Printed on Sat Oct 16 2021 1:54:41 AM

মুদি দোকানি থেকে মানব পাচারকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ
মুদি দোকানি
মুদি দোকানি
উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভ দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নেয়ার নামে  টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। গত মঙ্গলবার রাত থেকে  রাজধানীর বাড্ডায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল ব্যক্তি সাইফুল ইসলামসহ (টুটুল) আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-৪-এর পরিচালক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, মেহেরপুরের গাংনী থানার কামন্দী গ্রামে মুদিদোকানি সাইফুল ইসলাম কয়েক বছর আগে থেকে মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসতেন। এ সময় তিনি ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ধীরে ধীরে মানব পাচারকারী একটি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মূলত এই চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন তিনি।

মো. মোজাম্মেল হক আরও বলেন, রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অনুমোদনহীন তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি—টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ খোলেন সাইফুল। তাঁর লোকেরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার, শিক্ষিত নারী-পুরুষদের উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে রাজি করাতেন। পরে তাঁদের বাড্ডায় অনুমোদনহীন ট্রাভেল এজেন্সিতে এনে সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননে টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ আদায় করেন। এরপর সাইফুল বৈধ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেটে তাঁদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাইফুলের লোকেরা পাসপোর্ট ও মুঠোফোন নিয়ে তাঁদের আরেক পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন। তাঁরা নারীদের বাসাবাড়িতে ও পুরুষদের পণ্য বিক্রির দোকানে কাজে দিয়ে দেন। মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর পাচারের শিকার নারী–পুরুষেরা বাংলাদেশে তাঁদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। অনেকেই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। ছয় বছর ধরে সাইফুল এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

র‍্যাবের পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, সাইফুলের মাধ্যমে জর্ডানে যাওয়া আসমা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সাথে সাত দিন ধরে যোগাযোগ করতে পারছে না। এ পর্যন্ত ২৫ জন ভুক্তভোগী র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা সাইফুল তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন।

ইতোপূর্বে সাইফুলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৭টি মুঠোফোন, ৭টি ফাইল, ৪টি সিল, ১০টি পাসপোর্ট, ৫টি নিবন্ধন খাতা, ৪টি ব্যাংকের চেক বই, ৩টি সিম কার্ড, ২টি কম্পিউটার এবং নগদ ১০ হাজার ৭০০ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ওরফে লিমন (৩৮), আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৪), মারুফ হাসান (৩৭), আলামিন হোসাইন (৩০), জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), মো. তৈয়ব আলী (৪৫), ও লালটু ইসলাম (২৮)।

আরও পড়ুন : গোপন নথি ফাঁস: চীনে করোনায় আক্রান্ত ছিলো ৬ লাখ

ভয়েস টিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/55732
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ