Printed on Mon Oct 18 2021 5:12:11 PM

করোনা সচেতনতায় গণরুম কাম্য নয় : ঢাবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
মহামারি সচেতনতা
মহামারি সচেতনতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, গণরুমের বিষয়ে ‌‌‌‌‌‌`হল প্রশাসন’ একটি বিশেষ কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আগের মতো ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই যাতে হলে প্রবেশ না করে। এটি নিতান্তই স্বাস্থ্যবিধি পরিপন্থী। তাছাড়া এটি শিক্ষার্থীদের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রোববার ১০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও রোকেয়া হল পরিদর্শন শেষ করে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, কথিত গণরুম এটি কোনোভাবেই আমাদের কাম্য নয়। এ সংকট দূরীকরণে হল প্রশাসনের যে বিশেষ উদ্যোগ, সে উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা খুবই জরুরী। শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টকহোল্ডারদের ইতিবাচক ভূমিকা থাকলে আমাদের এই উদ্যোগটি সফল হবে। তবেই দীর্ঘদিনের মহামারি সংকট থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব।

সকল বর্ষের জন্য হল খুলে দেয়ার ব্যাপারে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, পর্যায়ক্রমে আজ (রবিবার) আমরা সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে তুলেছি।শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথেষ্ট স্বাস্থ্য সচেতনতাবোধ তৈরি হয়েছে। মহামারি প্রতিরোধ করতে এটি খুবই প্রয়োজন ছিল। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা জানতে পেরেছি তারা দুই ডোজ টিকাও নিয়েছে। হল প্রশাসনও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানা ও টিকা নেওয়ার ধারাটা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি থাকবে না আশা করা যায়।

আরও পড়ুন : ‘ঢাবিতে শিক্ষার্থীরা ১২ টাকায় পড়ে, ইটস অ্যামেজিং রেকর্ড’

এদিন সকাল ৮টা থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে দেখা যায়। হল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ফল, চকলেট ও মাস্ক দিয়ে বরণ করে নেয়। তবে ছেলেদের কিছু হলে এ আমেজ দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হলে উঠে যাওয়ায় আমেজ কিছুটা ভাটা পড়েছে।

কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা যায় ছেলেদের বিজয় একাত্তর হল ও মেয়েদের হলগুলোতে। সেখানে যথাযথ নিয়ম মেনে শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে তুলেছে প্রশাসন। কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থী বিজয় একাত্তর হলে উঠতে চাইলেও তাদের উঠতে দেওয়া হয়নি। আগে থেকে না জানার কারণে ভোগান্তিতেও পড়তে দেখা যায় এসব শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে, বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, আমরা শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে তুলছি। কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থী উঠতে চাইলেও আমরা ফেরত পাঠিয়েছি। আগামী ১৭ তারিখ লিগ্যাল সিট দিয়েই আমরা তাদের হলে তুলব। আপাতত কাউকে আমরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্য দিয়ে হলে তুলব না।

সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে তোলার ব্যাপারে শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল বলেন, গত সপ্তাহে আমরা অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের ছাত্রীদের হলে তুলেছি, ধারাবাহিকভাবে আজ তুলছি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীদের। হলে প্রবেশের সময় হল আইডি কার্ড ও টিকা নেয়ার প্রমাণপত্র দেখে তাদের ফুল, চকলেট ও মাস্ক দিয়ে বরণ করে নিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি, তারাও সঠিক নিয়ম মেনে চলছে। আমরা আশাবাদী যে, আমাদের সব শিক্ষার্থী সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

ভয়েস টিভি/এমএম

 
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/55395
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ