Printed on Sun May 22 2022 1:50:27 PM

রাজধানীতে সংকট বেড়েছে গ্যাসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
রাজধানীতে
রাজধানীতে
গ্যাস সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে রাজধানীজুড়ে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলা জ্বলে না। এলাকা ভেদে কখনো কখনো দুপুর ছাড়িয়ে রাতও হয়। এমতবস্থায় বাধ্য হয়ে অনেকে এলপিজি ব্যবহার করছেন। এতে করে মাসে বাড়তি এমাউন্ট গুনতে হচ্ছে দুই হাজার টাকা। সঙ্গে দিতে হচ্ছে ৯৭৫ টাকার গ্যাস বিলও। কিন্তু কথা হল গ্যাস যদি না পাই তবে বিল দেবো কেন? এমন প্রশ্নও ছুড়ছেন তাদের কেউ কেউ। তবে এসব দেখার দায়িত্ব এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। কিন্তু কর্তাদের কাজ যেন দাম বাড়ানো পর্যন্তই। গ্রাহকের চুলার খবর তারা রাখবেন না।

দেশে দিনে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার জায়গায় ২৭ জানুয়ারি সরবরাহ হয়েছে ২৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ১২৭৪ মিলিয়ন ঘাটতি নিয়েই পার হলো দিনটি।

এদিকে গ্যাস আমদানির জন্য দুটি টার্মিনালের একটি অচল বসে আছে মুরিং ছিঁড়ে যাওয়ায়। অপরটির সরবরাহ ক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেটাও এ দিন সরবরাহ করেছে ৩৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

যেখানে দিনে ৬০০-৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আসতো সেখানে ২৭ তারিখে এসেছে ৪০০ মিলিয়ন। তাই সংকট ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের ঘাটতির কথা বললে পেট্রোবাংলার তরফ থেকে বলা হয় অনেক গ্যাস চুরি হচ্ছে। আমরা এলএনজি আনতে পারছি না। কিন্তু যে বৈধ গ্রাহকের সঙ্গে পেট্রোবাংলা এবং বিতরণ কোম্পানি চুক্তি করেছে তিনি কেন কোম্পানির ব্যর্থতার দায় নেবেন?

আরও পড়ুন : গ্যাসের সমস্যা কমানোর ঘরোয়া উপায়

কামরাঙ্গীরচর জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার রান্না নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। সিলিন্ডার ব্যবহার করছি একমাস ধরে। কারণ লাইনে আগুনই জ্বলে না। প্রতিমাসে ফাও বিল দিচ্ছি। তিতাসের কাছে তার প্রশ্ন—কেন প্রতিমাসে তার কাছ থেকে বিল নেওয়া হচ্ছে?’

তিনি আরও বলেন, সকাল ছয়টা থেকে রাত ১২টা এমনকি ১টা বাজেও গ্যাস থাকে না। মাঝে মাঝে বিকালে হালকা থাকে, তাতে পানিও গরম হয় না। সিলিন্ডার ছাড়া কোনোভাবেই চলা যাবে না।

রায়েরবাজার থেকে সোহানা আক্তার জানান, ‘একদিন ভাত রান্না করেছি দেড় ঘণ্টা ধরে। ১১টার পর গ্যাসের চাপ এত কমে যায় যে পানিও গরম করা যায় না। আড়াইটার পর চাপ কিছুটা বাড়ে।’

একই অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার আরও কয়েকজন। গোপীবাগ থেকে দর্পন বর জানান, ‘সকালে নাস্তার পরই গ্যাস চলে যায়। আসে বিকালের দিকে। তাই সকালেই দুপুরের রান্না শেষ করতে হয়।’

২৭ জানুয়ারি এমন অসংখ্য অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে এর মধ্যে শনির আখড়া, হাজারিবাগের, হাতিরপুল, চিটাগাং রোড, বসুন্ধরা, পূর্ব ও পশ্চিম রামপুরা, উলন, বনশ্রী, মহানগর প্রজেক্ট, খিলগাঁও, গোড়ান, মিরপুরের পাইকপাড়া, মিরপুর দুই, আগারগাঁও, পুরান ঢাকাসহ পুরো শহরজুড়েই গ্যাসের হাহাকার চলছে। পুরান ‌ঢাকায় সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না।

বসুন্ধরার সাদিয়া ইসলামের অভিযোগও একই। সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা আমিরুন নুজহাত বলেন, সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত টিমটিম করে জ্বলে। মোমের আলোর মতো।

মিরপুর-২ থেকে নওরিন নিশি জানান, প্রতিদিনই ১১ থেকে ২টা পর্যন্ত চাপ কম থাকে। আদাবরের নূসরাত জাহান নিশা জানান, প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার করছি। তারপরও গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না আজকাল। রামপুরার মাসুদা জলি বলেন, সকাল ৭টা থেকে ৩টা পর্যন্ত গ্যাসের দেখা পাই না। বনশ্রীর মিশু আলাম বলেন, গ্যাসের এই সমস্যার কি সমাধান হবে না? না হলে আমাদের গ্যাস বিল কম নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, ‘সামিট জানিয়েছে টার্মিনালের যে মুরিংয়ের দড়ি ছিঁড়ে গিয়েছিল তা ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। উড়োজাহাজে করে আনিয়ে সেই দড়ি মহেশখালী পাঠানো হয়েছে। এখন পানির নিচে কাজের জন্য যে ডুবুরি প্রয়োজন তাদের কয়েকজন কোভিডের জন্য এসে পৌঁছাতে পারেনি। সামিট ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আশা করছি ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন প্রায় ২৫০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি হচ্ছে। এটা পূরণ করতে গিয়েই অনেক এলাকায় চাপ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া শীতকালে আগের মতো কনডেনসেট জমেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/64809
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ