Printed on Sat Oct 16 2021 2:22:53 AM

যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্র সফর
যুক্তরাষ্ট্র সফর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন (নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১)। -পিআইডি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে অপপ্রচারের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমি শুনলাম, কেউ কেউ বলেছে, আমি নাকি কত বস্তা, না কত ট্রাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে না কি বিমানে এসেছি। যারা এই কথাগুলো বলেছে, তারা যখন এই বিষয়টা জানে, তো সেই ট্রাঙ্কগুলো গেল কোথায়, রাখলাম কোথায়, কী হল? সেই খোঁজটা তারা একটু দিক।”

২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নিউ ইয়র্কের ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন।

সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে দেড়শ সুটকেস নিয়ে সৌদি আরব চলে গিয়েছিল এবং সেখানে লকার ভাড়া করে নাকি অনেক জিনিস রেখে এসেছিল শোনা যায়। তখন সেটা প্রচার হয়েছিল।

“আর খালেদা জিয়ার মন্ত্রী বাবর (লুৎফুজ্জামান বাবর) যখন এখানে আসে, এয়াপোর্টে ধরা পড়েছিল কয়েক লক্ষ ডলার নিয়ে। পরে অ্যাম্বাসি থেকে লোক গিয়ে কোনোমতে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়েছিল।”

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “যাদের এই সমস্ত বদ অভ্যাস তারা সবাইকে, মানে নিজে চোর, সবাইকে ওই রকমই মনে করে। এটা হল তাদের চরিত্র। এই ধরনের কথা তারা ছড়ায়, মনে করে যে এটা বোধহয় খুব প্রচার করতে পারবে।

“সমালোচনাকারীরা একটা কথা ভুলে যায় যে আমি জাতির পিতার মেয়ে। আমরা দেশের জন্য কাজ করি, আর ক্ষমতাটা আমাদের কাছে দেশসেবা করা, মানুষের সেবা করা। আমরা অর্থ সম্পদের জন্য লালায়িত না।”

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তাদের সন্তানরা ক্ষমতাটাকে ভোগের জায়গা বানিয়েছে। ক্ষমতাটাকে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ার জায়গা বানিয়েছে।

“আর আমাদের কাছে ক্ষমতা হচ্ছে মানুষের ভাগ্য গড়া, বাঙালির ভাগ্য গড়া, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়া। দেশের মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।”

জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে দুদিন যাত্রা বিরতি শেষে রোববার নিউ ইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। ফিরতি যাত্রায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে এই সফরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি।

আরও পড়ুন : ইউটিউব-ফেসবুকে অপপ্রচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারি

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের ড্রিমলাইনার, সেটা নিয়েই আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। কেন এসেছি? দুটো কারণ। একটা হচ্ছে যে আমি যদি এই করোনার সময় অন্য এয়ারলাইন্সের টিকেট করি, তাহলে তাদেরকে টাকা দিতে হয়। আর আপনারা জানেন আন্তর্জাতিক রুটগুলো করোনার কারণে বন্ধ ছিল। আমাদের বিমানগুলো বসেই ছিল। আর একটা বিমান বসে থাকলে তার রক্ষণাবেক্ষণে একটা বিরাট টাকা খরচ হয়।

“সেজন্যই আমি বললাম, আমরা অন্য এয়ারলাইন্সকে টাকা না দিয়ে আমাদের বিমান নিয়ে আসব। কারণ ওরা তো দেশে বসে আছে। কাজেই আমাদের সাথে আসলো আর ঘরের টাকা ঘরেই থাকল, বিমানই পেল।”

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে নিউ ইয়র্কে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালুর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলে “আমাদের লক্ষ্য যে নিউ ইয়র্কে অন্তত আমাদের নিজেদের বিমান আসবে। সেটাও আমরা আনতে চাই। জেএফকে (জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) তে ল্যান্ডিং করার প্র্যাকটিসটাও হয়ে গেল। ভবিষ্যতে তো আসব। কাজেই তার প্র্যাকটিসটা এখানে থেকেই করে গেলাম।”

বিমানের অবস্থা এক সময়ে ‘ঝরঝরে’ ছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির আমলে বিমানের সীমাহীন দুর্নীতি ছিল। এই পর্যন্ত প্রায় ১১টা বিমান আমরা ক্রয় করেছি, আজকে আমাদের ২১টা বিমান।”

‘উন্নয়নবিরোধীরাই ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে বাংলাদেশ নিয়ে যারা বিদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়, এরা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এরা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না। এরা বাংলাদেশের সর্বনাশে বিশ্বাস করে।

“কেউ কেউ দেখি সমালোচনা করে দূর দেশে বসেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার। আমরা যখন কাজ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, আর এদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে কিভাবে খাটো করবে।”
যারা আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ বলছেন, তারা বিএনপির থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তা করছেন বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

“আওয়ামী লীগ সরকারকে আমি দেখি কেউ কেউ অবৈধ সরকার বলে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে তারা এই যে কথাগুলো বলার সুযোগটা পাচ্ছে, এই সুযোগটা কোত্থেকে পাচ্ছে? আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি বলেই তো সেই সুযোগটা পাচ্ছে। এতই যদি তাদের নীতি-আদর্শ থাকে, তাহলে আমাদের করা এই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কেন?

“আর যাদের পয়সা খেয়ে তারা করে ..আমি বিএনপির কথাই বললাম। বিএনপি, জামাত বা ৭৫ এর খুনি, এদের অর্থ দিয়েই তো এরা চলে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “উচ্চ আদালতের রায়ে আছে জিয়াউর রহমানের সরকার অবৈধ, এরশাদের সরকার অবৈধ। কারণ মার্শাল ল দিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে। আর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এতিমের টাকা মেরে খেয়ে সাজাপ্রাপ্ত, আর তার ছেলে দশ ট্রাক অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে সেই মামলায় ধরা পড়েছে, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ধরা পড়েছে, এমনকি বিদেশে শুধু আমাদের দেশে না আমেরিকার আফবিআইয়ের হাতেই তাদের দুর্নীতি ধরা।”

তিনি বলেন, “তাদের এত টাকা! বাংলাদেশের মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে তারা এত অর্থ বানিয়েছে যে এফবিআইয়ের লোক তারা হায়ার করে ফেলেছিল। যেটা এফবিআইয়ের কাছেই ধরা পড়ে। আর সেই মামলা করতে গিয়ে সেখানে ধরা পড়ে যে এই বিএনপি অর্থ দিয়েছে জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) আমেরিকায় বসে তাকে কিডন্যাপ করার,তাকে হত্যা করার। এটা আমরা জানতাম না। এই মামলা চলার পরেই সে রায়ে বেরিয়েছে তাদের নাম।

“যারা জনগণের অর্থ সম্পদ লুট করে, খুন করে অথবা অস্ত্র পাচার করার অথবা গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি, সেই আসামিদের হাতের টাকা খেয়েই তো তারা এই বড় বড় কথা বলে আর তারাই বলে আওয়ামী লীগ অবৈধ।”

জিয়াউর রহমানে র ক্ষমতা দখলকে আদালত অবৈধ বলে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তো অবৈধ সরকারের তাঁবেদারি করে আওয়ামী লীগকে বা আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ বলায় অধিকারটা তাদেরকে কে দিল?

“জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে এবং বিএনপির যদি শক্তি থাকত তাহলে তারা নির্বাচন করত।” (বিডিনিউজ)
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/54331
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ