Printed on Sat Sep 25 2021 10:11:10 AM

শিক্ষিত বেকাররা ঝুঁকছেন অনলাইন ব্যবসায়, বেশিরভাগই নারী

ইমরান হোসেন, নড়াইল
সারাদেশ
অনলাইন
অনলাইন
সোনিয়া ফেরদৌস জুঁথী নড়াইলের একটি কিন্টারগার্টেন স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন গত বছরের শুরুতে। তিন মাস পর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে তার স্বপ্নও থমকে দাড়ায়। বাসায় বসে ভাবতে থাকেন নতুন কিছু করার। সেই ভাবনা থেকে নিজের সন্তানের জন্য হ্যান্ড পেইন্টের একটি ফতুয়া তৈরি করে তাকে মডেল করেন। ‘নকশা’ নামে একটি ফেসবুক পেজে চালু করে তাতে পোস্ট করেন। পোস্টে লিখে দেন এখানে ডিজাইন করা হ্যান্ড পেইন্ট পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ফ্রগ, কামিজ ও শাড়ির অর্ডার নেয়া হয়। সেই পোস্ট দেখে খাগড়াছড়ির এক সেনা কর্মকর্তা ৩টি পাঞ্জাবির অর্ডার দেন। সেটাই অনলাইন ব্যবসায় তার প্রথম আয়। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। এবার কোরবানির ঈদে আমেরিকা, ঢাকা, নড়াইলসহ দেশের কয়েকটি জায়গা থেকে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ত্রিপিস এবং ফতুয়ার অর্ডার পেয়েছেন।

জুঁথী বলেন, ২০১৬ সালে বাংলায় মাস্টার্স পাশ করে চাকরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। পরে শিক্ষকতার ইচ্ছা থেকে নিজ উদ্যোগে শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় বেবি কেয়ার নামে একটি কিন্টারগার্টেন স্কুলের কার্যক্রম শুরু করলেও সবকিছু থমকে যায়। তারপর সাহস নিয়ে হ্যান্ড পেইন্ট-এর কাজ শুরু করি। এখানে কম-বেশি সফলতা পাচ্ছি। সম্প্রতি উইমেন ইন ই-কমার্স (উই), হস্তশিল্পসহ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্য হয়েছি। ইচ্ছা আছে নিজের বহু দূর যাওয়ার।

শহরের কুরিগ্রাম এলাকার মুক্তা খানম ২০১৪ সালে ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাস্টার্স পাশ করে চাকরিতে প্রবেশ না করে নিজেই কিছু করার চিন্তা করেন। এ কাজে কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ‘স্বপ্ন কুটির’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করে পরিত্যক্ত প্লাসিকের পানির বোতল, খবরের কাগজ, প্লাস্টিকের ফুল, চুমকি, পুথি দিয়ে ঝাড়বাতি, ফুলের শো-পিচ, কুঁড়ে ঘরসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। পরে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের কয়েকটি জেলা থেকে পাইকারি অর্ডার পান। এরপর স্থানীয় জাওয়া বাঁশ, পাট এবং ঢাকা থেকে কাঁচামাল কিনে এনে বাসায় ফুলদানি, ট্রে, ল্যাম্প পোস্ট, টিস্যু বক্স, পাটের টিস্যু ব্যাগ, পার্টি ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, ফটো ফ্রেম, পেন হোল্ডার, শাড়ি রাখার বাক্স তৈরি করে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে বিক্রি করেন।

তার কারখানায় ১৯ জন নারী কাজ করলেও করোনাপ্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এখন এসব পণ্যই অনলাইনে অন্য জেলা থেকে ক্রয় করে সেগুলো আবার বিক্রি করছেন। তিনি জানান, ই-কমার্স প্লাটফর্ম দারাজেও তার বিক্রয় শপ রয়েছে এবং ইভ্যালি থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

অনলাইন

জানা গেছে, জুঁথী ও মুক্তার মতো নড়াইলে শতাধিক ছোট ছোট উদ্যোক্তা রয়েছেন যারা ফেসবুক পেজ খুলে ইলেকট্রনিক পণ্য, কসমেটিক্স, ফ্যাশনসামগ্রী, ত্রিপিস, শাড়ি ছাড়াও মাশরুম, মধু, বিভিন্ন খাবার, আচার, মেহেদীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। যাদের ৭০ ভাগই নারী।

এ ব্যাপারে উদ্যোক্তা মুক্তা খানম জানান, অনলাইনে কুরিয়ারের চার্জ অনেক বেশি হওয়ায় ক্রেতারা পিছিয়ে যায়। তিনি প্রশাসনের কাছে কুরিয়ার চার্জ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া উদ্যোক্তাদের কাজের স্বীকৃতি, সরকারি ট্রেনিং, আর্থিক প্রণোদনা, অনুদান বা সহজশর্তে ঋণের দাবি জানান।

সুন্দরবন কুরিয়ার সেবার স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় দাস বলেন, নড়াইলে কন্টিনেন্টাল, জননী, ইউএস কুরিয়ার সার্ভিস ছাড়াও দারাজ, পাঠাও, পেপারফ্লাই, ই-কুরিয়ার, রেডেক্সসহ আরও কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক কুরয়ার সার্ভিস রয়েছে। এসব কুরিয়ার প্রতিদিন অসংখ্য অর্ডার ডেলিভারি দেন। এর একটি অংশ ফেসবুককেন্দ্রিক উদ্যোক্তার পণ্য হলেও এর প্রকৃত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেন, করোনার কারণে ফেসবুককেন্দ্রিক ব্যবসা এখন যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উদ্যোক্তরা বাড়িতে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে আমাদের কাছে সঠিক কোনো তথ্য নেই। এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ। আগামীতে ছোট ছোট এসব উদ্যোক্তদের উৎসাহ, অনুদান বা প্রণোদনা দেয়ার ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নিব।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/49632
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ