Printed on Fri Oct 15 2021 9:44:15 PM

সবচেয়ে খাটো মানব সম্প্রদায় পিগমিই আফ্রিকার আদিম জাতি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
সারাদেশ
খাটো
খাটো
পৃথিবীর দুর্গম অঞ্চলগুলোতে কিছু উপজাতি আছে যারা তথাকথিত সভ্যতার আলোয় আসতে পারেনি। নানা জাতি বর্ণ ও সংস্কৃতির মিশ্রণে গড়ে ওঠা আফ্রিকা মহাদেশের তেমনি এক মানব সম্প্রদায় পিগমি। “পিগমি” জাতি হলো এমনই এক জনগোষ্ঠী এবং তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ও আছে। আফ্রিকার এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী পৃথিবীর সবচেয়ে খাটো মানব সম্প্রদায় হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। একই সাথে আফ্রিকা অঞ্চলের আদিমতম জাতিগোষ্ঠীও তারাই।

শিকারের অভাব বন নিধন এবং যুদ্ধভিত্তিক সহিংসতায় পিগমি সভ্যতার অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছে। তবে এখনো প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করে কঙ্গোর গভীর বনাঞ্চলে কিছু পিগমি সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। সভ্য সমাজের কাছে পিগমিরা সাধারণত নিম্নস্তরের মানব বা বন মানুষ হিসাবে পরিচিত। জঙ্গলে বসবাস করা পৃথিবীর সবচেয়ে খাটো মানব সম্প্রদায় পিগমিদের সম্পর্কে জানব আজকে আমাদের এই পর্বে।

পিগমি শব্দটি এসেছে গ্রিক থেকে যার অর্থ কনুই পর্যন্ত। সাধারনত ছোট যেকোনো কিছু বোঝাতে গ্রীক ভাষায় পিগমি শব্দটি ব্যবহার করা হয়। খর্ব দেহাকৃতি এদের অন্য উপজাতি থেকে আলাদা করেছে। এদের গড় উচ্চতা ৪ ফুট ১১ইঞ্চি। ১১ বছরের পর এদের উচ্চতা আর বাড়েনা। গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলে খাপ খাওয়ানোর জন্য এদের গড় উচ্চতা এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে আফ্রিকার এই বামুন গোত্রর মানুষ জানে না বাইরের মানুষ তাদেরকে পিগমি নামে ডাকে। এমনকি তারা পিগমি শব্দটির সাথে পরিচিত নয়।

কঙ্গো, ক্যামেরুনের জঙ্গলে পিগমিদের কয়েকটি উপজাতি বাস করে। এ ছাড়া ফিলিপাইন, আন্দামান দ্বীপে ও পাপুয়া নিউগিনিতে কিছু পিগমি উপজাতি বসবাস রয়েছে। বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে জীবিত পিগমি মানবদের সংখ্যা মাত্র এক লক্ষের কম। তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মুগতি প্রজাতির পিগমি কঙ্গোর জঙ্গলে বাস করে। পিগমিরা স্বভাবত প্রতিহিংসা পরায়ণ নয়, যুদ্ধ শব্দটি তাদের অভিধানে নেই। তারা কখনো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় না। প্রার্থনা, আনন্দ বা দুঃখ সবকিছুর তারা বিভিন্ন নাচের মাধ্যমে প্রকাশ করে। জীবনের প্রতিটি ধাপ তারা নাচ ও ধোল বাদ্যের সাথে তারা অভিবাদন করে নেয়।

পিগমি যাযাবর জাতি। তারা বনভূমিতে দলগত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। এবং স্বল্প সময়ের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে। পিগমিরা সাধারণত বুনোফল ও মধু সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করে। এছাড়া চতুষ্পদ যে কোন প্রাণী তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

প্রতিটি পিগমি দলের দলপ্রধান সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। পিগমি জীবিকার একটি অন্যতম অংশ হলো শিকার। দল প্রধান প্রতিটি স্বীকারের আগে বিভিন্ন ধরনের মন্ত্র পড়ে দেবতাদের সন্তুষ্টি ও তাদের অমঙ্গল থেকে মুক্তির আশায় প্রার্থনা করেন। পিগমি নারী-পুরুষ উভয়ই পশু শিকার অত্যন্ত দক্ষ। তারা অনেক দূর থেকেই শিকারের গন্ধ পায়। এমনকি পায়ের চিহ্ন দেখে শিকারে আকার ও বয়সও বলতে সক্ষম তারা।

বৈচিত্র্যময় নাচ ও গান হল পিগমি সম্প্রদায় অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রায় যে কোন উৎসব এমনকি প্রতিটি শিকারের আগেও পরে তারা নিত্য করে। নানা রকম ঢোলের তাল শব্দের সংগীতে আয়োজিত এই নাচে শিশু-কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবাই অংশগ্রহণ করে।

পিগমিরা অতিমাত্রায় কুসংস্কার আচ্ছন্ন। প্রতিটি দলে ওজা পদবীধারী পিগমি নেতৃত্বে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে। তাদের বিশ্বাস হলো দেবতাদের অসন্তুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন সকল কাজ তারা এড়িয়ে চলে। গবেষকদের মতে, মানব সভ্যতার প্রথম ধাপের জীবন্ত নিদর্শন হল এই সম্প্রদায়ের মানবজাতি। সভ্য সমাজের আলো না দেখা প্রতিটি ব্যক্তির জীবন যাপন ও আচার অনুষ্ঠান লক্ষ শতাব্দি পূর্বে মানব সমাজের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থেকে এই সমাজ আজ বিলুপ্তির পথে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/55468
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ