Printed on Mon Jan 24 2022 5:31:09 PM

পর্যটনবান্ধব দেশ “মরিশাস”

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিডিও সংবাদ
মরিশাস
মরিশাস
অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস। পর্যটন তাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এছাড়াও টেক্সটাইল, চিনি, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে।

সাম্প্রতিক বিশ্বে যতগুলো সুন্দর পর্যটনবান্ধব দেশ আছে তার মধ্যে মরিশাস নিঃসন্দেহে অন্যতম।

১৫০৭ সালে আবিস্কৃত দেশটি। ১৫৫০ সালের পর থেকে মরিশাসে লোক বসতি আরম্ভ হয়। বিভিন্ন উপনিবেশ থাকার পর মরিশাস ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৯২ সালের ১২ মার্চ প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

দেশটি বর্তমানে জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘের সদস্য।

দেশটির আয়তন প্রায় ২০৪০ বর্গকিলোমিটার ,যা ঢাকা নগরীর প্রায় ৭ গুণ ।

মরিশাস দ্বীপটি একটি আগ্নেয় দ্বীপ। যেটির চারপাশে প্রবালপ্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত।

এখানকার আবহাওয়া সারা বছর সুষমভাবে উষ্ণ গড়ে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও আর্দ্র থাকে, তবে মধ্যভাগে উচ্চভূমিতে তাপমাত্রা কিছুটা কম।

বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উপকূলে প্রায় ১০০০ মিলিমিটার এবং মালভূমি অঞ্চলে ৫০০০ মিলিমিটার।

ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং এই মৌসুমে প্রায়ই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হয়।

দ্বীপটির প্রধান নদীটির নাম গ্র্যান্ড রিভার, যেটি দ্বীপের জলবিদ্যুতের সিংহভাগ যোগান দেয়।

মরিশাস দ্বীপটির অভ্যন্তরভাগ অতীতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃক্ষের অরণ্যে আবৃত ছিল। এর পর এই বনগুলির সিংহভাগই কেটে ফেলার কারনে এগুলিকে চিনি উৎপাদনকারী আখের খামার দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়।

এছাড়া এখানে বাঁশের ঝাড়, নারকেল গাছ ও আবলুস গাছ দেখা যায়।

মরিশাসের অনন্য কিছু প্রাণীর মধ্যে লম্বা লেজবিশিষ্ট সম্বর হরিণ ও তেনরেক নামক একটি কাঁটালো স্তন্যপ্রায়ী প্রাণী উল্লেখযোগ্য।

পৃথিবীতে ৩টি দেশ আছে যেখানে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ তার মধ্যে একটি হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের “মরিশাস”।

দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী ২ জনই হিন্দু।

মরিশাসে অসংখ্য সুন্দর হিন্দু মন্দির, মূর্তি ও স্থাপনা বিদ্যমান।

দেশটির জনসংখ্যা: ১৪ লক্ষ, হিন্দু ৫০ শতাংশ, খ্রীষ্টান ৩০ শতাংশ, এবং মুসলিম ১৫ শতাংশ।

মরিশাসের অধিকাংশ মানুষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। মরিশাসের অধিকাংশ লোকই হিন্দি ভাষায় কথা বলে। স্বল্প কিছুসংখ্যক লোক ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলে।

মরিশাসের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ এর উর্বর মাটি। দেশের প্রায় অর্ধেক জমিতে কৃষিকাজ করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে মরিশাসের অর্থনীতিতে অর্থকরী শস্য আধিপত্য বিস্তার করে আসছে, যা হল আখ।

দেশের আবাদী জমিগুলির অর্ধেকেরও বেশীতে আখ চাষ করা হয় এবং আখ থেকে প্রস্তুতকৃত চিনি ও ঝোলাগুড় মরিশাসের প্রধান দুইটি রপ্তানি দ্রব্য।

মরিশাসকে বলা হয় ‘করের স্বর্গরাজ্য’ (ট্যাক্স হেভেন)।

এখানে কোনও কোম্পানি পত্তন করে মুনাফা করলে মুলধনী আয়ের ওপর কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স) দিতে হয় না।

নির্মল আবহাওয়া, স্বচ্ছ পানি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতির জন্যই এ দেশের লোকদের গড় আয়ু বেশি। আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে মরিশাসই একমাত্র দ্বীপ রাষ্ট্র, যে দেশের পর্যটনশিল্প যথেষ্ট উন্নত।

পর্যটন ও ব্যাংকিংয়ের মতো সেবা খাতগুলি মরিশাসের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির শ্রমশক্তির প্রায় দুই-পঞ্চমাংশেরও বেশি লোক এই দুই খাতে চাকুরি করে। সারা বিশ্বের ভ্রমন পিপাসুদের কাছে মরিশাস যেন এক টুকরো স্বর্গ।

প্রতি বছর ১০-১৫ লক্ষ পর্যটক এখানে আসে। মরিশাসের চামার নামক একটি গ্রামে সাত রঙ এর মাটি এক সাথে দেখা যায়,যা পৃথিবীর আন্য কোথাও নেই।

বহু জাতি, বহু ভাষা এবং বহু সংস্কৃতির এক দেশ মরিশাস। অতীতে ওলন্দাজ, ফরাসি এবং ব্রিটিশরা এই দ্বীপে জনবসতি গড়ে তুলেছে। ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত ছোট্ট এই দ্বীপ রাষ্ট্র অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।

আফ্রিকা মহাদেশের অধীনে থাকলেও মরিশাস যেন এক টুকরা ভারত। দ্বীপটির সাদা বালি আর নীল সাগরের সাথে মিশে আছে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি, খাদ্যাভাস এবং ধর্মীয় আচার বিশ্বাস। সারা বিশ্বের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে মরিশাস পর্যটনের স্বর্গ।

মরিশাস সরকার সমস্ত নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করে। এছাড়া ছাত্রছাত্রী, বৃদ্ধ নাগরিক ও শারীরিক

প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহনের সুব্যবস্থা আছে। ২০১৯ সালে বিশ্ব শান্তি সূচক অনুযায়ী মরিশাস আফ্রিকার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের স্বীকৃতি লাভ করে।

ভয়েস টিভি/আইএ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/60436
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ