Printed on Wed Dec 01 2021 12:07:50 PM

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘সশস্ত্র ট্রেনিং সেন্টার’ : বাধা দেয়ায় ব্রাশফায়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসা। ক্যাম্পের এ মাদ্রাসায় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। ওই সন্ত্রাসী গ্রুপটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তাদের সাথে যোগ দেওয়ারও চাপ দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকির আতংকে দিন কাটছিল মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের স্বজন ও সাধারণ রোহিঙ্গারা এমনটি অভিযোগ করছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সূত্রে জানায়, রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর ক্যাম্পে অস্থিরতা চরম আকারে বিরাজ করছিল। রাত হলেই ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে। ফলে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মনের ভেতর আতংক দেখা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাতে ক্যাম্পে  মোতায়েন না থাকায় সন্ত্রাসীদের উগ্রতা খুব বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন রোহিঙ্গারা। এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে ক্যাম্পের বাসিন্দারা এ ব্যাপারে কথা বলা ও অভিযোগ করতে চাননা।

নিহত রোহিঙ্গা পরিবারের কয়েকজন স্বজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানিয়েছেন- বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত ‌‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদ্রাসা’টিতে ‘আরসা’র নামে সন্ত্রাসী গ্রুপ ট্রেনিং সেন্টার করতে মাদ্রাসা সুপারকে চাপ দিচ্ছিল। মাদ্রাসা সুপার রাজি না হওয়ায় রাতেই হামলা চালানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবীসহ ৬ জনকে হত্যা করে এবং হামলায় আহত হন ১০-১২ জন।

জানা যায়, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও হামলাকারীরা ক্যাম্পের আশপাশেই বীরবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখনো সন্ত্রাসীদের ভয়ে সাধারণ রোহিঙ্গারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তা জানাতে পারছেন না। কারণ ক্যাম্প দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সন্ত্রাসীদের হাতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু নিহত রোহিঙ্গার আরেক স্বজন অভিযোগ করেন, ‘রাতের ক্যাম্প খুব ভয়াবহ অবস্থায় পরিণত হয়। সন্ধ্যা হলেই নিয়ন্ত্রণে নেয় সন্ত্রাসী গ্রুপ। মিয়ানমারের রাখাইনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের উপর যে জোর-জুলুম, নির্যাতন করে আসছিল, সে একই কায়দায় ক্যাম্পগুলোতে এই সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করছে। তারা চায় ক্যাম্প তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকুক। সন্ধ্যা হতেই এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের বিচরণে ভয়ে রাত কাটে আমাদের।’

রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, ‘আরসা’র গ্রুপের ফজলুল কবির, খালেক, মৌলভী নুর হোছন, মৌলভী আবু বক্কর ও  ইকবালসহ অনেকেই উখিয়ার বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এই কারণেই মাদ্রাসায় সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ক্যাম্পে নিয়োজিত ১৪ নম্বর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ‘এপিবিএন’র অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. নাঈমুল হক জানান- এখন রাতে সব ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে। নিহত ৬ জনের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় এই পর্যন্ত ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার ২২ অক্টোবর ভোর ৪টার সন্ত্রাসীদের হামলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে-৫ এর বাসিন্দা হাফেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ইদ্রীস (৩২), ক্যাম্প-৯ ব্লক-১৯ এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (২৪), ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এইচ -৫২ এর নুরুল ইসলামের ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র আজিজুল হক (২২), একই ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবী আবুল হোসেনের ছেলে মো. আমীন (৩২)। ‘এফডিএমএন’ ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২ এর মোহাম্মদ নবীর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫), এফডিএমএন ক্যাম্প-২৪-এর রহিম উল্লাহর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫) নিহত হন। পুলিশ হামলাকারীদের সদস্য মুজিবুর নামের একজনকে দেশীয় লোডেড ওয়ান শ্যুটারগান, ছয় রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরিসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহতদের লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহতদের মৃতদেহ কবরস্থ করা হয়।

আরও পড়ুন : উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/56608
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ