নেবে।

প্রবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর কাতার, সৌদি আরব, ওমানে ছিলাম। কোনও দেশের বিমানবন্দরে এভাবে লাগেজ মাথায় তুলতে হয় না। নিজের দেশে এসে মাথায় তুলতে হয়। পার্কিংয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠবে, সেখানে ট্রলি নিলে কী সমস্যা এটাই বুঝতে পারছি না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন ভোগান্তি কমাতে এত কথা বলে, বিমানবন্দরে এসে তো তার কোনও নমুনা দেখি না।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, যে কোনও দেশের বিমানবন্দরে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে ট্রলি ব্যবহার করতে পারেন। আবার ফ্লাইট থেকে নেমে ট্রলি নিয়ে পার্কিংয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠতে পারেন। দূরে যাওয়ার দরকার নেই, পাশের দেশ ভারতের বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা দেখলেই পার্থক্য বোঝা যায়। শুধু অবকাঠামো বৃদ্ধি করলেই হবে না, সেবা দেওয়ার মানসিকতাও জরুরি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনার মধ্যেও ট্রলি বিমানবন্দর এলাকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিমানবন্দরের বাইরে রেল স্টেশন পর্যন্ত ট্রলি চলে যায়। এতদূরে ট্রলি গেলে টার্মিনালে ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এজন্য আমরা বাইরে ট্রলি নেওয়া এলাউ করি না। বর্তমানে আমরা বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলা পর্যন্ত ট্রলি নেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। ট্রলি কিন্তু বেশ ব্যয়বহুল, এগুলো হারিয়ে গেলে ক্ষতি হবে। পরবর্তীতে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হবে। এসব কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/62876
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ