Printed on Wed May 18 2022 1:13:58 PM

সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে সাতজন খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
সাতজন খুন
সাতজন খুন
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসের গড় হিসেব মতে প্রতিদিন সারাদেশে সাতজন করে খুন হয়েছে। মোট হত্যাকাণ্ড ঘটেছে চার শর বেশি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বাসায় মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় মানুষ মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও অসহায় হয়ে পড়েছে। নৃশংস হত্যার পাশাপাশি খুনের পর লাশ গুমের ঘটনাও ঘটছে বেশি। প্রকৃত অপরাধী ধরা না পড়ায় জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ!

এত বেশি খুনের ঘটনার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক কলহ ও সমস্যা, আর্থিক লেনদেনে সমস্যা, মাদক, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ, জমিজমা দখল এবং কোথাও কোথাও রাজনৈতিক কারণে এসব হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সারা দেশে মানুষ খুন হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৯ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন করে খুন হয়েছে ওই বছর। চলতি বছরে এ পর্যন্ত এই গড় দৈনিক সাতজন হলেও এই সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা আছে বলে জানান পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

প্রতিটি খুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়। চাঞ্চল্যকর কয়েকটি ঘটনার ক্লু বেরও করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তবে একাধিক মানবাধিকার কর্মী বলেছেন, বেশির ভাগ ঘটনায় অপরাধীরা ধরা না পড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমছে না।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই খুন-খারাবি ঘটছে, তা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গাফিলতিও এ ক্ষেত্রে কিছুটা দায়ী। আছে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার ঘটনা।

খুনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে আগে থেকে গড়ে প্রতিদিন সাত থেকে আটজন খুন হচ্ছে। বর্তমানেও এ ধারা অব্যাহত আছে। তবে এখন অপরাধের ধরন কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটছে বেশি।

পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিন বছর ধরে তুচ্ছ কারণে হত্যার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা ও পারিবারিক বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে বেশি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য হলো, খুনের ঘটনায় গত বছর (২০২১) সারাদেশে ৩ হাজার ৪৫৮টি মামলা হয়েছে। ২০২০ সালে মামলা হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৫টি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২১০টির বেশি হত্যাকাণ্ডে ভুক্তভোগী লোকজন মামলা করেছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে অবশ্য খুন হয়েছিল ২৬৫ জন। আর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ২৯৭।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, এখন অপরাধের ধরন কিছু পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ কিছুটা ব্যক্তি স্বার্থে অপরাধে জড়াচ্ছে। আগে থেকে পরিকল্পনা করে সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠী কাউকে হত্যা করছে এমন ঘটনা কমই আছে। তবে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর সাহিদা গাফফারের (৭১) খুনের ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ১২ জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ১৪ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে পানিশালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পের ঝোপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের কাশিমপুর থানা পুলিশ। পরে রাজমিস্ত্রি আনারুলকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানতে পারে, টাকা ছিনিয়ে নিতে সে এই শিক্ষককে হত্যা করে।

গত ১৩ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জহিরুল ইসলাম জেসনু (২৭), মফিজুল (২৬) ও নবী হোসেন (৩০) নামে তিন তরুণকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেছেন, তারা লেগুনার মালিক ও চালক। ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

একই দিনে ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ধরে নিয়ে মো. রুবেল মিয়া নামের এক যুবককে নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচতলায় নিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, নিহত রুবেল মিয়া লালমনিরহাট জেলার একজন কৃষক ছিলেন। রুবেলের বাবা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো অপরাধী ছিল না। তাকে কেন এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। ’

পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (মিডিয়া) হায়দার আলী খান বলেন, পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে আসার পরই সচেতনতা, নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে খুনের ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ সব সময় কাজ করছে। যেকোনো খুনের ঘটনা ঘটলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

৫৩টি জেলার ৫৭ হাজার ৭০৪ জন নারী ও শিশুর ওপর জরিপ চালিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। তাতে দেখা যায়, সম্প্রতি পারিবারিক সহিংসতা গত কয়েক বছরে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।

সহিংসতা বাড়ার কারণ জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, এখন মানুষ ব্যক্তি স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অপরাধে জড়াচ্ছে বেশি। কিছু মানুষের মধ্যে হিংস্রতা কাজ করে। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে তার চাওয়াটা পূরণ করার মানসিকতা থেকেই খুনের ঘটনা ঘটে। সূত্র : কালের কণ্ঠ

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/68324
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ