Printed on Fri Jan 21 2022 4:57:41 AM

শুধুমাত্র মুখের ব্যঙ্গ স্কেচ দিয়েই বানিয়েছেন কোটি ফ্যানবেজ

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
শুধুমাত্র
শুধুমাত্র
মিস্টার বিন,পুরো নাম রোয়ান সেবাস্টিয়ান অ্যাটকিনসন। ৬ জানুয়ারি ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলে জন্মগ্রহণ করেন, একজন ব্রিটিশ লেখক, অভিনেতা এবং কমেডিয়ান।ব্যঙ্গরচনা এবং স্কেচ শোর জন্য তিনি সুপরিচিত হয়েছেন মিস্টার বিন নামে ।মুলত মি:বিন চরিত্রে অভিনয় তাকে সাফল্যের চুড়ায় নিয়ে গেছে।টিভির পর্দায় আমরা যে হাসি খুশি তার মুখের ব্যঙ্গ স্কেচ দেখে আনন্দিত হই বা অট্ট হাসিতে লুটিয়ে পড়ি,বাস্তব জীবনে বিন হাসিখুশি হলেও খুবই চুপচাপ স্বভাবের।প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলেন না তিনি। আর কথা কম বলতে পছন্দ করেন বলেই হয়তো মি. বিন চরিত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায়।

১৯৯০ সালে মি. বিন নিয়ে টেলিভিশন পর্দায় হাজির হন রোয়ান অ্যাটকিনসন। মি. বিন মূলত ১৪ পর্বের একটি হাস্যরসাত্মক ব্রিটিশ টিভি ধারাবাহিক ছিলো। আইটিভি নামক একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এর প্রথম পর্বটি প্রচারিত হয় ১৯৯০ সালের প্রথম দিনটিতে। শেষ পর্বটির নাম হেয়ার বাই মি.বিন অব লন্ডন'। প্রথমে শুধু টিভি সিরিয়াল থাকলেও মি. বিন নিয়ে সিনেমা এমনকি কার্টুনও নির্মিত হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। টানা বিশ বছর রোয়ান এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মি. বিন ছাড়াও তিনি দ্যা ব্ল্যাক অ্যাডার এবং ফানি বিজনেসসহ বেশ কয়েকটি তুমুল জনপ্রিয় টিভি সিরিজে নিয়মিত অভিনয় করেন। কিন্তু সবগুলোকে ছাড়িয়ে যায় ‘মি. বিন’। এমনকি নিজের আসল নামটাকেও হারাতে হয় রোয়ান অ্যাটকিনসনকে। তার তালগোল পাকানো কাণ্ড-কারখানায় ভরপুর এ ব্রিটিশ কমেডি সিরিজের লেখক হলেন রবিন ড্রিসকল এবং রোয়ান অ্যাটকিনসন নিজে। ১৯৯৭ সালে ‘বিন: দ্য আলটিমেট ডিজাস্টার মুভি’ এবং ২০০৭ সালে ‘মিস্টার বিন”স হলিডে চলচ্চিত্র দুটি মুক্তি পায়। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ‘আইটিভি ওয়ান’ চ্যানেলে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ‘মিস্টার বিন’ কার্টুন প্রচারিত হয়।

মানুষ হাসানোর এই কারিগর পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলেন। প্রাথমিক পড়াশোনা করেছেন ডারহ্যামের কোরিস্টার্স স্কুলে। এরপর সেন্ট বিস স্কুলে। ১৯৭৫ সালে তিনি নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং কুইন্স কলেজ থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৫ সালে একটি সহযোগী কমেডিয়ানের ভোটে প্রথম ৫০ জন ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।২০০৬ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ফেলো ডিগ্রি অর্জন করেন।

রোয়ান যেই স্কুলে পঢ়তেন সেখানে একটি ফিল্ম সোসাইটি ছিল।যার প্রধান বিষয় ছিল হাসি ও শিশুতোষ বিষয়ক বিভিন্ন সিনেমা দেখানো। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের চোখে টেলিভিশন দেখা হয়ে ওঠেনি রোয়ান অ্যাটকিনসনের। স্কুলে যখন চার্লি চ্যাপলিন সহ আরও কমেডি অভিনেতাদের মুভিগুলো দেখতেন তখন নিজের অজান্তেই তাদের নকল করা শুরু করেন। বেকস্টেজে কাজ করা থেকে চলে আসেন মূল মঞ্চে। মঞ্চে রোয়ানের অভিনয় দেখে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে অভিনয়কে সিরিয়াসভাবে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে রিচার্ড কার্টিসের সাথে পরিচয় হয় মি. বিনের। রিচার্ড কার্টিস ছিলেন একজন নাট্যকার ও গীতিনাট্য অভিনেতা। রিচার্ড সাধারণত কমেডি চরিত্রে অভিনয় করতেন। রিচার্ড কার্টিস ও রোয়ান অ্যাটকিনসন দুজনে মিলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলেন ‘অক্সফোর্ড নাট্যশালা’।

মি. বিন তার অভিনীত মুভি ও টিভি অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনপ্রিয় হলেও শুরুর দিকে কমেডি বই লিখে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মি. বিন। ১৯৭৯ সালে তার লেখা স্কেচ কমেডি শো ‘নট দ্যা নাইট’ ও ‘ক্লোক নিউজ’ নামের বইয়ের মাধ্যমে পাঠক হৃদয়ে বেশ ভালোভাবে জায়গা করে নেন রোয়ান। বইটি এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, বেস্ট সেলিং এর তকমাটা নিজের করে নেয়। এখানেই শেষ নয়। এই বইটি ব্রিটিশ একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ও আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডও জয় করে নেয়। পরবর্তীতে এই বই থেকে টিভি কমিক অনুষ্ঠান তৈরি করা হয় এবং তাতে অভিনয় করেন তিনি নিজে। প্রথমে লেখনি দিয়ে জয় করেছেন একাধিক পুরস্কার এবার অভিনয় দিয়েও জয় করলেন একাধিক পুরস্কার। এই টিভি কমিক অনুষ্ঠানে অভিনয় করে রোয়ান অ্যাটকিনসন জয় করেন ব্রিটিশ একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ও বিবিসি বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের পুরস্কার। এই সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের সেরা কমেডিয়ান হিসেবে নির্বাচিত হন রোয়ান।

২০১২ সালের নভেম্বর রোয়ান অ্যাটকিনসন ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিন চরিত্রে আর হাজির না হওয়ার ঘোষণা দেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন এই চরিত্রটি দিনে দিনে তাকে শিশুতে রূপান্তর করে দিচ্ছে। এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য যে শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয় সেটিও আজকাল আর তিনি পাচ্ছেন না।তাছারা আরো বলেছিলেন একজন পঞ্চাশ উর্দ্ব বছরের ব্যক্তিকে শিশুসুলভ অভিনয় করাটা একেবারেই বেমানান। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সিরিয়াসধর্মী চরিত্রগুলোতেই অভিনয় করবেন।এর জন্যই মি: বিন হিসেবে তাকে আর টিভির পর্দায় হাজির হতে দেখা যায়নি।

সংসার জীবনে রোয়ান সুখীই ছিলো।১৯৯০ সালে রোয়ান একজন মেকআপ আটির্স্ট সুনেত্রাকে বিয়ে করেন।কিন্তু বিধিবাম ,২০১৫ সালের শেষের দিকে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।আগের ঘরে তাদের দুটি সন্তান ছিল। ২০১৭ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো বাবা হয়েছেন, এবার অভিনেত্রী বান্ধবী লুইস ফোর্ডের সাথে।এবছর মি: বিন অনিচ্ছাকৃত ভাবে অনলাইন প্রতারণার স্বীকার হয়েছিলো, যা তার মৃত্যুর বিষয়ে ভূয়া খবর রটিয়ে কম্পিউটার ভাইরাস এবং ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হ্যাক করার চেষ্টা করেছিল।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/62319
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ